বাংলাদেশী হিন্দুরা নরেন্দ্র মোদি ও ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন..!
বার্তা সংস্থা পিটিআই এমন একটি রিপোর্ট ছাপিয়েছে। সেখানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবী করেছেন,

” — মৌলবাদী ও জামায়াতিরা বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের মূলোৎপাটনের চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশ হিসেবে ভারত এক্ষেত্রে কিছু করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আমাদের বড় আশা রয়েছে। তার উচিত এ বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুলে ধরে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা….”

এখানে প্রশ্ন দুটি প্রশ্ন করা যায়। (১) রানা দাশ গুপ্ত এমন তথ্য কোথায় পেলেন যে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড গুলি জামায়ত করেছে ! এরকম সুনিদিষ্ট প্রমান থাকলে তিনি তা কেন উপস্থাপন করলেন না?
(২)  বাংলাদেশ একটি স্বাধীন স্বাবভৌম রাষ্ট্র।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে রাষ্ট্রের উপর ভরসা না করে কেন ভিনদেশের সহযোগীতা চাইছেন? তারা কি শেখ হাসিনার সরকারকে অবিশ্বাস করেন বা আওয়ামী সরকারের উপর আস্থা হারিয়েছেন? যদি তাই হয় তবে তারা কেন নাগরিকত্ব পরিহার করে ইনডিয়া চলে যাচ্ছেন না?
রানা দাশ গুপ্ত দাবী করেছেন, বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হতে দিয়ে স্থিতিশীল ভারত উপমহাদেশ অর্জন করা কখনও সম্ভব হবে না…।

রানা দাশ একই সংগে আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একজন প্রসিকিউটর। সরকারের প্রভাবশালী হবার পরে ও কেন তিনি বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার উপর আস্থা হারালেন সেটা একটি বিরাট প্রশ্ন বটে। তিনি বাংলাদেশের বদলে ভারতের স্বাথের জন্য এত টেনশন কেন করেছেন সেটিও একটি প্রশ্নের বিষয়। তাদের মত অনেক হিন্দু নেতারাই কি তবে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত কে বেশি ভালোবেসে ফেলেছেন?

আওয়ামী গর্ভামেন্ট টিকে আছেন হিন্দুস্থানের সহযোগীতা নিয়ে, এমন একটি অভিযোগ বহুবার করেছেন বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীরা।  এই কথার ভিত্তি আরো মজবুত করল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন ও হিন্দুস্তান টাইমসে গুরুত্বসহ প্রকাশ হওয়া এই নিউজটি।

এফডিসির সাবেক এমডি পিযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় পিটিআইকে বলেছেন, বাংলাদেশের ওপর ভারত চাপ সৃষ্টি না করলে মৌলবাদীদের থামানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে ভারত একটি বড় শক্তিধর দেশ। প্রতিবেশী দেশে যখন হিন্দুদের নৃশংসভাবে জবাই করা হয় ভারত তখন অলস বসে থাকতে পারে না।

কি সাংঘাতিক ভাবে পিযুষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তা দেখে প্রতিটি বাংলাদেশিদের বিস্মিত হবার কথা।
আমি জানিনা এরকম একটি নিউজ প্রকাশ হবার পরে সরকার কি ভাবছে। যদিও সরকারের মন্ত্রী ইনু বলেছেন,প্রকৃতপক্ষে এর জন্য দায়ী মৌলবাদী ও জামায়াত চক্র।…

কিন্তু হিন্দুদের উপর যা দুয়েক জায়গায় ভিটে মাটি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার একটিও কি কোন জামায়াত বা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে এমন প্রমাণ ইনু সাহেব দিতে পারবেন? বরং পত্রিকায় এরকম হাজারটা নিউজ এসেছে যে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নেতা বা সমর্থকদের অনেকেই হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করেছেন।

বাংলাদেশের সকল নাগরিক চলমান ধারাবাহিক  হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার দাবী করে আসছে। যদিও এই ব্যাপারে সরকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা পরিচ্ছন্ন নয়। তারপরেও আমরা বাংলাদেশের প্রতি আস্থা রাখতেই পছন্দ করি। অন্যধর্মের নেতাদেরকেও সেটাই করা উচিত বলে মনে করি।

এম এম ওবায়দুর রহমান
লেখক: কলামিষ্ট , প্রকৌশলী
Advertisements