ঝিনাইদহে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে হত্যার সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী ইয়াছিন আরাফাত ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আবারো সাজানো বক্তব্য দিয়ে দায়িত্বহীনতার নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করলো পুলিশ।’

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারের বক্তব্য উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে বলেছেন, শিবির নেতা এনামুলকে সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি ঝিনাইদহে পুরোহিত হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। যা নির্জলা মিথ্যাচার।

মূলত শিবির নেতা এনামুল হকসহ শিবিরের আরো দুই নেতা ইবনুল ইসলাম পারভেজ ও আনিসুর রহমানকে ১৬ জুন দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ৯ নাম্বার রোডের ১১ নাম্বার বাসার ৬ তলা থেকে সাদা পোশাকদারী পুলিশ গ্রেপ্তার করে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে না তোলায় ১৭ জুন ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তাদের সন্ধান দাবি করে বিবৃতি প্রদান করা হয়। একই দাবিতে গতকাল ২১ জুন সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়। অথচ পুলিশ তাদের বেআইনিভাবে আটক রেখে আজ একজনকে হাজির করে স্বীকারোক্তির নাটক সাজাচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের জড়ানোর প্রতিবাদ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাকে (এনামুল) কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা, বৈঠকসহ যেসব বানোয়াট বক্তব্য দেয়া হয়েছে তার সাথে সত্যতার লেশমাত্র নেই। জনগণের প্রতি ওয়াদা ও পোশাকের প্রতি নূন্যতম দায়িত্ববোধ থাকলে পুলিশ সুপার এই জলজ্যান্ত মিথ্যচার করতে পারতেন না।

এতে প্রমাণ হয় গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা হয়েছে এমন মিথ্যা নাটক সাজানোর জন্যই। গ্রেপ্তারের পর বেআইনিভাবে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য নিঃসন্দেহে তার উপর নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ।’

গুম হওয়া অন্য নেতাদের সম্পর্কে জানতে প্রশ্ন রেখে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা জানতে চাই, ঢাকায় গ্রেপ্তারকৃত শিবিরের দুইজন-সহ আরো তিন নেতা কোথায়? আরো কোন নাটক সাজানোর জন্য তাদেরকে পুলিশ গুম করে রেখেছে কি?’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দীর্ঘ পথ চলায় কোন প্রকার জঙ্গিবাদের সাথে ছাত্রশিবিরের দূরতম সম্পর্ক কেউ দেখাতে পারেনি। বরং সকল মত ও পথের মানুষের প্রতি শিবির সর্বাবস্থায় সহানুভূতিশীল। কোনো বিশেষ ধর্মের ব্যক্তিকে হত্যা করে ফায়দা হাসিলের নোংরা রাজনীতিকে ছাত্রশিবির সবসময় ঘৃণার চোখে দেখে। জঙ্গিবাদ ছাত্রশিবিরের আদর্শের বিরোধী। হঠাৎ করে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে এই নিকৃষ্ট মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করবে না উল্টো পুলিশের প্রতি জনগণের ন্যূনতম আস্থার জায়গাটিও ধ্বংস করবে।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সরকারের নির্দেশে যেখানে সেখানে শিবিরকে জড়িয়ে দোষারোপের এক অপসংস্কৃতি লালন করে চলেছে পুলিশ। তার মত কিছু পুলিশের নীতিহীন অবস্থানের কারণেই বার বার ন্যায় বিচার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং খুনিরাও উৎসাহ পাচ্ছে। আমরা মনে করি, প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে না পারার ব্যর্থতা পুলিশ শিবিরের উপর চাপিয়ে দায়মুক্তির চেষ্টা করছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা অবিলম্বে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারের এই সাজানো বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃত ঝিনাইদহের আরো তিন নেতার সন্ধান ও মুক্তি দাবি করছি। তাদের নিয়ে আর কোনো নাটক ছাত্রশিবির সহ্য করবে না এবং দেশবাসীও তা দেখতে চায় না।’

সূত্র: আরটিএনএন

Advertisements