৫৫ ক্যাঙক্রিসম্ভবত দোযখের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ৫৫ ক্যাঙক্রি-ই নামের একটি অদ্ভুত গ্রহের বেশকিছু অংশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার পর বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন পবিত্র গ্রন্থগুলোতে বর্ণনাকৃত দোযখের সন্ধান হয়তো তারা পেয়েছেন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের নেতৃত্বে একদল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী নাসার স্পিটজার মহাকাশ টেলিস্কোপে ধারণকৃত ৪০ আলোক বর্ষ দূরের এই ‘সুপার-গ্রহের’ চিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বেশকিছু আশ্চর্যজনক তথ্য পেয়েছেন।

কখনো কখনো এই ৫৫ ক্যাঙক্রি-ই গ্রহটি অদ্ভূতদর্শন বলে মনে হয়। অনেকে ধারণা করছেন গ্রহটি হীরা দ্বারা তৈরি। আবার অনেকে বলছেন, বহির্গত উত্তপ্ত তরল দ্বারা গ্রহটি ভর্তি।

সূর্য সদৃশ নক্ষত্রটি কর্কটক্রান্তির নক্ষত্রপুজ্ঞে অবিরত ঘূর্ণায়মান অবস্থায় রয়েছে। জ্যোর্তিবিদরা পাথুরে গ্রহটির ঘূর্ণায়মান অবস্থা প্রত্যেক ১৮ ঘণ্টা পরপর প্রত্যক্ষ করে বেশকিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

গ্রহটি টাইডাল লকড অর্থাৎ এর একদিকের মুখ সবসময় নক্ষত্রমুখী। নক্ষত্রমুখী দিকটি গলিত লাভার সমুদ্র যার তাপমাত্রা প্রায় ২,৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৪,৩৫২ ফারেনহাইট। গ্রহটির অন্ধকার দিকটি অপেক্ষাকৃত ভাল। এছাড়া গ্রহটি শক্ত ও কঠিন হলেও ১,১০০ সেলসিয়াস বা ২,০১২ ফারেনহাইট উত্তপ্ত।

তবে জ্যোর্তিবিদরা বলছেন, নক্ষত্রের কাছাকাছি অবস্থানরত একটি গ্রহ এত বেশি উত্তপ্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক। তারা বলছেন, গঠন অনুযায়ী এটি এত বেশি উত্তপ্ত হওয়ার কথা নয়।

জ্যোর্তিবিদরা গ্রহটিতে একটি অপ্রচলিত ‘হট স্পট’ও খুঁজে পেয়েছেন।

গ্রহটির নক্ষত্রমুখী অংশ ও অন্ধকার দিকের মাঝখানে একটি উজ্জ্বল পাতলা স্তর খুঁজে পেয়েছেন জ্যোর্তিবিদরা। তারা বলছেন, সম্ভবত উত্তপ্ত গলিত লাভা এখানে অত্যন্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। পানি যেমন উত্তপ্ত হলে দ্রুত ওঠানামা করে তেমনি অদ্ভূত গ্রহটির লাভাও দ্রুত প্রবাহিত হয়।

প্রবাহিত গলিত লাভা গ্রহটির অন্ধকার অংশে শক্তভাবে আটকে যায় বলে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জ্যোর্তিবিদরা একমত হয়েছেন।

জ্যোতির্বিদ দলের প্রধান মাইকেল গিলন বলেন, ‘গ্রহটির উজ্জ্বল দিকটিতে সম্ভবত লাভার নদী আছে এবং আমরা মনে করি এই গলিত লাভা প্রবাহিত হয়ে অন্ধকার অংশে গিয়ে শক্ত আকার ধারণ করছে, যেমনটি হাওয়াইয়ে দেখা যায়’।

সবশেষে জ্যোতির্বিদরা একমত হয়েছেন, পবিত্রগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত দোযখের চিত্রের সঙ্গে গ্রহটির অনেকাংশের চিত্র মিলে যায়। যদিও তারা স্পষ্ট করে বলেননি তবে ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত এই গ্রহটির মতই হতে পারে দোযখের প্রকৃত চিত্র।

গবেষণাটি সম্প্রতি সাইন্স জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র: শীর্ষনিউজ

Advertisements