এম সাখাওয়াত হোসেন

গোয়েন্দাকাহিনি কার না ভালো লাগে। বিশেষ করে কৈশোরে ও পরে যৌবনে। আমারও ভালো লাগে। এখন তো শুধু ভালোই লাগে না, রীতিমতো খোঁজখবর রাখতে ভালো লাগে। গোয়েন্দা পেশাকে বলা হয় বিশ্বের দ্বিতীয় পুরোনো পেশা। গোয়েন্দাগিরির সঙ্গে মানবসভ্যতা, রাজ্য পরিচালনা থেকে হালের রাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতি—সবই জড়িত। এই উপমহাদেশে চাণক্য বা কৌটিল্যের নাম শোনেননি বা তাঁর সম্পর্কে জানেন না এমন শিক্ষিত, অল্পবিস্তর শিক্ষিত ব্যক্তিও পাওয়া কঠিন। ভারতবর্ষের ইতিহাসমতে, মৌর্য শাসকদের সবচেয়ে বিখ্যাত দুই সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত ও অশোককে তিনি রাজ্য শাসনের যে মন্ত্র দিয়েছিলেন, তার মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি ছিল অন্যতম। তাঁর মতে, সম্রাটের রাজ্য শাসনে উজির-মন্ত্রীদের যে ভূমিকা, গুপ্তচরদের ভূমিকা তার থেকে কম নয়। সেই থেকে ভারতবর্ষের ইতিহাসে গুপ্তচরদের কাহিনি বেশ গুরুত্বসহকারে উল্লিখিত রয়েছে। চাণক্যের আবির্ভাবের কয়েক শ বছর আগে সম্ভবত ৫৫১ খ্রিষ্টপূর্বে চীনের ইতিহাসখ্যাত চিন্তাবিদ ও সমরবিদ জেনারেল সানজু একই কথা বলেছেন। কাজেই রাষ্ট্র পরিচালনায় গুপ্তচর সংগঠনের ভূমিকা ঐতিহাসিক সত্য। এ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের সাহিত্যে রয়েছে কিংবদন্তি চরিত্র।

আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনা এবং রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় রাষ্ট্রের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে গোয়েন্দা সংগঠনগুলো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকে। রাষ্ট্র যত শক্তিধর, তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও তেমন শক্তিধর হওয়ার কথা থাকলেও তেমনটি ঠিক নয়। অনেক ছোট ছোট রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংগঠনগুলো বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং করে চলেছে। উদাহরণ হিসেবে ইসরায়েলের মোসাদ, যার পূর্ণ নাম সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব কো–অর্ডিনেশন। পাকিস্তানের আইএসআই—ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন। বড় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ, রাশিয়ার কেজিবি, ব্রিটেনের এমআই-৬।

এগুলোর মধ্য সিআইএ এবং কেজিবি বিশ্বের অনেক দেশের পটপরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ছিল, যদিও এখন ঠিক সে ধরনের কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে আসছে। তবে সিআইএর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘সাফল্য’ ছিল অপারেশন সাইক্লোন পরিচালনা। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান দখল করার পর সিআইএ এই অপারেশনের মাধ্যমে সেখানে ‘জিহাদ’ পরিচালনা করে এবং সোভিয়েতদের আফগানিস্তান ত্যাগে বাধ্য করে। বর্তমানে এ দুই পরাশক্তির গুপ্তচর সংগঠন মধ্যপ্রাচ্যে লিপ্ত। বিশ্বব্যাপী এখন যে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান, সেটা কার্যত এই আফগান যুদ্ধেরই ফল। সিআইএর সদর দপ্তর ল্যাংগলে, ওয়াশিংটন থেকে পরিচালিত ওই ‘জিহাদ’ এখন তাদের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হচ্ছে, যার জের বাংলাদেশেও অনুভূত।

অনেকেই হয়তো আশ্চর্য হবেন যে বিশ্বব্যাপী জরিপে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০টি গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে আলোচিত দুই গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও কেজিবি এখন আর (এফএসবি) শীর্ষস্থানে নেই। সর্বশীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের আইএসআই, তার পরেই সিআইএ। ইসরায়েলের মোসাদ ৫ থেকে ৬ নম্বরে এবং তার নিচে ভারতের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’।

ইদানীং আমাদের দেশের গুপ্তহত্যা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিত হামলার উদ্দেশ্য যে রাষ্ট্র ও সরকারকে দুর্বল করা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় উগ্রপন্থী সংগঠন, যাকে চলতি ভাষায় ‘জঙ্গি’ বলা হচ্ছে, সে ধরনের সংস্থা। এদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আইএস ও আল-কায়েদা জড়িত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তথাকথিত ‘হোম গ্রোন’ জঙ্গিরা তেমনভাবে ধরা পড়ছে না। এরই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ সরকারের উচ্চমহল থেকে উচ্চারিত হলো ইসরায়েল ও তার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে দেশের বিশেষ রাজনৈতিক মহলের যোগসূত্রের বিষয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলো ‘মোসাদ’-এর সম্পৃক্ততা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছিল। অবশ্য ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ খণ্ডন করেছে। পরে মাননীয় মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে খণ্ডন করেছেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ‘মোসাদ’ আর ইসরায়েল নিয়ে আমাদের গণমাধ্যমে এত আলোচনা হয়েছে যে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষও মোসাদ নামক বিশ্বের অন্যতম দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার নামের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। মোসাদকে আখ্যায়িত করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত গুপ্তহত্যার মেশিন হিসেবে। ইসরায়েলি তথা ইহুদী রাষ্ট্রবাদীবিরোধী সক্রিয় নেতা অথবা ব্যক্তি, যাদের দ্বারা ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে অথবা হতে পারে—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই গুপ্তহত্যার পথ বেছে নেওয়া হয়। খুব অল্প সময়ে মোসাদ তাদের বিস্তৃতি বিশ্বে ছড়িয়েছে।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে মোসাদেরপরোক্ষ যোগাযোগের কথা জানা যায়, তবে একত্রে কোনো অপারেশনে তারা যুক্ত ছিল বা আছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায় না। তবে মোসাদের সঙ্গে ভারতের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহযোগিতার ক্ষেত্র সংস্থাটির জন্মলগ্ন ১৯৬৮ সালে সেই ইন্দিরা গান্ধীর সময় থেকেই। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ‘র’-এর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ থেকে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মোসাদ জড়িত ছিল।

মোসাদের জন্ম ডিসেম্বর ১৩, ১৯৪৮ সালে; ইসরায়েলের কথিত প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বেন গোরিয়নের হাতে। ডেভিড বেন গোরিয়ন ছিল জায়নবাদের কট্টর হোতা এবং ইসরায়েলে হিব্রু ভাষার প্রবর্তক। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে পোলিশ ইহুদি ডেভিড গোরিয়নতৎকালীন উসমানীয় শহর জেরুজালেমে ১৯০৬ সাল থেকে বসবাস শুরু করেন। ১৯৪৮ সালে বেন গোরিয়ন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুভেন সিলোহাকে প্রথম পরিচালক পদে নিযুক্ত করে মোসাদ গড়ে তোলার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। রুভেন সিলোহা ১৯৪৮ সালে ‘আরব লিগ’-এর সম্মিলিত ইসরায়েল আক্রমণের পরিকল্পনা হস্তগত করতে সক্ষম হন, যা ওই সময়ে ইসরায়েল রাষ্ট্রটিকে জন্মলগ্নের প্রথম ধাক্কা থেকে রক্ষা করেছিল। সেই ধাক্কা সামলানোর পর ইসরায়েল যেমন টিকে গিয়েছিল, তেমনি রুভেন সিলোহার হাতে মোসাদ ক্রমেই সংগঠিত হতে শক্তি সঞ্চয় করল। মোসাদের ওপর প্রাথমিক যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তা হচ্ছে, যেসব দেশ ‘আলিহা’তে বিশ্বাসী নয়, সেসব দেশ থেকে ইহুদিদের ইসরায়েলে নিয়ে আসা এবং বিশ্বব্যাপী ইহুদিদের ও জায়নবাদীদের রক্ষার মাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিরোধীদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া। হিব্রু শব্দ ‘আলিহা’র অর্থ হচ্ছে বিশ্বে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের ‘প্রমিজড় ল্যান্ড’ ইসরায়েলে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা।

মোসাদ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায় ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনা থেকে নাৎসি তথা জার্মানি হিটলারের গণহত্যার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যাডলফ আইখম্যানকে অপহরণ করে ইসরায়েলে নিয়ে আসা এবং বিচারের মুখোমুখি করানোর পর থেকে। শান্তিকালীন ওই ধরনের অভিযান ছিল অবিশ্বাস্য, যা আজও গোয়েন্দাকাহিনির অন্যতম শীর্ষ অভিযান। এরপর উগান্ডার এন্টেবি বিমানবন্দর থেকে জিম্মি উদ্ধার এবং ১৯৭২ সালে ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর নামক পিএলওর কমান্ডো দ্বারা মিউনিখ অলিম্পিকে যোগদানকারী ১১ জন ক্রীড়াবিদকে হত্যার প্রতিশোধে ওই কর্মকাণ্ডে জড়িত একজন বাদে সবাইকে বিভিন্ন দেশে গিয়ে গুপ্তহত্যা করা। এর মধ্যে একজন ভুলবশত হত্যার শিকার হন। হালে হামাস নেতাদের কয়েকজনকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মোসাদের বিরুদ্ধে।

উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে ভারত ছাড়াও নেপাল আর শ্রীলঙ্কায় ইসরায়েলের দূতাবাস রয়েছে। ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক ১৯৫০ সাল থেকে। ওই সময়ে নেহরুর সরকার বর্তমানের মুম্বাইতে ইসরায়েলকে ভারতীয় ইহুদিদের স্বেচ্ছায় ইসরায়েলে স্থানান্তরিত হতে সম্মতি দিয়ে অফিস খোলার অনুমিত দিয়েছিল। ক্রমেই ওই অফিসটি কনস্যুলেটে পরিণত হয়। পরে ইন্দিরা গান্ধীর সময় থেকে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ১৯৯২ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং ‘র’ আর মোসাদ সম্পর্ক অটুট থেকে যায়। এ সম্পর্ক পাকিস্তানের গতিবিধির ওপরে নজর রাখা। এরপর থেকে বহু বিষয়েই এই দুই গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাত্র বছর খানেক বা তারও কম সময়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তেল আবিব সফর করে সামরিক খাতসহ অন্যান্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেছেন। খুব শিগগির ভারতীয় রাষ্ট্রপতির ইসরায়েল সফরের কথা রয়েছে এবং এর পরপরই এ বছরের মধ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও ইসরায়েল সফরের কথা রয়েছে। তথ্যমতে, ইসরায়েল ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে উচ্চ প্রযুক্তির সরঞ্জাম সরবরাহের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। তা ছাড়া বেসামরিক খাতে দুই দেশের প্রায় ৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছিল বিগত বছরে।

ভারত ও ইসরায়েল সম্পর্কের কিছুটা ছেদ পড়েছিল ১৯৭৮ সালে মোরারজি দেশাই সরকারের সময়। যখন মোরারজি দেশাই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে দায়ানকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের আণবিক অস্ত্র তৈরির কেন্দ্র কোহুটাতে আক্রমণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। বোম্বের ওই বৈঠকে ইসরায়েল ভারতের বিমানঘাঁটি থেকে রিফিউলিংয়ের অনুরোধ জানিয়েছিল। বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। মোরারজি দেশাই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হককে কোহুটাতেভারতের নজরদারির কথা এবং এই প্রকল্প নিয়ে যে ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে তা–ও জানিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তান ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছিল যে পারমাণবিক অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। এ বিষয় এখন বহুল চর্চিত। মোসাদ তথা ইসরায়েলের এখনো আশঙ্কা যে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র আইএস অথবা আল-কায়েদার হাতে পড়লে তা হবে ইসরায়েলের জন্য বিশাল হুমকি। একই ভয় ভারতেরও।

শুধু ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেই নয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গেও মোসাদের কিছু কার্যকর সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়। আইএসআই-মোসাদ যোগাযোগ বাড়ে আফগান যুদ্ধের সময় অপারেশন সাইক্লোনের প্রেক্ষাপটে। তথ্যে প্রকাশ যে ওই সময় মোসাদ সিআইএ যুক্ত অপারেশনে পাকিস্তানের মাধ্যমে আফগান মুজাহিদদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। পাকিস্তান এসব তথ্য নাকচ করেনি, তবে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে কিছু প্রযুক্তি ও অস্ত্র সরবরাহের খবরটি ওই সময়ে তারা নাকচ করেছিল। তা ছাড়া বেনজির ভুট্টোর প্রথম দফায় তৎকালীন সামরিক অপারেশন-প্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের কথা জানা যায়। পারভেজ মোশাররফ প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ওয়াশিংটনে ইহুদি সংগঠন বা থিঙ্কট্যাংক জিউস কংগ্রেসে ২০০৫ সালে প্রথম পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বক্তৃতার পর ধারণা করা হয়েছিল যে পাকিস্তান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের দোরগোড়ায়, কিন্তু তেমনটা না হলেও তথ্যমতে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এ সবই অবিশ্বাস্য যোগাযোগ, কিন্তু এমনই গোয়েন্দা সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার নাটকীয় বাস্তবতা। কাজেই আমাদের দেশের অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁদের মতো করে অনেক বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের লোকজন যখন হালের গুপ্তহত্যার সঙ্গে ‘মোসাদ’ তথা ইসরায়েল জড়িত থাকার মন্তব্য করেন; তখন সাধারণ মানুষ হয়তো সেসব কথা বিশ্বাস করতে চাইবে। বাস্তবে মোসাদ উপমহাদেশে উপস্থিত থাকলেও তাদের উদ্দেশ্যের বাইরে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। তা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অতি গভীর সম্পর্কের কারণেও মোসাদ বাংলাদেশে নাশকতার মাধ্যমে বর্তমান সরকার তথা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে দেবে, তেমনটা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মনে হয় না। গোয়েন্দাকাহিনি আর বাস্তবতার মাঝে প্রচুর তফাত।

এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷

Advertisements