বিশ্বখ্যাত বাণিজ্য বিষয়ক ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে লাভজনক ব্যাংক। সার্বিক বিবেচনায় এ ব্যাংক দেশের অন্যতম ‘বেস্ট পারফর্মিং কোম্পানি’।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক শতাব্দী প্রাচীন ফোর্বস ম্যাগাজিন জুলাই ২০১৬ সংখ্যায় ইসলামী ব্যাংকের উপর এক নিবন্ধে আরো প্রকাশ করে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানতঃ দু’টি ভিত্তি – তৈরি পোশাক শিল্প এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স- এর উপর নির্ভরশীল। উভয় খাতে ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।    

ম্যাগাজিনটির মতে, ইসলামী ব্যাংক উৎপাদনমূখী ও শ্রমঘন শিল্প খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং লাখ লাখ অভিবাসীর কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে প্রেরণের নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

 ইস্পাত ও বিদ্যুৎ খাতের মত বৃহৎ ও ভারী শিল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক দেশের সুষম উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে প্রতিনিধিত্বকারী অবদান রাখছে। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নেও ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে ফোর্বস তার নিবন্ধে উল্লেখ করে।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি পাঁচ বছরে ইসলামী ব্যাংকের আমানত তিনগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৭ লাখের অধিক। বৈদেশিক রেমিটেন্সের ২৭ শতাংশ এবং দেশের এসএমই খাতের ২৩ শতাংশ এককভাবে পরিচালনা করে এ ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সম্পদের পরিমান ৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা এলিডব্যাংক ইন পাকিস্তান বা এশিয়া কমার্শিয়াল ব্যাংক ইন ভিয়েতনাম-এর সম্পদের কাছাকাছি।

সাক্ষাৎকারে ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়নে ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে পরিপালনকারী ব্যাংক।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও এ ব্যাংক তামাকের মত ক্ষতিকর এবং হারাম কোনো খাতে অর্থায়ন করে না। সার আমদানিতে এ ব্যাংক অর্থায়ন করে কিন্ত তামাক চাষের জন্য যে সার আমদানী হয় তাতে বিনিয়োগ করে না এ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘সাত বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি ইসলামী ব্যাংকের সাথে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের যোগসূত্র পাননি।’

উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকগুলো যখন নন-পারফর্মিং ঋণ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও কার্যগত অদক্ষতার সমস্যায় আক্রান্ত ইসলামী ব্যাংক এগুলো থেকে মুক্ত। বিজ্ঞপ্তি

সূত্র: আরটিএনএন

Advertisements