প্রকাশ্য দিবালোকেই ভারতের কাছে কাকুতি-মিনতি করলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলছেন, আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে যে ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সঙ্গেই থাকবে। নিশ্চয়ই তারা এমন কোনো শক্তিকে বা সরকারকে সেই প্রশ্রয় দেবে না বা সহযোগিতা করবে না যারা বাংলাদেশের মানুষের ওপর চড়াও হয়ে বসেছে।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে ভারতপন্থীদের প্রভাব বলয় বেড়েছে। সরকার ও বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতপন্থীরা। ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়লেও এ থেকে উত্তরণে কার্যকর কোনও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হচ্ছে না।

এ সময়ে বিএনপি জনগণ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে নীরব ভূমিকা পালন করে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে আসছে এবং প্রকাশ্যেই বিভিন্ন বিদেশী শক্তির কাছে কাকুতি-মিনতি করে আসছে।

সোমবারও এর ধারবাহিকতায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতবর্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশের সরকার সঠিক কাজটি করছে। তারা জঙ্গি দমনে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা আশা করি, ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সঙ্গে থাকবে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানে সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে আটক করা হলেও সরকারের তথ্যমতে, তাতে সন্দেহভাজন জঙ্গি মাত্র ১৭৯ জন।’ এই অভিযানে বিরোধী নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ সরকারের আক্রোশের শিকার বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার যেটা প্রাপ্য সেটা দেবেন না, বাড়তি আমার কাছ থেকে বারবার চাইবেন আর সে কারণেই একটি দল একটি ব্যক্তিকে বেছে নিলেন, গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করবেন। আজকের এই গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশের জন্য পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ আমাদের প্রতিবেশী দেশকে বেশিদিন সম্মানের চোখে দেখবে না।’

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

উৎসঃ   অনলাইন বাংলা

Advertisements