213613_1ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সরকার উৎখাত ‘ষড়যন্ত্র’ করছে-এ ধরণের খবরে দেশজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। সম্প্রতি চীনের গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমএসএস’ ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে বলে খবর বেরিয়েছে। এ দুটিই বিশ্বের আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা। আর তাই বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও এমএসএস সম্পর্কে আমাদের সময় ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মোসাদ (ইসরাইল)

মোসাদকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুর্র্ধষ গোয়েন্দা সংস্থা। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ইংরেজি নাম হচ্ছে (Institute for Intelligence and Special Operations)। বিশ্বজুড়ে ‘মোসাদ’কে ঘিরে সবচেয়ে বেশি রহস্যজনক ও চাঞ্চল্যকর গল্প চালু আছে। হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হাতে প্রায় ৬০ লাখ ইহুদির মৃত্যুর পর বিশ্বের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নের প্রকল্পে শামিল হয়েছিল।

ইহুদি, খ্রিস্ট ও ইসলাম ধর্মের কাছে ‘পবিত্র ভূমি’ বলে পরিচিত বৃহত্তর প্যালেস্টাইনকেই তারা বেছে নিয়েছিল নতুন এই বাসভূমির জন্য। নাৎসিদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে ইহুদিদের সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতো। এই জায়নিস্ট আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে শুরু থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে আসছে ইসরায়েল। ফলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করতে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে শুরু থেকেই প্রস্তুত ইহুদি এই রাষ্ট্র। আর এ কাজে ভয়াবহভাবে ব্যবহৃত হয় ইহুদিদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। কিন্তু নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করতে ইসরায়েল যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে এসেছে, তাকে ঘিরে বিতর্কের কোনো শেষ নেই।

ভয়ঙ্কর গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মী সংখ্যা কত তার পরিসংখ্যান কেউ জানে না। তবে ধারণা করা হয় এর কর্মী সংখ্যা কম করে হলেও ১২০০ হবে। এর সদর দফতর ইসরায়েলের তেলআবিবে। সংস্থাটির জবাবদিহিতা দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সংস্থার বর্তমান প্রধান তামির পারদো। মোসাদের প্রধান বিচরণ এলাকা বলতে কিছু নেই। বলা হয়ে থাকে, এদের নেটওয়ার্ক সমগ্র বিশ্বেই বিস্তৃত।

মোসাদের দায়িত্ব এতটাই বিশাল যে, সম্পূর্ণ বর্ণনা কঠিন। সাধারণভাবে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বৈদেশিক নীতি-নির্ধারণে সহায়তা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান, সাইবার ওয়ারফেয়ার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশন পরিচালনা, ড্রোন আক্রমণ, গুপ্ত কারাগার পরিচালনা, বিশ্বের বড় বড় করপোরেশনের নীতিনির্ধারণের চেষ্টা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিওনাজ। মোসাদের এই কাজের বাজেটও কারও জানা নেই।

মোসাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের এমএসএস, যুক্তরাষ্ট্রে এফএসবি, এমআইএসআইআরআই, হিজবুল্লাহ, হামাস।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিখ্যাত অপারেশনগুলো হচ্ছে আর্জেন্টিনায় আইখম্যান হান্ট ১৯৬০, হেবাররত চুকারস হত্যা ১৯৬৫, অপারেশন ডায়মন্ড ১৯৬৩-৬৬, ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে হত্যাকা-ের প্রতিশোধ, অপারেশন জেরাল্ড বুল কিলিং ১৯৯০, আতেফ বেইসো হত্যা ১৯৯২, মোহাম্মদ আল মাবহু হত্যা, ২০১০। মোসাদের মোটো হচ্ছে : Where there is no guidance, a nation falls, but in an abundance of counselors there is safety.

এমএসএস (চীন)

চীনের গোয়েন্দা সংস্থা গওজিয়া অ্যাংকেন বু অথবা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি। এটি বিশ্বজুড়ে এমএসএস (গঝঝ) নামে পরিচিত। চীনা এমএসএসের অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের অজানা। আর এর কর্মী সংখ্যা পৃথিবীর সব গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হয়। ২০০৫ সালে দলত্যাগী দুজন চীনা এজেন্ট থেকে জানা গেছে, শুধু অস্ট্রেলিয়ায়ই এমএসএস’র এক হাজার ইনফর্মার আছে। এমএসএসের সদর দফতর চীনের রাজধানী বেইজিং-এ অবস্থিত। এর জবাবদিহিতা স্টেট কাউন্সিল অব চায়নার কাছে। এমএসএসের সংস্থা প্রধান জেং হুই চ্যাং। তিনি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমএসএস সর্বমোট ১২টি ব্যুরোতে বিভক্ত। এর মূল দায়িত্ব হচ্ছে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বর্ডার সার্ভেইল্যান্স, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান, কাউন্টার রেভিউল্যুশনারি কার্যক্রম দমন, সাইবার ওয়ারফেয়ার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, বিশ্বের বড় করপোরেশনগুলোর নীতিনির্ধারণের চেষ্টা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিওনাজ।

এমএসএসের প্রধান বিচরণ এলাকা ম্যাকাও, হংকং, তাইওয়ান, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম ইউরোপ, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকা ও সারা দুনিয়ার চাইনিজ বংশোদ্ভূত জনগণ। এমএসএসের অনেক নামকরা এজেন্ট রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ল্যারি উ তাইচিন, ক্যাট্রিনা লেউং, পিটার লি, চি মাক, কো সুয়েন মো। ১৯৯৬ সালে এফ-১৫, বি-৫২সহ বহু সামরিক প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগে ডং ফ্যাং চ্যু নামে বোয়িং কোম্পানির এক ইঞ্জিনিয়ার ধরা পড়েন।

ধারণা করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউকে, কানাডা, ইউরোপ, ভারত, জাপানে আন-অফিশিয়াল কাভারে যেমন ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, ব্যাংকার, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ হিসেবে কমপক্ষে ১২০ জন এমএসএস কর্মী অবস্থান করছেন। এমএসএসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয় সারা দুনিয়ার বেশিরভাগ গোয়েন্দা সংস্থাকেই।

সূত্র: আমাদের সময়

Advertisements