ভারত থেকে পানি না আসায় মরে যাচ্ছে তিস্তা নদী- ফাইল ছবি
ভারত থেকে পানি না আসায় মরে যাচ্ছে তিস্তা নদী- ফাইল ছবি

ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. আবদুল লতিফ নেজামী বর্তমানে দেশের তাপমাত্রা অস্বভাবিকভাবে বৃদ্ধির জন্যে ভারতের পানি আগ্রাসনকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেছেন, ভারত অভিন্ন ৫৪টি নদীর মধ্যে ৩৮টির উজানে ড্যাম, ব্যারেজ ও গ্রোয়েন নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে একদিকে সমুদ্রের লোনা পানি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে এবং অপরদিকে পাতাল পানি রিচার্জ না হওয়ায় পানির স্তর ধীরে ধীরে নীচে নেমে যাওয়ায় মাটির আদ্রতা কমে যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আইওজে চেয়ারম্যান রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের এক তরফা পানি প্রত্যাহারের  ফলে প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীর পানি সমুদ্রের লোনা পানিকে বাঁধা দেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।  তাছাড়া গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ ও অন্যান্য কারণে পানি উত্তোলন করায় পাতাল পানি গড়ে প্রতি বছর ৫ মিটার নীচে নেমে যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৃষ্টিপাতের দ্বারা পাতাল এক মিটার রিচার্জ হয় এবং বর্ষার পানিতে নীচু জমি ও জলভূমি প্লাবিত হওয়ায় ৪ মিটার রিচার্জ হয়ে থাকে। এভাবে পাতাল পানির স্তর আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

তবে ভারত কর্তৃক এক তরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে  সমুদ্রের লোনা পানিকে বাঁধা দিতে এবং পাতাল রিচার্জ করতে প্রয়োজনীয় পানি না পাওয়ায় বাংলাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  ফলে রাজধানী ঢাকায় ও পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারতের  মরু অঞ্চল হরিয়ানা, রাজস্থান ও গুজরাটে,  দাক্ষিণাত্যে পানি সরিয়ে নেয়ার আগে বাংলাদেশে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা নদীতে  প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যেত।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকেও মরভূমিতে পরিণত করার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে

তাছাড়া অন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাঁধ, জলাধার ও সংযোগ খালের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে ভারতের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিামাঞ্চলীয় এমনকি দক্ষিণে কাবেরি নদী পর্যন্ত টেনে নিয়ে খরাপীড়িত অঞ্চলে পানি সরবারাহের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সর্বশেষ টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের মেঘনা নদীর পানিও প্রত্যাহার করে নেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গঙ্গার উজানে ফারাক্কা বাঁধের ফলে বাংলাদেশের ওপর যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা সবার জানা। এখন আবার ভারত যদি টিপাইমুখ বাধ ও আন্তঃনদী সংযোগ খাল প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানি প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে দেশের মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও মরুভূমিতে পরিণত হবে। ফলে সমুদ্রের লবাণাক্ততা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জমির উর্বরতা কমে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাবে, মৎস্য সম্পদ বিলুপ্ত হবে, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র বিনষ্ট হবে, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় আর্সেনিক সমস্যা দেখা দেবে ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দেবে এবং নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

তিনি  বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে শুকিয়ে যাবে মেঘনা, কুশিয়ারা, সুরমা ইত্যাদি প্রধান নদী। তাছাড়া মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতি প্রভৃতি শাখা নদীও মরে যাবে। কর্ণফুলি নদীর পানি প্রবাহও হ্রাস পেয়ে শুকিয়ে যাবে কাসালং, ফেনী, হালদা, বোয়ালখালী প্রভৃতি পূর্বাঞ্চলীয় নদীসমূহ। এতে ভূগর্ভস্থ পানি কমে গেলে দেশ ভূকম্পন প্রবণ হয়ে উঠবে। নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়ে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী বন্দর শেষ হয়ে যাবে

মাওলানা নেজামী বলেন, ভারতের এই অমানবিক কর্মকাণ্ডকে প্রতিবাদমুক্ত রাখার জন্যেই যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বজায় রাখার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী

বিবৃতিতে বলা হয়, অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে ভারতের পানি আগ্রাসনের মতো রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।  অন্যথায় বাংলাদেশ একদিন সাহারা মরুভূমির রূপ ধারণ করতে বাধ্য হবে।  কেননা সাহারা মরভূমি এক সময় রোম সাম্রাজ্যের শস্যভাণ্ডার ছিল।  কিন্তু লবণাক্ততার কারণে সেই শস্যভাণ্ডার এখন পৃথিবীর সবচাইতে বড় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আরটিএনএন

Advertisements