Mঅলিউল্লাহ নোমান:
দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে নির্যাতন নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। গত ২ বছরের বেশি সময় তিনি কারাগারে বন্দি আছেন। তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে বার বার নির্যাতন করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের ডাক্তাররা সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু সেই উন্নত চিকিৎসা তাঁর ভাগ্যে জুটেনি।
গত ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি সকল মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। অথচ কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। মুক্তি পাওয়ার পূর্ব মুহুর্তে তাঁকে একটি মামলায় শ্যোন এরেষ্ট দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট কারাসূত্র জানায়, সকল মামলায় জামিনের পর সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই থেকে বলা হয় তাঁকে মুক্তি না দেওয়ার জন্য। তারা নতুন মামলা দেয়ার প্রস্তুুতি নিয়েছেন। সেদিনই তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরনের এক মামলায় শ্যোন এরেষ্ট দেখানো হয়।
এ মামলায় জামিন চুড়ান্ত করার আগে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান। আবেদনে তিনি বেআইনি শ্যোন এরেষ্ট এবং নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিবেদন জানান। তাঁর আবেদনের শুনানী শেষে হাইকোর্ট বিভাগ সরকারের প্রতি কয়েকটি নির্দেশনা দেয়। সংবিধানের ৩১, ৩২ এবং ৩৬ নং অনুচ্ছেদ সরকারকে ষ্মরণ করিয়ে দেয় হাইকোর্ট। নির্দেশনায় বলা হয় তাঁকে যেন পুরাতন যেসব ঘটনার এফআইআর-এ তাঁর নাম নেই এমন মামলায় যেন তাঁকে শ্যোন এরেষ্ট না দেখানো হয়। এটা বেআইনি।

আদেশটি সংযুক্ত HC order-1

এ আদেশের পর সুপ্রিমকোর্টে আপিল কিরে সরকার। অর্থাৎ সরকার চায় মাহমুদুর রহমানকে নির্যাতন করতে। তাই আপিল বিভাগের অনুমোদন চায়। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ সরকারের আবেদন গ্রহন করে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা স্থগিত করে দেয়। অর্থাৎ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ মাহমুদুর রহমানকে নির্যাতনের জন্য সরকরকে অনুমতি দেয়। এই হচ্ছে আমাদের বিচার বিভাগ এবং মানবাধিকার, সংবিধানের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের ভুমিকা!!

আপিল বিভাগের আদেশটি সংযুক্তCMP

আপিল বিভাগের এ আদেশের পরই সরকার মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দেয়া অব্যাহত রেখেছে। ২০১৫ সালে বায়বীয় অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় তাঁর রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। অথচ এ মামলা যখন দায়ের করা হয় তখন এফআইআর-এ তাঁর কোন রকমের সংশ্লিষ্টতা বায়বীয় অভিযোগে ছিল না। সোমবার সেই রিমান্ড শুনানী হবে। অভিযোগটি হচ্ছে তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় দায়ের করা বায়বীয় অভিযোগ অনুযায়ী সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের ষড়যন্ত্র করেছিলেন আমেরিকায়। যদিও সজীব ওয়াজেদ জয়-এর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য এফবিআইকে ঘুষ দেয়ার অভিযোগে ৩জনকে দন্ড দিয়েছে আদালত। এ মামলার শুনানীর সময় সজীব ওয়াজেদ জয়কে শারিরীক ভাবে ক্ষতি সাধন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল আদালতে। এ দাবীর পক্ষে কোন প্রমান না থাকায় আমেরিকার আদালত সেটি নাকচ করে দেয়। কিন্তু এ বায়বীয় অভিযোগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকার পল্টন থানায় একটি মামলা হয়।

এখন এ মামলায় আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে প্রবীন সাংবাদিক শফিক রেহমানকে। মাহমুদুর রহমানকে নতুন করে শ্যোন এরেষ্ট দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী সোমবার (২৫ এপ্রিল) রিমান্ড আবেদনের শুনানী হবে।

সূত্র: rbn24.co.uk

Advertisements