jaenজায়েন শহর। কর্ডোভার পূর্বে ও গ্রানাডার উত্তরে। জায়েনের আশপাশে জলপাইগাছের বিশাল বিশাল বাগিচা। সমগ্র জায়েন প্রদেশে ৫ কোটিরও বেশি জলপাইগাছ রয়েছে।

জায়েন প্রদেশের রাজধানী জায়েন। শহরের লোকসংখ্যা প্রায় সোয়া লাখ। এখানে রয়েছে মুসলমান আমলের কিল্লা একটা পাহাড়ী উচ্চতায়। বিশাল কিল্লা। এই উঁচু স্থান থেকে সমগ্র শহর দৃশ্যমান হয়। কিল্লার নীচে এ শহরের প্রাচীন এলাকা।
শহরের ভিল্লার ডসপার ডোর নামক প্রাসাদের নীচে আরব আমলের গোসল-হাম্মামখানা আবিষ্কৃত হয়েছে। স্পেনে এগুলো খুবই বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। জায়েনের আধুনিক অংশে বড় সড়কের মাঝে প্লাজা ডিলাস বাটা লাম’ নামক চতুষ্কোণের একটা স্মৃতিসৌধ বানিয়েছে স্পেন অতীতের লাস প্রাভাস ডি টলোসা নামক স্থানে মুসলমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আর বেইলিনে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধের স্মরণে।

লাস নাভাস ডি টলোসা যুদ্ধ কতকটা ওয়াটারলু’র যুদ্ধের মত। টলোসার যুদ্ধে স্পেনে মুসলমানদের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যায় সেই ১২১২। যদিও এরপরে দক্ষিণের সামান্য কিছু অংশ নিয়ে গ্রানাডা নামে একটি ক্ষুদ্র মুসলিম রাজ্য ১৪৯২ সাল পর্যন্ত টিকেছিল। তবে তা খৃস্টান রাজাদের অধীন হিসেবে মূলতঃ ‘টলোসার যুদ্ধকে আরব ঐতিহাসিকরা আল-উকাব (পাহাড়)-এর যুদ্ধ বলত। টলোসা স্থানটি কর্ডোভা থেকে প্রায় সত্তর মাইল পূর্বে। জায়েনের নিকটে। একদিকে স্পেনের ফ্যাসটাইল রাজ্যের রাজা অষ্টম (কোন কোন বইয়ে লেখা নবম) আল ফনসো নিজে, আরগিল রাজ্যের রাজা নিজে, ন্যাভাররে রাজ্যের রাজা নিজে, পর্তুগাল থেকে টেম্পলার নাইটদের এক ক্রুসেডার বাহিনী ও ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি থেকে আগত এক ক্রুসেডার বাহিনী। এইসব খৃস্টান বাহিনীর মূলে ছিলেন ভ্যাটিকানের পোপ তৃতীয় ইন্নোসেন্ট। তারই ‘শিশুসুলভ’ নির্দেশে সমগ্র পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপ থেকে বিশাল ক্রুসেডার বাহিনী হাজির হল।

মুসলমান পক্ষে আল মুয়াহিদ বংশের খলিফা মুহাম্মাদ আল নাসির (১১৯৯-১২১৪ খৃস্টাব্দ) ও তার বাহিনী। মুসলিম স্পেনে উখিয়া শাসন (৭১২-১০২৭), মাঝে খন্ড-বিখন্ড শাসন, পরে আল মুরাবাইত খিলাফত (১০৯০-১১৪৭), তারপরে আলমুয়াহিদ শাসন আসে। আল মুয়াহিদ খিলাফতের সময় স্পেনে মুসলমানদের দখল দক্ষিণ অংশে, তা ছিল মূল স্পেনের এক তৃতীয়াংশ টলেডো তো সেই ১০৮৫ সালেই মুসলমানরা হারায় খৃস্টানদের নিকট। আল মুয়াহিদ খলিফার অধীনে মরক্কো এলাকা ছিল।
ইতিহাস বলে যে, টলোসার যুদ্ধে ছয় লাখ মুসলমান বাহিনীর মাত্র এক হাজার মুসলমান রক্ষা পায়। খলিফা আল-নাসির সহকর্মীদের অনুরোধে উত্তর আফ্রিকায় তাদের মূল রাজধানী মাররাকেশে চলে গেলেন। দু’বছর পর তিনি মনের দুঃখে ইন্তেকাল করলেন। সমগ্র মুসলিম স্পেন খৃস্টান শাসক ও কিছু আত্মঘাতী, বিবাদগ্রস্ত মুসলিম ছোট ছোট কর্মকর্তার ভাগে পড়ল। টলোসার যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের মূল কারণ হল স্থানীয় স্পেনীয় মুসলমান ও উত্তর আফ্রিকার মুসলমানদের ভিতর বিবাদ। আরব ও তুর্কী বিবাদে যেমনভাবে পশ্চিম ইহুদী-খৃস্টানদের (হ্যাঁ, পশ্চিমা ইহুদী-খৃস্টানদের মিলিত রাষ্ট্রই) ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়, তেমনি স্থানীয় বহিরাগত মুসলিম বিবাদে স্পেন থেকে মুসলমানরা উৎখাত হল। খলিফা আল-নাসির স্পেনীয় মুসলমান সেনাপতিদের পরামর্শ না শুনে উত্তর আফ্রিকার সেনাপতিদের পরামর্শকে বেশি গুরুত্ব দেন। স্পেনীয় মুসলমান সেনাপতি গত খৃস্টান যুদ্ধ কৌশল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন। তবে সৈয়দ আমীর আলী লেখেন যে, যুদ্ধের শুরুতেই স্পেনীয় মুসলিম বাহিনীর অংশ যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করে বা খৃস্টান বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়। আফ্রিকীয় মুসলমানরা শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত যুদ্ধ করে প্রাণ দিল (‘হিসটরি অব দি সারাসেনস’ পৃষ্ঠা ৫৪০)।

আল-মুয়াহিদের পরে মরক্কোর মাররাফোশে বনু মারিন বংশ সুলতানাত। এই বংশের সুলতান আবুল হাসান ১৩৪০ আফ্রিকা থেকে ষাট হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে স্পেনে আসেন। তাইফার যুদ্ধে এই বাহিনীর বিশাল অংশ শহীদ হয়ে গেল। এই যুদ্ধে খৃস্টানরা জিতলে গ্রানাডার ছোট মুসলিম রাজ্যের উপর চাপ সৃষ্টি হল। ১২১২ সালে টলোসার যুদ্ধে খৃস্টানরা ক্রুসেডে জিতলে খৃস্টান রাজা নবম আলফনসো জায়েনের উত্তরে উবেদা শহরে সত্তর হাজার মুসলমান পেলেন। মুসলমানরা খৃস্টান রাজা নবম আল ফনসোর সঙ্গে চুক্তি করল দশ লাখ মুদ্রার বিনিময়ে নিরাপত্তার চুক্তি। তবে পোপের নির্দেশে চুক্তি ভাঙলেন রাজা। ভ্যাটিকানের ‘শিশুসুলভ’ পোপ ইন্নোসেন্টের নির্দেশে সমস্ত মুসলমানকে গণহত্যার শিকার করা হল, সামান্য কিছুকে বাঁচিয়ে রাখা হল দাস বানাতে। (সূত্র : ‘ইসলাম ইন আন্দালুস,’ আহমদ টমসন ও মুহাম্মাদ আতাউর রহমান, তাহা পাবলিশার্স, লন্ডন, পৃষ্ঠা ১০৭)। এর পর পর ১২৩৬ সালে কর্ডোভা ১২৩৮ সালে ভ্যালেনসিয়া ও ১২৪৮ সালে সেভিল (যা মুয়াহিদ খিলাফতের দ্বিতীয় রাজধানী ছিল) খৃস্টানদের হাতে চলে গেল।

১২১২ সালে পোপ তৃতীয় ইন্নোসেন্টের নির্দেশে সত্তর হাজার মুক্তিপণ প্রদানকারী নিরাপত্তা প্রাপ্ত মুসলমানকে এক এক করে গণহত্যার শিকার করা হল। রাজা মুক্তিপণ নিলেন, নিরাপত্তা দিলেন, ধর্মগুরু পোপ তৃতীয় ইন্নোসেন্ট হত্যার নির্দেশ দিলেন! পোপের পূর্বসূরিগণ রোমান সম্রাটগণের জুলুমের শিকার ছিলেন। অথচ শিশুসুলভ পোপরা ইন্নোসেন্ট উপাধি ধারণ করে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণহত্যা যা ইনকুইজিসনের হোতা ছিলেন। তারা মুসলমান-ইহুদীদের সমূলে নিশ্চিহ্ন করেন ইউরোপে। বসনিয়ার স্রেবেনিকা শহরকে জাতিসংঘ নিরাপদ আশ্রয় ঘোষণা করলেও সার্ব খৃস্টানরা দশ হাজার পুরুষ ও বালক মুসলমানকে হত্যা করে। পোপদের নির্দেশে তো বসনিয়ার গণহত্যার চেয়ে বড় গণহত্যা হয়েছে।

পোপদের নির্দেশে শুধু মুসলিম-ইহুদীরাই গণহত্যার সম্মুখীন। টলোসার যুদ্ধের সময় ত্রিত্ববাদী খৃস্টানরা পোপের নির্দেশে দক্ষিণ ফ্রান্সের কাথারী নামে একত্ববাদী খৃস্টানদের শেষ শিশুকে পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন করে। এরপর তারা স্পেনের মুসলিম ও ইহুদী এলাকায় গণহত্যার জন্য প্রবেশ করে।

এখন আমরা দেখব ১২১২ সালে স্পেনের টলোসার যুদ্ধের আগে ও পরের খৃস্টান-মুসলিম সামগ্রিক চিত্র। ১১৮৭ সালে সালাউদ্দীন আইয়ুবী ক্রুসেডারদের হাত থেকে জেরুসালেম উদ্ধার করলেন। এরপরও পোপ জার্মানীর সম্রাট ফ্রেডারিক বারবরোমা (১১৯১ খৃস্টাব্দ), ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড ও অন্যান্য প্রাচ্যে ক্রুসেড চালিয়েছেন। সালাউদ্দীন ১১৯৩ সালে ইন্তেকাল করলেন। ১২০৩ সালে পোপ তৃতীয় ইন্নোসেন্ট ৫ম ক্রুসেডের ডাক দিলেন। ১২১২ সালের টলোসার যুদ্ধ ও তার নির্দেশে হল। ১২১৬-১৭ সালে পোপ তৃতীয় ইন্নোসেন্ট ডট ক্রুসেডের ডাক দিলেন। পোপরা যে যুদ্ধবাজ, গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধী দিলেন এ তথ্য থেকে স্পষ্ট।

১১৮৭ সালে সালাউদ্দীন আইয়ুবী জেরুসালেমের খৃস্টানদের প্রতি ‘এমনেস্টি’ দিলেন। তিনি কোন ধর্মীয নেতা ছিলেন না। অথচ ১২১২ সালে রোমান ক্যাথলিক ত্রিত্ববাদী খৃস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ তৃতীয় ইন্নোসেন্টের নির্দেশে উবেদা শহরের বেসামরিক মুসলমানরা সবাই ক্রুসেডারদের ছুরির শিকার হচ্ছে! এটা কি যীশুর শিক্ষা, না রোমান সম্রাটদের?
স্পেনের মুসলমানরা যদি কুরআন-হাদীসের নির্দেশে সবাই জিহাদের উদ্দেশ্যে অস্ত্র হাতে নিত, তাহলে এই বিশাল ট্র্যাজেডি হতো না। তারা বাঁচতে চেয়েছিল, তাই প্রতিরক্ষাকে গুরুত্ব দেয়নি। পরিণতি যা হবার তাই হয়েছে। আল্লাহ কুরআনে বলেন:
‘যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের মর্মন্তুদ শাস্তি দেবেন, অন্য জাতিকে তোমাদের জায়গায় বসাবেন। আর তোমরা তার (আল্লাহর) কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তো সর্বশক্তিমান। (এ সূরা তাওবা : ৩৯ আয়াত)।
৭১২ সালে তারিক মাত্র সাত হাজার মুজাহিদের বাহিনী দিয়ে স্পেন-পর্তুগাল-দক্ষিণ ফ্রান্স জয়ের সূত্রপাত করেন। অথচ ১২১২ সালে ৫শ বছর পর মুসলমানদের ৬ লাখের বাহিনী ও ১৩৪০ সালে ষাট হাজার মুসলমানের বাহিনী নিশ্চিহ্ন হল! এটা কি আল্লাহর তকদির? হবে হয়তো।

জায়েন শহরে টলোসা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ মুসলমান জাতির জন্য কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। হায় টলোসার মাটি! এখানে ছয় লাখ শহীদ শুয়ে আছে।

যে উবেদা শহরের সত্তর হাজার বেসামরিক মুসলমানকে গণহত্যার শিকার করা হয় সেখানে মুসলমানদের একটি মসজিদের উপরে গড়ে তোলা হয়েছে একটা গির্জা, নাম ‘চার্চ অব সান্তা মারিয়া ডি লস রিয়ালেস আলকাজারেস’। সান্তা মারিয়া (সেন্ট মেরী-যীশুর মাতা) নামে কত যে সংস্থাপনা রয়েছে খৃস্টানদের। অথচ যীশু ও মেরীর মূল আদর্শ খৃস্টানরা কমই পালন করে। আর্মেনীয় খৃস্টানদের হত্যার জন্য তুরস্কের বিরুদ্ধে এবং জার্মানীতে হিটলারের বিরুদ্ধে ইহুদীদের জলোকস্টের জন্য পাশ্চাত্যে নানা আন্দোলন, নানা প্রস্তাব পাস। অতীতের আর্মেনীয় ঘটনার জন্য নতুন করে বিচার বা প্রস্তাব পাস করা যায়, তাহলে পোপের নির্দেশে ইহুদী, মুসলমান ও একত্ববাদী দক্ষিণ ফ্রান্সের (কাথারী) খৃস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য, যুদ্ধাপরাধের জন্য, পোপের বিরুদ্ধে বিচার করা যেতে পারে। পোপ ধর্মগুরু হলেও ছাড় পেতে পারেন না। গণহত্যা, গণহত্যাই। এমনকি স্পেনীয় গোড়া রোমান ক্যাথলিকদের হাতে আমেরিকান আদিবাসী নিশ্চিহ্নকরণ যুদ্ধাপরাধের জন্যও পোপ দায়ী। পোপের কট্টর নীতিই তার অনুসারীদের এই পাপ কার্যে প্ররোচিত করেছিল। কোথায় যীশু ও মেরী, আর কোথায় …।
এখন বোধগম্য হবে কেন ধার্মিক খৃস্টানরা মুসলমানদের প্রতি এতো মারমুখো। কেন বুশ, সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, পাদরী কন্যা জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা, ইটালীর প্রধানমন্ত্রী বারলুসকনি প্রমুখ মৌলবাদী খৃস্টান নেতারা এত উগ্র মুসলমানদের ব্যাপারে। এই নেতাদের উপর তাদের ধর্মগুরু তথা পোপদের বিরাট প্রভাব। পোপের নির্দেশেই তারা অতীতে ইহুদীদের উপর গণহত্যা করেছে এই দোষারোপে যে ইহুদীরা যীশুকে হত্যা করেছে (মুসলমানরা তো ইহুদীদেরকে এই দোষ থেকে রক্ষাই করেছে। মুসলমানরা তো বলে যে, যীশুকে হত্যাই করা হয় নাই। আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়েছেন)। খৃস্টানরা কোনভাবে জেরুসালেমকে দখলে রাখতে না পেরে বর্তমানে তাদের ইহুদী নীতির ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন করেছে। এখন বুশ গংরা বলেন যে, ফিলিস্তিনকে গড ইহুদীদেরকে চিরস্থায়ীভাবে দিয়েছেন (অবশ্য এই থিয়োরী বাইবেল অনুযায়ীও মিথ্যা। ইহুদীরা আল্লাহর নির্দেশ পালন না করলে, তাদেরকে বেইজ্জতীও করা হবে- এই তথ্য বাইবেলেও আছে। কুরআনেও আছে)। যাইহোক, বুশ-ব্লেয়ারের নির্দেশে ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইরাক, সোমালিয়া, মিন্দানাও ইত্যাদি মুসলিম এলাকায় যে গণহত্যা চলছে তার মূলে রয়েছে খৃস্টান ধর্মগুরুদের ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে মনগড়া ব্যাখ্যা। উল্লেখ্য যে, হালে টনি ব্লেয়ার রোমান ক্যাথলিক হয়েছে, তার স্ত্রী চেরি ব্লেয়ার তো আগে থেকেই রোমান ক্যাথলিক। বর্তমানের মুসলিম-দলননীতি, খৃস্টানদের অতীত ক্রুসেড নীতির বর্ধিতাংশ।

উল্লেখ্য যে, বেইলানের যুদ্ধে স্পেনীয় বাহিনী নেপোলিয়নের বাহিনীকে মোকাবিলা করে, সেই বেইলান জায়েন শহরের ঠিক উত্তরে, ৩৫ কিলোমিটার দূরে, মাদ্রিদগামী হাইওয়ের পাশে।

মুহাম্মদ সিদ্দিক
লেখক : সাবেক কূটনীতিক, কলাম লেখক ও সাংবাদিক
সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম

Advertisements