‘ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ক’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২১০০টির মতো ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলেও ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কোনো ব্যাংক বন্ধ বা দেউলিয়া হয়নি। বরং এই ধারার ব্যাংকিংয়ের উত্তরোত্তর সাফল্যের কারণেই দিন দিন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

বক্তারা জানান, প্রচলিত অনেক ব্যাংক সুদভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে আসার চেষ্টা করছে। এমনকি অমুসলিমদের মধ্যেও ইসলামী ধারার ব্যাংকিং গ্রহণযোগ্য হচ্ছে।

গতকাল শনিবার বিজিএমইএ ভবনের এক্সিম ব্যাংক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমি মিলনায়তনে ইসলামী ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ’ (সিএসবিআইবি) ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

সভায় শরিয়াহ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম আযীযুল হক বলেন, ‘আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে কখনো কখনো ভুলত্রুটি হয়ে যায়। শরিয়াহ বোর্ড এটা শোধরানোর জন্যই গঠন করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া বলেন, ‘বর্তমানে দেশে আটটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং করছে। এ ছাড়া আরো আটটি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে রেখেছে।’

হায়দার আলী মিয়া আরো বলেন, বাস্তবভিত্তিক ব্যাংকিং এবং যথাযথ নিয়ম মেনে ঝুঁকি মোকাবিলা করার কারণে টেকসই ব্যাংকিং হিসেবে ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর সাফল্য দেখে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এ আগ্রহ শুধু মুসলিমপ্রধান দেশে হচ্ছে তা নয়, অমুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রেও ইসলামী ব্যাংক গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, সমাজ উন্নয়ন ও মানবতার সেবাই ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিংয়ের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে হায়দার আলী মিয়া বলেন, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ১৫ হাজার ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতের পরিমাণ ২২০০ কোটি ডলার। আর প্রতিবছর এসব প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ২৬ শতাংশ করে।

গত মাসে রাশিয়াতে একটি ইসলামী ব্যাংক খোলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এ কিউ এম ছফিউল্লাহ আরিফ বলেন, কোরআন ইসলামী অর্থনীতির কথাই বলেছে, যা কেবল মানবজাতির কল্যাণ বয়ে আনবে। আজ তা হালের অর্থনীতিবিদরা পর্যন্ত স্বীকার করে নিয়েছেন। বহু ব্যাংক এখন প্রচলিত ব্যাংকিং পদ্ধতি থেকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য আবেদন করছে ইসলামী অর্থনীতির সুফল দেখে।

ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, ‘ইসলাম তো একসময় বিশ্বজুড়ে ঠিকই রাজত্ব করেছে, কিন্তু মুসলমানদের স্থবিরতার কারণে অন্য মতবাদ এখন তার স্থান দখল করে নিয়েছে। এ জন্য আজ আমাদের নতুন করে ইসলামী অর্থনীতির কথা শুনতে হচ্ছে। নয়তো এই অর্থনীতির শুরু রাসুলের যুগ থেকেই। সুতরাং যদি শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন অর্থনীতির দিকে আসতে হয়, তাহলে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের দিকে আসতে হবে।’

সূত্র: আরটিএনএন

Advertisements