নিজের সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করেননি বলে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন লেখক ও বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। এই পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করাকে অবৈধ বলে অভিহীত করে তিনি এর বিরুদ্ধে মামলা করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি যারা একসঙ্গে মামলার বাদী হতে আগ্রহী, তাদেরকেও তার ফেসবুক ইনবক্সে আগ্রহ প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার ফেসবুকে এক পোস্টে ফরহাদ মজহার লিখেন, “প্রিয় বন্ধুরা, আমাকে যারা ফোনে পাচ্ছেন না, চিন্তিত হবেন না।আমি সিম নিবন্ধন করি নি।তবে আশা করি আমাকে স্কাইপ ও অন্যান্য নেটওয়ার্কে পাবেন। জতীয় পরিচয় পত্রের সুবাদে সরকারের কাছে আমাদের সকলেরই বায়োমেট্রিক তথ্য আছে। জরুরী কোনো দরকার হলে ল্যান্ড ফোনে ধরবেন। নম্বর জানা না থাকলে ইনবক্সে জানাবেন, বলে দেবো।”

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রিরেজিস্ট্রেশনের শুরুর সময় থেকেই এ পদ্ধতির বিরোধীতা করে আসছেন ফরহাদ মজহার। যারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং গণ প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাদের সমর্থন জানিয়েও ফেসবুকে পোস্ট প্রকাশ করেন। একে পাতানো জাল হিসেবে অভিহীত করে মানবিক অধিকারের জন্য লড়াই করার আহ্বানও জানান তিনি।

সবশেষ রোববারের পোস্টে তিনি লিখেন, “মোবাইল কম্পানির বায়োমেট্রিক তথ্য চাওয়া বে-আইনী, সন্দেহজনক এবং বিপজ্জনক।বেআইনি, কারণ প্রাইভেট কোম্পানি এভাবে নাগরিকদের ডাটাবেইজ তৈরী করবে তার অনুমতি সরকার কোন আইনে দিয়েছে তা আমার জানা নাই।”

“দ্বিতীয়ত তথ্য সুরক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কি সেটাও আমার জানা নাই।আমার উকিল ব্যারিস্টার বন্ধু কারো জানা থাকলে আমাদের জানাবেন।”

এর বিরুদ্ধে মামলা করার ইঙ্গিত দিয়ে ফরহাদ মজহার লিখেন, “কোম্পানি আমাদের সিম বন্ধ করে যদি অবৈধ কাজ করে থাকে এবং এর জন্য যে প্রভূত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন আমরা হয়েছি তার জন্য মামলা করা উচিত কি? আমি মনে করি অবশ্যই এর একটা বিহিত দরকার। মামলা করা সম্ভব কিনা বন্ধু বিজ্ঞ আইনজীবীরা জানাবেন।”

“এই রকম মামলায় কারা একসঙ্গে বাদী হতে চান তাঁরা ইনবক্সে আমাকে জানাবেন। আমরা বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করবো।”

“প্রাইভেট কোম্পানির সিম নিবন্ধন ও ডাটাবেইজ তৈরি সন্দেহজনক ও বিপজ্জনক। কারণ মোবাইল কম্পানি এই ডাটাবেইজ নিয়ে কার সঙ্গে কী ব্যবসা করবে সেটা খুবই সন্দেহের। বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে অপরাধ বা সন্ত্রাস দমন হয়েছে তার কোনো প্রমাণ ভূমণ্ডলে নাই। এই ডাটাবেইজ তারা টাকা কামাবার জন্য অনায়সেই অপরাধীর কাছে বিক্রি করবে না তার গ্যারান্টি কি?”

“এই বিষয়ে আমি প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ব্যাক্তির অধিকার, প্রাইভেসি ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টির প্রতি তিনি অবিলম্বে নজর দেবেন এই প্রত্যাশা করি। সরকার ও প্রাইভেট কোম্পানিকে এই বিষয়ে জবাব চাইবার এখতিয়ার তাঁর আছে।”

সূত্র: ব্রেকিংনিউজ

Advertisements