সম্প্রতি কালী প্রদীপ চৌধুরী নামক এক ফ্রড ১৪২ তলা ভবন নির্মাণের উছিলা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। সে দাবি করেছে, ঢাকায় নাকি তার ২২ পুরুষের জমিজমা আছে, মুসলমানরা সেগুলো দখল করে রেখেছে, সেগুলো সে ফেরত চায়। ফ্রড কালী প্রদীপের কথায় মজে প্রতিবন্ধী অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেছে- “যারা কালী প্রদীপের ২২ পুরুষের জমি দখল করেছে, তাদের অবশ্যই জমি ছেড়ে দিতে হবে” । (http://goo.gl/zgWI9e)

কি সুন্দর, কি সুন্দর, বাংলাদেশী মুসলমানরা যে কি ভুল করেছিলো যার খেসারত এখন তাদের দিতে হচ্ছে কালী প্রদীপদের ২২ পুরুষের ইচ্ছা পুরণ করে। শুধু কালী প্রদীপ একা না, ভারত থেকে এখন নিয়মিত অনেকেই আসছে, বলছে অমুক যায়গায় তার পুর্বপুরুষের বাড়ি, তমুক যায়গা তার চৌদ্দ পুরুষের বাড়ি। নচিকেতা, পার্বতী বাউল, পাউলী দাম সবাই ভারত থেকে এসে বলেছে বাংলাদেশে তাদের পুর্বপুরুষের বাড়ি নাকি মুসলমানরা দখল করে রেখেছে, তাই সেই বাড়ি তাদের ফেরত চাই।
(http://goo.gl/qkVWvK)

আমরা জানি, বঙ্গবন্ধু কিন্তু ভারতের দাবি অর্পিত সম্পত্তি আইন পাশ করে নাই। কিন্তু ২০০১ সালে ঠিকই আওয়ামী সরকার ভারতকে সন্তুষ্ট করতে অর্পিত সম্পত্তি আইন পাশ করে। ইতিমধ্যে অর্পিত আর দেবোত্তর সম্পত্তির নাম দিয়ে হিন্দুরা মুসলমানদের প্রায় ৫০ লক্ষ বিঘা জমি দাবি করেছে (http://goo.gl/I6IgQT)। হিন্দুরা যেন সহজেই মুসলমানদের জমি কেড়ে নিতে পারে, এ সুবিধার জন্য সরকার ট্রাইবুনাল পর্যন্ত করে দিয়েছে। এই তো কিছুদিন আগে সিলেটের রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের সম্পত্তি পুলিশি প্রহরায় বুঝে নিয়েছে হিন্দুরা (http://goo.gl/R1e88N)। ঐ এলাকার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৩০০ বিঘা। এছাড়া ঢাকার পুরো নীলক্ষেতকে নিজের জমি বলে দাবি করেছে এক হিন্দু। একই সাথে ঢাকাস্থ ঢাকেশ্বরী মন্দিরের চর্তুপার্শ্বে শতাধিক মুসলিম বাড়িঘর উচ্ছেদ করে মন্দির প্রশস্থ করার কাজ করছে সরকার।

ইতিহাস বলছে, ফের ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত‘ ঘটনার শুরু হয়ে গেছে। আজ থেকে ২শ’ বছর আগে চিরস্থায়ী বন্দোবস্থ করে যেমন মুসলমানদের সব সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে হিন্দুদের দিয়েছিলো ব্রিটিশ দস্যুরা, এখনও মুসলমানদের থেকে জমিজমা কেড়ে নিয়ে হিন্দুদের দিচ্ছে সরকার। অথচ মিডিয়ায় প্রকাশ হচ্ছে হিন্দুরা নাকি নির্যাতিত, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। হিন্দু নির্যাতনের কভার এটে মুসলমানদের শিকল পরানো হচ্ছে, যেন বেখবর থাকে সবাই।

লেখক: নয়ন চ্যাটার্জি

Advertisements