ফড়িং ক্যামেলিয়া:

এবার যেহেতু একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা হয়েছে, আর পুলিশ ক্ষেপলে মন্ত্রীও পুছে না, তাই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বহুদিনের ভাঙা রেকর্ড বা পুরাতন বমি, তারা লেখালেখি করতো কীনা, কিংবা অনুভূতিতে সুড়সুড়ি দিত কীনা, তা গিলে হজম করে ফেলেছেন।

এটা ভাল লক্ষণ, কিন্তু কথা হলো একজন সাহসী এবং সৎ পুলিশ সুপারের স্ত্রীকে প্রকাশ্যে হত্যা করার পর দেশের আইন-শৃঙ্খলার পশ্চাতের পর্দা ছিঁড়ে লোমশ স্থানটা যে দেখা যাচ্ছে তার কী হবে ?

অনেক তো হলো, এবার ঘোমটা খুলে সত্যিটা বলে ফেলুন মাননীয় সরকার। আপনাদের জঙ্গি দমনের ইচ্ছা এবং মুরোদ কোনটাই নাই, তার ওপরে দেশের অন্য সমস্ত বিরোধী দলগুলোর মেরুদণ্ড ভেঙে আজকে প্রধান বিরোধী দল বানিয়েছেন একটা ডানপন্থী উগ্রবাদী দলকে, যারা তিন পারসেন্ট ভোটও পেত না!

Police Super Babul ভেবেছেন যেহেতু বাঙালী ধর্মবাদী দল কখনো পছন্দ করে নাই সেহেতু আপনাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত থাকবে। দেশ যেমন ইচ্ছা চলুক, আপনাদের হুজুর হুজুর করে যাবে জনগণ। দুঃখিত, কঠিন ভুলে আছেন আপনারা।

এতোদিনে একটা বাচ্চাও জেনে গেছে , সে রাস্তায় বের হলে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে না। একটা মেয়ে জানে, সে ধর্ষণের শিকার হলে বিচার পাবে না, একজন কর্মকর্তা জানে, সততা মানে অপমান।

জনগণ অন্ধ না, এরা সব বোঝে, জানে। জনগণ জামাত, হেফাজত, পছন্দ করে না আর এই প্রজন্ম রাজপথে আন্দোলন এর চেয়ে ফেসবুক বিপ্লবী বেশি বলে, এতোদিন আপনাদের গদি থেকে টেনে নামায় নাই, কিন্তু জামাত ছাড়া বিরোধী দলে এবার যেই দাঁড়াবে জনগণ চোখ বন্ধ করে তাকেই ভোট দেবে।

অবশ্য সেটা হয়ত করতে দেবেন না, কারণ অন্য কোনো দল ক্ষমতায় উঠার চেষ্টা করলে কিভাবে দমাতে হয় জাগরণ মঞ্চ তার একটা চমৎকার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

৫৭ ধারার মত ব্লাসফেমি আইন যখন কার্যকর করা হলো তখন জনগণকে আপনারা বুঝিয়েছেন, ধর্ম রক্ষার মূলমন্ত্র হলো এই আইন, তাই দেশ সম্পর্কে অচেতন ধর্মভীরুরা এই টপ গিলে কালো আইনটাকে সাদা বলে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু আজকে দুই বছর পরে এসে হিসাব নিকাশ করলে দেখা যাবে ধর্ম একটা অছিলা মাত্র, এই আইনে বলী হওয়ারা আসলে বেশির ভাগ-ই জঙ্গিবাদের বিপক্ষে শক্ত কণ্ঠ তোলা প্রতিবাদী মানুষ। ধর্মানুভূতি আসলে নিছক মূলা মাত্র।

আপনাদের লেজুড়বৃত্তি করা দল হেফাজতে ইসলামসহ ওলামা লীগ নিয়মিত ভিন্ন ধর্মগুলোর বলাৎকার করে চলেছে সে বিষয়ে এই কালো আইনের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তার ওপরে শুরু করলেন সরকারুনুভূতিতে আঘাত দেয়া যাবে না ।

আপনারা পান থেক চুন খসার সমালোচনা করলে সেটাকে ইস্যু বানিয়ে যখন তখন বিনা ওয়ারেন্টে জেলে ঢুকাবার আইনও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বাস্তবায়ন করলেন, সেদিন থেকে একটু ঠুসঠাস, ফুসফাস করে প্রতিবাদের জায়গাটাও বন্ধ করে দিলেন।

কয়দিন আগেই দেশে শিক্ষানীতি হিন্দুয়ানী বলে হুক্কাহুয়া করলো ডানপন্থী উগ্রবাদী দলগুলো। আপনারা ‘’কানে দিয়েছি তুলে’’ টাইপ ভাবগঙ্গি করে এড়িয়ে গেলেন।

এর কদিন আগেই শিক্ষক লাঞ্ছনা হলে সেখানেও পরিবারতন্ত্রের তেলে গা ভাসিয়ে চুপ থাকলেন। এর আগে তনু , তার আগে হাজার হাজার ধর্ষণ, তার আগে ব্লগার, শিক্ষক, সংস্কৃতি কর্মী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীর রক্তে রঞ্জিত হলো দেশ, সেখানেও আপনারা বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা অনুভূতির দায় নেব না টাইপ বমি উগড়ে দিলেন। মাঝখান থেকে নিজেদের দলে যে কজন বোধবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ ছিল তাদের ক্ষমতাচ্যুত করে চুতিয়া বানালেন।

লতিফ সিদ্দিকীর মতো বিজ্ঞ মানুষকে অপমানে জর্জরিত করে হেফাজতের মলমূত্র চেটে খেলেন। বাকিরা তো মাথায় টুপি পরে সহি তরিকায় ডানপন্থী দলের সমর্থক হয়ে গেল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তাও কিছুটা চক্ষু লজ্জা ছিল, অন্তত তার নিজের ছেলে যখন একজন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে ভালবেসে বিয়ে করলো, তখন তিনি সেটা সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলে তার মধ্যে ধর্মান্ধতা ছিল না বলেই জানতাম। কিন্তু তিনি যখন ঘোষণা দিলেন, তার অনুভূতি স্পর্শকাতর, তখন বলার মতো আর কোন শব্দ বাংলা একাডেমীর অভিধানেও খুঁজে পাইনি।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে, দেশ ধর্মনিরপেক্ষ থাকবে, কিন্তু সে সবগুলে খেয়ে দেশকে একটা অন্ধ রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর আপনাদের এই পশ্চাদপদতা দেখে নাক সিঁটকালেই ‘ইহা বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র’ ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছেন।

প্রশ্ন হলো, এখন কি বিরোধী দল মানে আমজনতা, যারা আশায় বুক বেঁধে আপনাদের ক্ষমতার মসনদে বসিয়েছিল? রাজার নীতি বহু আগেই গেছে, এখন রাজতন্ত্র নেই, আছে রাষ্ট্র নীতি, আর গণতন্ত্রে স্বৈরতন্ত্রের স্থান নেই।

আপনাদের পূর্বপুরুষ এর সুকর্মের ফল অনেক খেয়েছেন। এবার গত সাত বছরে যে কুকর্ম জমেছে তার কুফল ভোগ করার প্রস্তুতি নেন। দেশটা যদি সত্যিই আফগানের মতো হয়, আপনাদের কোনদিন ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

৭১ নিয়ে যেমন আমরা গর্ব করি, ঠিক তেমনি ২০১৩ থেকে ২০১৬ নিয়ে আমরা আফসোস করছি এবং করবো।

যাই হোক লাশের স্তূপ জমছে এবং জমাচ্ছেন ভাল কথা, এক মাঘে শীত যায় না , দিন আসবে। অবশ্যই আসবে, বাঙালী বড় ঘাউরা জাতি। নিজের ঘর পুড়িয়ে ঘরের ইঁদুর মারার রেকর্ড তাদের আছে। সিদ্ধান্ত আপনাদের, ইঁদুর হবেন, নাকি ঘরের আদর্শ কর্তা হবেন!

সূত্র: উইমেন চ্যাপ্টার

Advertisements