আবু জাফর মাহমুদআবু জাফর মাহমুদ:  মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে শতকরা প্রায়ই ৮৯% সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের স্থলে শতকরা ৬৫% ভাগ হিন্দুর সংখ্যা বাড়িয়ে তাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ট করার কাজ চলছে। মুসলমানের সংখ্যা কমিয়ে ৩০% পর্যায়ে নামিয়ে আনা, বৌদ্ধের সংখ্যা ৩% এবং খ্রিষ্টানের সংখ্যা ২% করার একটি ছক বাস্তবায়ন করা হবে ২০৪১সন নাগাদ। এমন ছক ধরে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ চলছে বলে গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে বারংবার। জেরুজালেম-খ্যাত আল-কুদসের জনসংখ্যার কাঠামোয় পরিবর্তন এনে শহরটিকে ইহুদিকরণের যে প্রক্রিয়া তেল আবিব চালু করেছে তারই অনুকরণ চলছে ভারত-বাংলাদেশ অঞ্চলে। এক্ষেত্রে ইজরাইলকে ভারতীয় সরকার অনুসরণ করছে নাকি ভারতকে ইজরাইল সরকার অনুসরণ করছে ওটা বলা মুস্কিল।তবে উভয় ক্ষেত্রেই টার্গেট মুসলমান।মুসলমানের সংখ্যা কমানো। বাংলাদেশে জনসংখ্যা কাঠামো পরিবর্তনের এই ভারতীয় ধরনকে দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘ইজরাইলী মডেল’ বলা যায়। অথচ মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মিল অমিলে রয়েছে অনেক ফারাক।

ভারতের স্বায়ত্বশাসনকামী এবং স্বাধীনতাকামী রাজ্যসমূহের সাথে অন্যান্যদের নড়বড়ে ফেডারেশান থাকার কারণে কংগ্রেস এবং ভিজেপি ছাড়াই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সরকার চলছে অর্ধেকের বেশী রাজ্যে। অধিকন্তু তার সীমান্তের  দুপাশে দুই ড্রাগনের ক্রমবর্ধিষ্ণু থাবার চলমানঐক্যবদ্ধ বিস্তৃতি আরো ব্যাপক হয়ে উঠছে। অথচ ইজরাইলের বাহিরে শত্রু দেশ থাকলেও তারা তূলনামূলক দুর্বল।পারস্পরিক বিবাদে এবং সঙঘাতে লিপ্ত।

এদিকে আভ্যন্তরীণ প্রশ্নে ইজরাইলী নাগরিকদের সামাজিক একতা সুদৃঢ়, মজবুত। আর্থিক বিবেচনায় ধনী।ভারতীয়দের মতো বাধ্যতামূলক অখন্ডতার গোঁজামিল নিয়ে নেই। ভারত পুরোটাই বিদ্বেষ-বৈষম্যের রোগে আক্রান্ত প্রচুর জাতি ও ভাষার মানুষের রাষ্ট্র। তাই আজ ভারতের সরকার ও একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিচ্ছে ছলনা ও শক্তিতে, যেকোন বড় ঝড়ে ভারতের হাতছাড়া হতে পারে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশী। প্রাকৃতিক নিয়মেই আসবে সেই অধ্যায়। তাই বাংলাদেশকে ঘিরে বর্তমানের উস্কানী দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী অস্থিরতার সুযোগ সাজাচ্ছে বলে লিখে রাখা যায়।

তবে প্রতিবেশী বন্ধু বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ভয়াবহ জুলুমের অজুহাত দিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশের সংবাদ এসেছে পত্রিকায়।সংবাদ পাঠকদের অনেকে এতে হাসি ঠাট্টা করেছেন, অনেকে ধরে নিয়েছেন এটি বড়শক্তির বাড়াবাড়ি।কেউ কেউ বলছেন,মানুষের মনোযোগ বিভ্রান্ত করার কৌশল এটা। তাদের এই ঢোলের শব্দ নোতুন নয়। বাংলাদেশকে হিন্দু প্রভাবিত অঞ্চলে রূপান্তরের দালালরা এখন সবসময়ের তূলনায় শক্তিশালী বলে সর্বত্রই দেখা যায়। এদেশ এক সময় ছিলো পাকিস্তানী পাঞ্জাবীদের কর্তৃত্বে ,বর্তমানে ভারতীয় হিন্দুদের। নিশ্চয়ই আবার বদলে যাবে চেহারা। অস্থির প্রকৃতির অস্থির দেশ।

একটি কট্টর হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বর্তমানে ভাব দেখানো হচ্ছে হিন্দুদের উপর জুলুম চলছে বাংলাদেশের সব সরকারের আমলের চেয়ে বেশী। বাস্তবতা হচ্ছে সম্পুর্ণ বিপরীত।প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বাংলাদেশে জুলুম এবং হত্যা গুম চলছে মুসলমানদের উপর। সেই তূলনায় হিন্দুদের কষ্ট হিসেবেই আসেনা। রাজনৈতিক পরিস্থিতির উছিলা দিয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির উপর দায় চাপিয়ে করা হচ্ছে এই নৃশংসতা।

রাষ্ট্র ও সরকারের সকল স্তরে হিসেব নেয়ার চ্যালেঞ্জ হোক,বাংলাদেশে চলছে হিন্দু কর্তৃত্বের যুগ।এই ধারা আরো নিরংকুশ করা অব্যাহত আছে।এতে সরকারের ইচ্ছা অনিচ্ছা নিয়ে আমি কিছুই বলছিনা এই প্রবন্ধে। কেননা বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল পথ অতিক্রম করছে।এই সময় সরকারকে বিব্রতকর করা ঠিক হবেনা।তারাও আছে আরেক ধরনের চাপের বিপদে।

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে,ভারতবর্ষের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কর্তৃত্বের কেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনায় মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরিবর্তে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ করার কাজ চলে আসছে দ্রুত গতি তে। বাংলাদেশের ৬টি সেনানিবাসে একসময় ভারতীয় সৈন্যদের অবস্থান থাকবে। সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে যতই হাঁকডাক দেয়া হোক,অতোদিনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান আকার হয়ে যাবে আরো ক্ষুদ্র।

এই পরিকল্পনা আকস্মিকও নয়, নতুনও নয়। বাংলাদেশকে টার্গেট করা হয়েছে ভারতের সম্প্রসারণ নীতির আওতায়। সূত্রগুলো বলেছেন,সেনা অভিযানের পরিবর্তে বাংলাদেশ দখলে রাখার এটিই উত্তম কৌশল। ভারতের বাংলাদেশ আক্রমণ কেউ মেনে নেবেনা।বরঞ্চ তখন ভারতে প্রচুর রাজ্য স্বাধীনতার জন্যে অনড় অবস্থান নেবে।অধিকন্তু চীন ও পাকিস্তান তেমন সুযোগে ভারতের চেহারা পালটে ফেলবে বলে ভয় আছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর।

কাস্মীর সমস্যা সহ অন্যান্য অঞ্চলে প্রায়ই অর্ধেক আঞ্চলিক এলাকায় মাওবাদী এবং স্বাধীনতা যোদ্ধাদের নিয়ে সমস্যাগুলোর বাস্তবতায় বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণে নেবার এই পলিসি বেশী ফলদায়ক। দালাল দিয়ে শত্রু দমন নীতি বাংলাদেশে ফলপ্রসূ হচ্ছে। ভারতের অসংখ্য নাগরিকদেরকে বাংলাদেশী নাগরিক আইডি দেয়ার কথা জানাচ্ছেন অনেকে। এসব আই ডি তৈরী করা হয়েছে ত্রিপুরা পশ্চিমবঙ্গের সেনানিবাসে কঠোর গোপনীয়তায়। একাজ এখনো চলছে বলে অনেক সূত্রের দাবি।

এদিকে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের অনেকের মতে, ‘চীনের পাশে ভারতের এই অভিলাস সফল হলে তার দুপাশের শত্রু পাকিস্তান ও চীনকে আরো ব্যালেন্স করা হবে সহজ। গোয়েন্দা সূত্র আরো জানিয়েছে, পাকিস্তান এবং চীনের মতে বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের উপনিবেশ। ভারতের ইচ্ছার বাহিরে বাংলাদেশে কিছুই হচ্ছেনা। বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারকে আপন কর্তৃত্বে পাওয়ায় ভারত আশা করছে আমেরিকার সাথে তাদের সম্পর্কের গুরুত্ব আরো বেড়েছে এবং চীনের বিপরীতে ভারতের গলা বড় করার সুযোগ এগিয়েছে’।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে চীনা প্রভাব তাড়ানোর পক্ষে মার্কিণ অবস্থান ও ভারতীয় অবস্থান একমতের হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপর ভারতীয় চাপ প্রয়োগ সহজ হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। এই অংশে আমেরিকার কাছে যা কিছু চীন বিরোধী,ঠিক একই টার্গেটে ভারতীয় দৃষ্টিতে তা পাকিস্তান-বিরোধী। ভারত চীনকে প্রকাশ্যে বিরোধীতা করার সাহস থাকার কথা নয়। পাকিস্তানী সীমান্তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও আগের মতো আর ভারত করছেনা বিরোধীতা। নেপালেও আগের দিন শেষ হয়েছে ভারতের। তাই বাংলাদেশই তাদের একমাত্র বিচরণের রাষ্ট্র বলে অনেকের বক্তব্য।

বাংলাদেশে ভারত-পন্থী বাংলাদেশী ছাড়া বাদবাকিদেরকে পাকিস্তানী বলে প্রচার করা হয়। এর মধ্যে একটা সহজ সুযোগ আছে ভারতীয়দের কাছে। এতে দলনেও সুবিধা, আঘাতেও সুবিধা। এক্ষেত্রে ভারতের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশ থাকতে হবে সম্পূর্ণ ভারতীয় তাবেদার রাষ্ট্র। উক্ত বিবেচনায় বাংলাদেশকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রূপান্তর করাই বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক-সামরিক-সাংস্কৃতিক-কূটনৈতিক অনিবার্যতা হয়েছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মুসলমান-বিরোধী শক্তিগুলোর।

পাঠকদের কাছে পরিষ্কার করতে চাই,উক্ত বিশ্লেষণ ও নীতির কথা জানানোর উদ্দেশ্য কোনভাবেই বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষ-বিপক্ষে সমর্থন অথবা বিরোধীতা দেয়া নয়। এমনকি কোন দেশের পক্ষে-বিপক্ষের হয়ে কাজ করাও নয়। গোয়েন্দা তথ্যের যতটুকু জনগণকে জানানো যায়,ততটুকুই জানানো মাত্র, মতবিনিময় করার মধ্য দিয়ে নিজের জ্ঞান সমৃদ্ধ করার উপায় মাত্র। যা সমসাময়িক ঘটনার গতি প্রকৃতি বুঝতে যদি কাজে আসে।

আমার কাছে এই তথ্য প্রথম এসেছিলো বাংলাদেশে ১/১১র পরিবর্তনের আগে। ওসব তথ্যের অনেক কিছু ইতিমধ্যে ঘটে গেছে,বাকিগুলোও ঘটছে। ঘটনাগুলোর আগে বা পরের বিষয় নির্ভর করছে, ভেতরে বাহিরের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। বিশ্বরাজনীতি বর্তমানে বাংলাদেশীদের চোখের সামনে পরিস্কার, স্পষ্ট।

আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধারা সবাই ষাট বছরের বেশী বয়সী। বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়ার রাজনীতি বনাম অন্যান্য ধরণের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কেউ যেনো আমাকে পক্ষ না করে ফেলেন।মুক্তিযুদ্ধ করেই রাষ্ট্রটা গড়েছি, এই রাষ্ট্র বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রের মতো নাগরিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে নাগরিক জীবনকে সমৃদ্ধ করুক,তা আমরা আশা করতেই পারি।

প্রিয় পাঠক,শক্তির আপন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নিজের লক্ষ্য পথে পৌঁছার অভিযানে থাকা।এই অভিযান নিরন্তর ধারায় চলে।পরিস্থিতি এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির কারণে শক্তি তার কৌশল পরিবর্তন করে মাত্র। যেমন;মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমানদের সম্পদ দখল চলছে একধরণের যুদ্ধ কৌসলে। দক্ষিণ এশিয়ায় একই ধরণের অভিযানে একই কৌশলে অভিযান চলেনা। ক্ষেত্র ও সময় ভেদে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তবতার আলোকে অপারেশন ষ্ট্র্যাটেজি নেয়া হয় ভিন্ন ভাবে। উক্ত প্রেক্ষাপটে কারা ওসব শক্তির সমর্থনে ভূমিকা নেবেন আর কারা প্রতিরোধ পক্ষ নেবেন, বিষয়টি পক্ষগুলোর বা ব্যক্তিদের স্বার্থের উপর নির্ভর করছে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশে আইন করে গরু জবাই বন্ধ করার দাবি তুলেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্ঠান ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখা। তারা ১৯৭২ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা চালু এবং ১৯৪৭ সনে হোসেন শহীদ সোহরোয়ার্দীকে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা করার দায় আরোপ করেছেন ২৮ ফেব্রুয়ারী এক সংবাদ সম্মেলনে।এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা এসেছে।প্রগতিশীল ধর্ম নিরপেক্ষ হিন্দুদের সমালোচনা হয়েছে লক্ষ্যনীয়। হিন্দু মৌলবাদের উত্থানের সমালোচনায় উত্তপ্ত হয়েছে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী সমাজ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপিকে সাইজ করবার অন্তর্বতীকাল সময়ে বঙ্গবন্ধুকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখানোর কৌশলে তার বঙ্গবন্ধুর বংশধর এবং আওয়ামী লীগকে ব্যবহার যারা করে এসছেন, তাদের কাছে অভিযানের পর্যায় পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশের মূল ভিত্তিতে আঘাত করে দূর্বল করার প্রেক্ষাপট সাজাচ্ছেন তারা আরেক ধাপ।এজন্যে বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার জনক এবং সোহরোয়ার্দিকে কলকাতায় সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিকারী রূপে এখব প্রচার শুরু করেছেন। যদিও উক্ত ভয়ানক বক্তব্যটি একজন সাধারণ কর্মীর মুখ দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে আনার ব্যবস্থা করা হলেও এটা কলকাতার হিন্দু মৌলবাদীদের এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বলে ধরে নিচ্ছেন অনেকে।

যদিও উক্ত আপত্তিকর বক্তব্যের তীব্র বিরোধীতা এড়ানোর জন্যে ২৪ঘন্টার মধ্যে ধামাচাপা দেয়ার কৌশলও নেয়া হয়েছে।কেন্দ্রীয় একজন নেতা টেলিফোন করে নাটকের দ্বিতীয় অংক করালেন নিউইয়র্কে।এই টেলিফোন বার্তা প্রেরণ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত।আমার উপস্থিতিতেই এই বার্তা দেয়া নেয়া হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে দেয়া এবং প্রচার হয়ে যাওয়া বক্তব্যের সম্পর্কে তাকে রিজয়েন্ডার দিতে আদেশ দেয়া হয়েছে।কিন্তু ঢাকার এই নেতা নিজে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বক্তব্যটির বিরোধীতা করলেন না।কেউই তা করেনি।

এমন কি যে এই বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে চিমটি পর্যন্ত দেননি। তাই দাবি করা যেতে পারে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ বক্তব্য এটি এবং তারা নিউইয়র্কে প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন বাংলাদেশের চেয়ে আরামে।আবার তারা যেনো এই হার্ডলাইন নেয়ার দায় হতে আপাততঃ নিরাপদে থাকতে পারেন,সেজন্যে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে মস্কারী করিয়েছেন নিজেদের অনুগত শিতাংসু গুহকে দিয়ে। এটিকে মস্কারি মনে করা হচ্ছে এজন্যে যে, তাদের মনোভাব পরিষ্কার হলে তারা সংবাদ সম্মেলন করেই নিন্দনীয় বক্তব্যগুলোর নিন্দা জানাতেন,যা তারা করেন নি।

হিন্দু চরমপন্থিদের একজনকে দিয়ে বক্তব্যের তীর ছোঁড়া হয়েছে,অপরজনকে দিয়ে বলা হয়েছে এই বক্তব্য হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নয়।লক্ষ্য করলে সবার বুঝা সহজ যে,যিনি জানিয়েছেন এটি আমাদের বক্তব্য নয়,তিনি কিন্তু তার বন্ধুর বক্তব্যের বিরোধিতা অথবা তার নিন্দা করেননি।অর্থাৎ বক্তব্যটি তাদের সকলের।ফলের রস পান করছেন তারা সবাই।তবে বন্ধুর ছলনায় আরো খুনজখম করার জন্যে একটু সোহাগের অভিনয় করলেন,এই যা। সেই বক্তব্য তারা দেননি অর্থ এই নয় যে, বক্তব্যটিতে তাদের মনোভাবের প্রতিফলন নেই।

সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের গুরুত্ব নিয়ে অনেকে করেন হাসাহাসি।করছেন টিটকারীও।কারো কারো মন্তব্য আসছে বেশ কড়াগোচের।হিন্দু নেতাদের মধ্যে কয়েকজন পরিস্থিতির তাপের মুখে বলছেন,এটা তাদের বক্তব্য নয়।সংগঠনের বক্তব্যও নয়।এটি নিতান্তই উক্ত গুরুত্বহীন ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত। দর্শক সারি থেকে উঠে আসা একজনের মন্তব্যে কি এসে যায়। আমেরিকা স্বাধীন মতামতের দেশ, তাই যে কেউ তার মতামত বলতে পারেন।প্রকৃতপক্ষে যাকে দিয়ে বিশেষ বক্তব্য দেয়ানো হয়েছে,তিনি যে মঞ্চে বসেই বক্তব্য দিয়েছেন এবং আয়োজকদের মধ্যে তিনিও একজন,তা উপস্থিতরা দেখেছেন। সরকারে থাকা রাজনীতিক এবং কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক হতে অনুরোধ আসছে।এসব সংকেত কিন্তু ভয়াবহতার অগ্রিম আভাস।

দলীয় রাজনীতির বিশ্বাস নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। সরকারী কর্মকর্তাদেরও দেশ এটা। তাই সবাই যেনো যার যার অবস্থান থেকে দেশের স্বার্থ রক্ষা করি।বঙ্গবন্ধুর শাসন প্রশাসনে আগোচালো অবস্থা নিয়ে আমরা সমালোচনা করি। অন্যদেরকেও সমালোচনা করতে দেখি।কিন্তু তাকে সাম্প্রদায়িকতার দায়ে অভিযুক্ত করার ভেতর যে ভয়াবহতা রয়েছে,তাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের বিষয় উঠে আসছে।এসব ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের উদ্দেশ্যে যতটুকু, তার চেয়ে বেশী বাংলাদেশকে নিরন্তর আগ্রাসনের লক্ষ্যে অজুহাত খাড়া করানো।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।

সূত্র: শেখনিউজ.কম

Advertisements