১৬ তারিখে ধরে ২১ তারিখে স্বীকারোক্তি নাটক!!

জঙ্গি নাটকের স্ক্রিপ্ট উদ্ধার- ঝিনাইদহ থেকে সরেজমিনে খোজ নিয়ে চাঞ্চল্যকর খবরঃ
পুরোহিত হত্যার পরে সিভিল ড্রেসে ঢাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গিয়েছিলো ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায়। সেখানে তারা সাধারন মানুষের কাছে জানতে চায় যে শিবির করে ভালো ছেলে এমন কে/কারা আছে, কাউকে চিনে কিনা। লোকজন কারন জিজ্ঞাসা করলে বলে মেয়ে বিয়ে দিয়ে আত্নীয়তা করবো, সেজন্যে ভালো ছেলের খোজ পেয়ে এসেছি। তারা আরো বেশকিছু বিষয় বানিয়ে বলায় এলাকার লোকজন বিষয়টি তেমন সিরিয়াসলি নেয়নি। তারা মোটামুটি চিনে এমন ৩/৪ জনের নাম বলে।

এরপরেই পুলিশ সেই শিবিরকর্মীদের খুঁজে বের করা শুরু করে। তাদের পরিবারের সবার ফোন ট্রাকিং করা হয়। তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও খোজ নেয়ার চেষ্টা করে। পরে প্রথমে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহ যাওয়ার পথে বাস থেকে নামিয়ে আটক করে শরিফ মাহমুদকে। পরে তার ফোনের কন্ট্রাক্ট লিস্ট এবং কললিস্ট ধরে এবং অন্যান্য সোর্সে খবর নিয়ে ঢাকার মোহাম্মাদপুর থেকে আটক করা হয় সাবেক এক শিবিরনেতা ও ২ শিবিরকর্মীসহ ৩ জনকে। তাদের গ্রেপ্তার না দেখিয়ে গত ৬ দিন যাবৎ করা হয় নির্যাতন এবং জিজ্ঞাসাবাদ। ৬ষ্ঠ দিনের মাথায়ও কোন জঙ্গি সম্পৃক্ততার কোন তথ্য উদ্ধার করতে না পেরে অবশেষে একজনকে ঝিনাইদহের পুরোহিত হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট করে জোরপূর্বক বানোয়াট জবানবন্দি নেয় এবং গ্রেপ্তার দেখায়। বাকি ৩ জনকে এখনও গ্রেপ্তার দেখায়নি পুলিশ।

এই স্ক্রিপ্টের নেপথ্য কাহিনী যতটুকু জানা গেছে তা হলো- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদারীপুরে পুলিশের হাতে বন্দী সন্দেহভাজন জঙ্গি ফয়জুল্লাহ ফাহিম সম্পর্কে মিডিয়ায় বক্তব্য দেন যে ফাহিম শিবিরকর্মী। মিডিয়া এবং পুলিশের মিডিয়া সেলও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে একই কথা বলে নাচতে থাকে। কিন্তু ওই দিনই এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন ফাহিম জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফাহিমের বাবার বক্তব্য প্রকাশিত হয় যাতে তিনি দাবি করেন ফাহিম শিবির-তাবলীগকে ঘৃনা করে এবং শিবিরের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এমতাবস্থায় সন্দেহভাজন জঙ্গি ফয়জুল্লাহ ফাহিমকে নিয়ে অভিযানে বের হওয়ার নামে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে পুলিশ। ফাহিমকে শিবিরের সাথে জড়ানো অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এই মিথ্যা কথাকে প্রমাণ করতে পুলিশের দরকার হয় আসল শিবির ধরে তাকে জঙ্গি হিসেবে চালান দেয়া। সরকারের পক্ষ থেকেও পুলিশকে সরাসরি নির্দেশ দেয়া হয় এটি প্রমাণ করার। এরমধ্যে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়ের খুনের সাথে জড়িত সন্দেহভাজন জঙ্গি মুকুল রানাকে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মুকুল রানার বাবাও স্পষ্ট বলেন আমার ছেলে জঙ্গি কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা আমি জানতাম না। শিবির সংশ্লিষ্টতার কোন কথাও তিনি বলেন নাই। এমতাবস্থায় দুটি নাটক ব্যর্থ হওয়ায় দরকার পরে নতুন নাটকের।

এরমধ্যে দেশে জঙ্গি দমনের নামে চলমান পুলিশি অভিযানে বেছে বেছে যেসব স্থানে গুপ্তহত্যা এবং জঙ্গি হামলা হয়েছে সেসব স্থানে চালানো হয় গণগ্রেপ্তার। আটক করা হয় অসংখ্য বিরোধী নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ এলাকার শিবিরের কয়েকজনকে ধরে টানা ৬ দিন নির্যাতন চালিয়ে গতকাল সন্ধায় একজনের জবানবন্দী নেয়ার নাটক করে তা ঢাক-ঢোল দিয়ে পিটিয়ে মিডিয়ার কাছে জানানো হয়। সামনে আরো কিছু নাটকের মঞ্চায়ন করা হবে বলে প্রাপ্ত সুত্র থেকে জানা গেছে।

কিন্তু এভাবে কি সরকার শিবিরের নামে মিথ্যাচারকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? নাকি পারবে জঙ্গি হামলা দুর করতে?? ক্রসফায়ারে হত্যা করে সুত্র ধামাচাপা দিয়ে আসল অপরাধীদের ছাড় দিয়ে মেধাবী ছাত্রদের জোর করে জঙ্গি বানিয়ে এ কোন আত্নঘাতী রাস্তা বেছে সরকার ও পুলিশ??

সূত্র: বাঁশেরকেল্লা – Basherkella

Advertisements