কাশ্মীরে আন্দোলনরত বেসামরিক লোকদের ওপর ভারতীয় পুলিশ নির্বিচারে মরণঘাতী ছররা বুলেটবাহী শটগান ব্যবহার করছে বলে কাশ্মীরি ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

কাশ্মীরের যুব আন্দোলনের অন্যতম নেতা বুরহান ওয়ানিকে হত্যার প্রতিবাদে গত এক সপ্তাহ যাবৎ চলা আন্দোলনে ওই ছররা বুলেটের আঘাতে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ তাদের চোখে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে হাসপাতালগুলো জানিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে আন্দোলনকারী ও ভারতীয় পুলিশের মধ্যকার গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত এবং আরো ১,৩৬৫ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশের বিভাগীয় কমিশনার আসগার সামুন জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ৮০% লোক ছোটখাট আঘাত পেয়েছেন। যদিও ভারতের প্রবাবশালী হিন্দুস্তান টাইমস এক রিপোর্টে জানিয়েছে, শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরেই ১১০ জন লোক গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

কাশ্মীরি ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের শারিরীক ও মানসিক সর্বোচ্চ ক্ষতিসাধনের জন্য ভারতীয় পুলিশ ক্রমাগত মরণঘাতী ছররা বুলেট ব্যবহার করছে।

এসব ছররা বুলেট হাইড্রোলিক পাম্প গানের সাহায্যে ছোঁড়ার কারণে আন্দোলনকারীরা অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি জীবন পর্যন্তও হারাতে পারে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

শ্রীনগরের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল মহারাজা হরি সিং হাসপাতালের ডাক্তার সাজ্জাদ খান্দে বলেন, গত কয়েকদিনে ছররা বুলেটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ চোখ নিয়ে ১০৫ জনেরও বেশি লোক হাসপাতালে এসেছেন। এদের অনেকেই চিরকালের জন্য তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এমনটি আমি আগে কখনো দেখিনি। আহত লোকগুলো মারা না গেলেও চিরদিনের জন্য অক্ষম হয়ে পড়ছে। এই ব্যাপারটি আরো অমানবিক। তারা কাজ করতে পারবে না, জিবীকা নির্বাহ করতে ব্যর্থ হবে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে থাকবে।’

ভয়াবহ এই অস্ত্র কেন নিরীহ লোকদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে তা জানতে ভারতীয় পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisements