p1_chottograme-oc-prodip-at_128016চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে ব্যবসায়িক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো,  রাজনৈতিক কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণ বিতর্কিত ও সিএমপি থেকে বরখাস্তের ৫ মাস পর আবারও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) যোগদান করেছেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহল ও রাজনৈতিক মহলে বিরাজ করছে অজানা আতংক।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে শীর্ষ নিউজকে বলেন, সোমবার সিএমপিতে যোগদান করেছেন পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ। তবে তাকে এখনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে আদালতের অনুমতি ছাড়া বন্দরে আসা একটি বিদেশি জাহাজকে তেল সরবরাহে বাধা, বার্জ আটক এবং ১৮দিন পর বার্জ মালিকসহ ১২ জনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা নেয়ার ঘটনায় ফেঁসে যান তৎকালীন পতেঙ্গা থানার ওসি প্রদীপ। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় হয়। বিষয়টি পুলিশ সদর দফতর ও তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা পৃথকভাবে তদন্ত করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ওসি প্রদীপকে পতেঙ্গা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

২০১৩ সালের ৪ফেব্রুয়ারি হরতাল চলাকালে পাঁচলাইশে থানা এলাকায় শিবিরকর্মীদের গায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে ওসি প্রদীপ। ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ওসি প্রদীপের একটি মামলায় রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করায় এক আইনজীবিকে লালদীঘির পাড় থেকে ধরে নিয়ে থানায় আটকে রাতভর নির্যাতন চালানো হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই আইনজীবী সুস্থ হয়ে ২৯ জানুয়ারি আদালতে পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ওসি তদন্ত আজিজ আহমেদ, এসআই মাসুদ পারভেজসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম আইনজীবি সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওসি প্রদীপের পক্ষে কোন আইনজীবি মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না।

এছাড়া পাঁচলাইশে ওসি থাকাকালীন বাদুরতলা এলাকায় বোরকা পরা এক বয়োবৃদ্ধাকে রাজপথে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ব্যাপক সমালোচিত হন ওসি প্রদীপ। এ ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে টনক নড়ে। ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হয়। এক পর্যায়ে ২০১৩ সালের ২১ আগস্ট তাকে পাঁচলাইশ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

তারপর তিনি বায়েজিদ থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। গত ৪ আগস্ট বেসরকারি তেল শোধনাগার সুপার রিফাইনারি থেকে মিরসরাই যাওয়ার পথে নগরীর বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল গেইট এলাকায় সাড়ে নয় হাজার লিটার কেরোসিনসহ একটি লরি আটক করে পুলিশ। এরপর সুপার রিফাইনারির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দশ জনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়।

এ ঘটনার পর পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে হয়রানির অভিযোগ করেন সুপার রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমেদ। ওই অভিযোগের পর পুলিশ সদর দপ্তর অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলমগীরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বায়েজিদ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও দুই এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ সদর দফতর।

Advertisements