নগরীর সেরা কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চট্টগ্রাম কলেজ। এ কলেজ থেকে পাশ করে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এক সময়ের শিক্ষার শান্ত পরিবেশ আর অভিভাবকদের একান্ত আস্থা হারাতে বসেছে কলেজটি।

প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাসটি আজ পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসীদের আখড়ায়। কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক। আর এই আতঙ্কের নাম ছাত্রলীগ। ৩৬ বছর পর কলেজটিকে ছাত্রশিবিরের দখলমুক্ত করতে ছাত্রলীগকে সহায়তা করেছিল পুলিশ। কিন্তু সেই ছাত্রলীগ এখন পুলিশের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে কলেজে ছাত্রলীগের বিবাদমান কয়েকটি গ্রুপ। এতে যেমন আহত হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তেমনইভাবে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়ছে অভিভাবক ও কলেজ এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের মাঝেও। এই অবস্থার কারণ হিসেবে পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করছেন অভিভাবক মহল। পুলিশ প্রশাসনের ছত্রছায়ায় নিয়ন্ত্রহীণ হয়ে পড়ছে ছাত্রলীগ। সংঘর্ষে জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে চকবাজার থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বরের আগে প্রায় ৩৬বছর চট্টগ্রাম কলেজ ছিল ছাত্রশিবিরের দখলে। ২৬ডিসেম্বর কলেজের শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির। পুলিশের সহায়তায় কলেজ থেকে ছাত্রশিবিরকে হটিয়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। এরপর থেকে কলেজে আর প্রবেশ করতে পারেনি ছাত্রশিবির।

কলেজ ক্যাম্পাস দখলের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধ থাকলেও দখলের পর নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের অনুসারীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। সৃষ্টি হয় একাধিক গ্রুপ ও উপগ্রুপ। ক্যাম্পাসটি দখলের পর থেকে শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিবির আখ্যাদিয়ে নির্যাতন করে পুলিশে সোপর্দ করে ছাত্রলীগ। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে একাধিক গ্রুপ। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩০জনের মতো ছাত্রলীগ কর্মী।

শনিবার ও রোববার চট্টগ্রাম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। যা চট্টগ্রাম কলেজের বিগত ৩৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। গত দুই দিন ছাত্রলীগের সংঘর্ষের কারণে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে।

পুলিশ প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।

কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রবিন হাওলাদার শীর্ষ নিউজকে জানান, আমার প্রথম পছন্দের কলেজ ছিল চট্টগ্রাম কলেজ। ভর্তি হতে এসে গত দুই দিন যা দেখলাম তাতে আতঙ্কিত হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। পুলিশের সামনেই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে কিন্তু পুলিশ নীরব ভুমিকা পালন করে। আমাদের নিরাপত্তা দেবে কে?

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কতোয়ালী জোনের এসি আবদুর রহিম  শীর্ষ নিউজকে জানান, মাঝে মাঝে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। আমরা উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন করিম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে শিবিরের কাছ থেকে এই কলেজের দখল নিয়েছি। এখন কলেজে বহিরাগত নাসির ভাইয়ের অনুসারীরা আমাদের উপর প্রতিনিয়ত হামলা করছে। আর তাদেরকে সহায়তা করছে চকবাজার থানার ওসি আবদুল আজিজ। এখন মনে হচ্ছে এই কলেজে ছাত্রশিবির থাকলেই ভালো হতো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এতো ভোগান্তি হতোনা। এখন আর কলেজে আসতেও ইচ্ছা করে না।

সূত্র: শীর্ষনিউজ

Advertisements