স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এজন্য ‘ল্যান্ড অ্যাকুইজশন অ্যান্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফর ইমপ্লিমেন্টেশন অব গজারিয়া ৩৫০ (+-১০%) মেগাওয়ার্ট কোল ফায়ার্ড থারমাল পাওয়ার প্লান্ট’ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের ষোলআনী ও দৌলতপুর মৌজায় ৩৫০ একর ভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য নির্বাচিত স্থানটি মেঘনার তীরে অবস্থিত।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক কর‌্যক্রম হিসেবে এই ৩৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রকল্পটির আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন, ভূমি রক্ষার জন্য চারিদিকে বাঁধ নির্মাণ ও সুরক্ষা, বৈদ্যুতিক সুবিধাদি স্থাপন এবং ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের পুনর্বাসন কাজ করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বাংলামেইলকে বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠানো হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৪৫৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০১৮ মেয়াদকালে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) বাস্তবায়ন করবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২০ সালের মধ্যে ১২ হাজার ৫৫৮ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ।

‘ল্যান্ড অ্যাকুইজশন অ্যান্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফর ইমপ্লিমেন্টেশন অব গজারিয়া ৩৫০ (+-১০%) মেগাওয়ার্ট কোল ফায়ার্ড থারমাল পাওয়ার প্লান্ট’ প্রকল্পটি মাধ্যমে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হবে। তাই প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য জুয়েনা আজিজ।

গত বছরের ডিসেম্বরে ফসলি জমিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। সেবছরেরই ৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কথা হয়। গজারিয়া উপজেলা ষোলআনী ও দৌলতপুর গ্রামে ৩৫০ একর তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা ভূমি অফিস।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের অদূরে বাগেরহাটের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচনা চলছে। চলতি বাজেট অধিবেশন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী স্বীকার করেছেন এই প্রকল্পের পরিবেশ ছাড়পত্র পায়নি। যদিও ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে বালু ভরাটের মাধ্যমে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে আবাদি জমিতে বেসরকারি একটি বিদ্যুৎপ্রকল্প নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসী সঙ্গে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে কমপক্ষে চার জন নিহত হয়েছে। এখনো ধরপাকড় চলছে। এই প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের নথিপত্র নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

Advertisements