ইসরায়েলের সাথে ভারতের সম্পর্কঃ বাংলাদেশে আইএসআইএস প্রমান করার জন্য এই অঞ্চলে মোসাদের সহযোগী হিসেবে “র” – দ্বিতীয় পর্ব
[ এয়ারটেলের মাধ্যমে মোসাদের গুপ্তচরবৃত্তি]


সম্প্রতি মোসাদের কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরু হয়ে গিয়েছে বলে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে প্রশাসন সবাই এক বাক্য স্বীকার করে নিয়েছেন। কিন্তু তারা এটা হয়ত বুঝতে পারছে না বা স্বীকার করতে চাইছে না এই মোসাদের সবচেয়ে ঘনিস্ট কে বা কারা ! এই নিয়ে আমি ধারাবাহিক ভাবে পোস্ট দিয়ে প্রমাণ করেছি এবং করব ভারতের সাথে ইসরায়েলের সাথে রয়েছে অনেক ঘনিস্ট সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে মোসাদের হয়ে কার্যক্রম গুলো পরিচালনা করছে “র”।

সেই পরিক্রমায় আজকে দ্বিতীয় পোস্ট।
প্রথম পর্ব – http://www.animeshraiarko.com/2016/05/blog-post_33.html


আপনার অতি প্রিয় এয়ারটেল সিম আপনার অজান্তেই আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য (আলাপচারিতা/এসএমএস/আপনার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নং ইত্যাদি) বিক্রি(পাচার) করছে ! ভয়ংকর সত্য হচ্ছে, এমন গোয়েন্দাগিরি বাংলাদেশে হচ্ছে কিনা তার কোন সংবাদ না পাওয়া গেলেও ভারতে দিব্যি হচ্ছে এবং তা হচ্ছে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে। ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এই নিয়ে একটা প্রতিবেদন দেয়, থ্রিজি ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে যারা ইন্টারনেটে যুক্ত হচ্ছেন, তাদের অজান্তেই একটি প্রোগ্রাম ব্রাউজারে প্রবেশ করিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

২০১৫ সাল।

ব্যাঙ্গালোরের একজন প্রোগ্রামার, নাম থেজেশ। সে একদিন কাজ করার সময় হটাৎ করে তার পিসির কিছু উল্টাপাল্টা আচরন লক্ষ্য করে। একজন সাধারন পিসি ব্যাবহারকারী এবং একজন প্রোগ্রামার কিন্তু এক বিষয় নয়। তখন সে অনুসন্ধান করে ধরতে পারে এয়ারটেলের মাধ্যমে তার সকল তথ্য ইসরায়েল পাচার হচ্ছে।

সে আবিস্কার করে এয়ারটেল সিক্রেটলি ইউজারের পিসিতে স্ক্রিপ্ট ইঞ্জেক্ট করছে। সেই কোড পরে ইউজারের ব্রাউসিং সেশনে একটা আলাদা টুলবার যোগ করার চেস্টা করছে। এরপর সে ইসরায়েলি কোম্পানি ফ্ল্যাশ নেটওয়ার্ক লিমিটেড থেকে একটা শাসানিমূলক নোটিশ পায়।

থেজেশ তখন সেই প্রোগ্রামের সোর্স কোড গিটহাবে পোস্ট করে। কিন্তু ফ্ল্যাশ নেটওয়ার্কের কোড গিটহাবে প্রকাশ করার দায়ে থেজেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইনের অধীনে ডিএমসিএ নোটিশ পাঠায় সেই ইসরায়েলি কোম্পানি। গিটহাব হোলও একটি সোর্স কোড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যারা ওয়েব বেইজড গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস সরবরাহ করে। এর সদর দপ্তর ইউএসএ তে। নোটিশ পাঠানোর পর থেজেশ গিটহাব থেকে কোডটি সরিয়ে ফেলে।

থেজেশ ব্যাপারটি ধরতে পেরে টুইটারে বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরে। আমি কিছু ছবি দিলাম, আপনারাও দেখুন, খুব ভালো প্রোগ্রামার বা কোডিং সম্পর্কে এক্সপার্ট ছাড়া বিষয়টা কেউ ধরতেই পারবে না।

পরবর্তীতে থেজেশ আরও যাচাই বাছাই করে জানায়, এই কাজে এয়ারটেলের সাথে যুক্ত আছে টেলিকম সামগ্রী নির্মাতা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এরিকসন এবং ভোদাফোন। এরিকসনও ইসরায়েলের ফ্ল্যাশ নেটওয়ার্ক নামের সেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকের ব্রাউজারে এই প্রোগ্রাম যুক্ত করার কাজটি করছে। আর এসব কিছুই হচ্ছে গ্রাহকের অগোচরে।

তবে খবরটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারতীয় এয়ারটেল। বিবৃতিতে গ্রাহকের ব্রাউজারে প্রোগ্রামিং কোড যুক্ত করার কথা স্বীকার করলেও অবৈধভাবে কারও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে কাজটি করা হয়নি বলেও জানানো হয়।

বিস্তারিতঃ
http://goo.gl/u3ga02;
http://goo.gl/6PCsXO

প্রথম কমেন্টের ছবি দুটো দেখুন। থেজেশের আবিষ্কৃত সেই স্ক্রিপ্ট এর ছবি যা সে তার টুইটার একাউন্টে দেয়।


সুতরাং আপনারা বুঝতেই পারছেন খোদ ভারতেই যদি ইসরায়েল এয়ারটেলের মাধ্যমে “এসপিওনাজ” তৎপরতা চালাতে পারে সেক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক বাংলাদেশে ওয়ারিদ থেকে এয়ারটেলে রুপান্তর করা ভারতীয় কোম্পানি আপনার সকল তথ্য ইসরায়েলে পাচার করবে না বা করছে না কে এর নিশ্চয়তা দিবে ?

প্রসঙ্গত, এই ভারতী এয়ারটেল যখন ওয়ারিদ থেকে রুপান্তর হচ্ছিল তখন তারা তাদের শেয়ারের দাম কম দেখিয়ে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের নেপথ্য সহায়তায় ৭৭ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়।

সুত্রঃ http://goo.gl/Q6gTRL


ভাবতে অবাক লাগে যখন দেখি ভারতের সাথে ইসরায়েলের এত মাখামাখি থাকার পরও কি এক অজানা কারনে ইসরায়েলের সাথে বন্ধু হিসেবে পাকিদের নাম আসে। অথচ পাকিস্তান ও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের মত ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়নি। সেদিন দেখলাম কিছু বলদ (র’ এর পালিত কিছু হা-ভাতে) পাকিস্তানের দুতাবাস ঘেরাও করতে গিয়েছে। মুলত, এই ঘটনাই প্রমাণ করে “র” নিজেও শঙ্কিত তাদের পরিচয় এবং ভুমিকা ফাঁসের ব্যাপারে। না হলে বলা নেই কওয়া নেই হটাৎ করে কোন কিছু প্রমাণ হবার আগেই পাকিস্তানী দূতাবাস তারা ঘেরাওয়ের প্ল্যান দিত না।

সেদিন ও বললাম, চোরের মন সবসময় পুলিশ পুলিশ।

জানি সরকারের ভিতরের “র” এর লিভার গুলো খুবই সক্রিয় যেন কোনভাবেই যে গুটিকয়েক দেশ প্রেমিক প্রথমসারির কর্মকর্তা আছে তারা যেন প্রকৃত অবস্থা আঁচ করতে না পারে। তাই দরকার এখন সবার একতা, সবাই এই সব বিষয়গুলো নিয়ে পড়ুন, জানুন, লিখালিখি করুন। হয়ত একদিন সবকিছু জাগ্রত হবে।

এয়ারটেল ব্যাবহারের ক্ষেত্রে আমার সাজেশন হোলও আপনারা অচিরেই এই সিম বন্ধ করে দিবেন। বন্ধ না করলে অন্তত এটা দিয়ে ইন্টারনেট ব্যাবহার বন্ধ করে দিবেন।

আর যারা প্রোগ্রামার আছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের গর্ব রোটেটিং রটোরের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, এই বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখার জন্য।

ধন্যবাদ, ধন্যবাদ সবাইকে ।

লেখক: অনিমেষ রায়

Advertisements