আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আমরা সবাই মূলত: এক এবং একই জিনিস প্রত্যাশা করি, কিন্তু কী হবে যদি আমরা তা না হই?

ইসলাম, নীতি ও চর্চা উভয় বিবেচনায় স্বতন্ত্র (exceptional), এভাবেই এটা রাজনীতির সাথে সম্পর্ক রাখে। কেননা, আইনি ও রাষ্ট্রনীতির বাহ্যিক ভূমিকার মাধ্যমে ইসলাম প্রতিরোধ করছে― এবং করেও যাবে― সেক্যুলারিকরণকে।

সামান্য অস্বস্তির সঙ্গেই আমাকে দাবি করতে হচ্ছে, বিশেষ করে আজকাল সময়ের সাথে সাথে মুসলিমবিরোধী গোঁড়ামির উত্থান ঘটছে। কিন্তু ইসলামের স্বাতন্ত্র্যবোধ এখনও বহাল তবিয়তেই আছে, ক্ষুণ্ন হয় নি। এটা অস্তিত্বশীল একটি বিষয় এবং আমাদের প্রয়োজন বোঝা এবং এটাকে শ্রদ্ধা করা, এমনকি যদি এটা আমাদের নিজস্ব প্রত্যাশা ও পছন্দ মতো না-ও চলে, তবুও।

কেনো ইসলাম আলাদা? এ-ক্ষেত্রে দুটি কার্যকর বিষয়কে জোর দিয়েই মূল্যায়ন করা যায়―

প্রথমত: ইসলামের ‘প্রতিষ্ঠাকালীন’ অবস্থান ছিলো মহান। না, যিশুখ্রিষ্টের মতো নয়; বরং নবী মুহাম্মাদ ছিলেন একজন ধর্মতাত্ত্বিক, একজন প্রচারক, একজন যোদ্ধা এবং একজন রাজনীতিক― একাই সবকিছুর সমাহার। তিনি একজন নেতা ও নির্মাতাও ছিলেন বটে; যিনি বিনির্মাণ করেছেন নতুন রাষ্ট্র, লড়াই করে দখল নিয়েছেন এবং নতুন ভূমি ও অঞ্চলে রাষ্ট্রনেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্রিয়াকর্ম, অন্তত একজন বিশ্বাসীর কাছে কোনো দৈবাৎ/আকস্মিক বিষয় ছিলো না। তারা ছিলেন একজনের নেতৃত্বে বেণীর মতো বিনানো।

দ্বিতীয়ত: কুরআন, যা মুসলিমদের কাছে কেবল ঈশ্বরের ‘শব্দ’ নয়, বরং কুরআন হলো ঈশ্বরের সরাসরি এবং আক্ষরিক বার্তা। এটাকে ‘ঐশ্বরিক স্বত্বাধিকারের মধ্যবিন্দু’ বললে অত্যুক্তি হয়ে যাবে না। এর মানে এটা নয়, মুসলিমরা ‘অক্ষরপূজারি’ (literalists)। একেবারেই না। বরং এর মানে হলো, কুরআনের মূলপাঠকে (text) অপ্রাসঙ্গিক বলে উড়িয়ে দেয়া সহজ নয়।

অবশ্যই, মুসলিমরা এখন আর ‘প্রতিষ্ঠাকালীন’ অবস্থায় সীমাবদ্ধ নেই, কিন্তু তারা পুরোপুরি তাকে বাতিল করতে পারে না, এখনও। একটি আদর্শ বিশ্বে, আমরা প্রবলভাবে প্রত্যাশা করি, উদার মুসলিমরাই আদর্শের লড়াইয়ে জয়ী হবে। তবে এটা দেখানো কঠিন যে, কিভাবে এই প্রত্যাশা বাস্তবায়ন হবে।

যদিও ইসলাম মৌলিকভাবেই খ্রিষ্টধর্ম থেকে আলাদা, তারপরও এতে কিছু চিন্তাসূত্র এমনও আছে, যা অনুসরণ করা হলে (অথবা অনুসরণ করাই উচিত) নৈতিক উন্নয়ন এবং আলোকায়নের পথ পাওয়া যাবে।

প্রত্যেকের কাছে এর মানে এখন কী দাঁড়ালো? আসলে এর মানে হলো, পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের দরকার অস্বস্তিকর ও কঠিন কিছু করা। তাদের দরকার ‘দ্রুতই যে-কোনো সময় সেক্যুলারাইজিংয়ের অসম্ভব ফল পাবেন’ এমন প্রত্যাশায় উল্লম্ফন না করে, বরং ইসলামের গুরুত্ববহ ও বিভিন্ন পলিটিক্যাল ভূমিকা গ্রহণ করা এবং পলিসিগুলোর বিন্ন্যাস ঘটানো, সাথে মানসিকতাও; যদি এখনও করেন।

শাদি হামিদ : সিনিয়র ফেলো, ব্রুকলিন ইনস্টিটিউশন এবং ‘ইসলামিক এক্সেপশনালিজম : হাউ দ্য স্ট্রাগল ওভার ইসলাম ইজ রিশেইপিং দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্রন্থের লেখক। অনূদিত নিবন্ধটি ‘টাইম’ ম্যাগাজিন থেকে নেয়া। মূল নিবন্ধের শিরোনাম ‘হাউ ইসলাম ইজ ডিফারেন্ট ফ্রম আদার রিলিজিয়ন্স’।

উৎসঃ   time.comআওয়ার ইসলাম

Advertisements