213350_1ষষ্ঠ শ্রেণীর ইসলাম ও নৈতিকতা শিক্ষা বইয়ে আরবি বানানে ৫৮টি ভুলের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভুল স্বীকার করে অভিযোগ তুলেছে লেখক, সম্পাদক এবং শিক্ষকদের দিকে। অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলে এনসিটিবির কৌশলে দায় এড়ানোর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক প্রীতিশকুমার সরকার এবং কারিকুলাম সদস্য প্রফেসর মো. মশিউজ্জামান বলেছেন, আরবি ভাষার প্রুফ রিডার এনসিটিবিতে এতদিন ছিল না। তারপরও ভুলের দায় অবশ্যই আমাদের। এখানে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা দায় এড়াতে চাচ্ছি না। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বই লেখা এবং সম্পাদনার দায়িত্ব দেয়া হয়। এ দায়িত্ব পালনের জন্য এনসিটিবি প্রত্যেকেই সম্মানী প্রদান করে। বই বিতরণের পর শিক্ষকদের বলে দেয়া হয়, বইয়ে কোনো ভুল থাকলে তা এনসিটিবিকে জানানোর জন্য।

একাধিক শিক্ষক বলেছেন, সরকার বই ছাপিয়ে দেয়। আমাদের দায়িত্ব সরকার যা দিবে তাই পড়ানো। বইয়ে ভুল থাকলে তা এনসিটিবিকে জানাতে হবে, এরকম কোনো নিয়ম আমাদের জানা নেই। ভুলের দায়ভার নেয়ার বিষয় আসলে সরকার কাকে দিয়ে বই লিখাচ্ছে, ছাপাচ্ছে দায়টা সবার আগে তাদের নিতে হবে।

কিছুটা শিক্ষকদের মতোই অভিমত শিক্ষাবিদেরও। তাদের মতে, বই তৈরির মতো জনগুরুত্ব বিষয়ে যারা এ ধরনের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়, সর্বাগ্রে দায়টা তাদেরই নিতে হবে। কারণ লেখক, সম্পাদক, এনসিটিবি দায়িত্বশীল-যত্নবান হলে ভুলগুলো হতো না।

ষষ্ঠ শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইটি সম্পাদনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার (২০১২ সালে) পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বইটি ছাপানো হয়েছিল। ভুল ভ্রান্তি ঠিক করার জন্য এনসিটিবি ভাষা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সম্পাদনা পরিষদ গঠন করবে বলেছিল। যে কমিটির মাধ্যমে বানান বা অন্যান্য ভুল সংশোধন করা হবে।’

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এতদিন হয়ে গেল বইটি এনসিটিবি এখনো ঠিক করেনি! যেখানে শিশুদের হাতে একটি নির্ভুল বই তুলে দেয়ার কথা সেখানে কোনোভাবেই এটা দায়িত্বশীল কাজ হতে পারে না। বইটিতে যেহেতু আমাদের নাম আছে মানুষ তো মনে করবে লেখক-সম্পাদক ভুল করেছে।’

ভুলের বিষয়ে ড. আখতারুজ্জামান আরো বলেন, ‘বইয়ের ভুল দেখার দায়িত্ব আমাদের না। এটা এনসিটিবির দায়িত্ব। দেখলে এতো ভুল থাকতো না। ভুল যেহেতু আছে এর জন্য লেখক, সম্পাদক, এনসিটিবি সকলের দায় আছে। তবে এনসিটিবির সঙ্গে কথা হয়েছিল তারা বইটি ভাষা বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে পরিমার্জিত করবে। আমরা তাদেরকে বারবার তাগিদ দিয়েছি প্রুফ দেখানো ছাড়া যাতে কোনো বই না ছাপায়।’

এনসিটিবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এনসিটিবি বিদেশি বানান রীতি দেখার জন্য একটি সেল গঠন করেছে। আশা করছি পরেরবার থেকে ভুল সংশোধন করে ছাপাবে।’

এর আগে ভুলের বিষয়ে লেখক সম্পাদক শিক্ষকদের ওপর দায় চাপালেও বিদেশি ভাষা সম্পাদনা পরিষদ না থাকা, প্রুপ ছাড়া বই ছাপনো, বিতরণ এবং লেখক সম্পাদকের ওপর দোষ চাপানোর বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় এনসিটিবির প্রধান সম্পাদকের সাথে। কিন্তু সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা আছে ‘অজুহাতে’ মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল শুধু একটি বইয়ে না। এরকম প্রায় প্রতিটি বইয়ে ভুল রয়েছে। যা কর্তৃপক্ষের অবহেলা অযত্নের কারণে হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
সূত্র: বাংলামেইল

Advertisements