অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতাব্যক্তিগত জীবন
মেজর জলিল ১৯৪২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। জন্মের তিন মাস আগে তার পিতার মৃত্য হয়। মেজর জলিলের পিতার নাম আলী মিয়া এবং মাতার নাম রাবেয়া খাতুন। ১৯৬০ সালে তিনি উজিরপুর ডব্লিউ বি ইউনিয়ন ইনস্টিটউট থেকে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৬১ সালে মেজর জলিল রাওয়াল পিন্ডির মারি ইয়াং ক্যাডেট ইনস্টিটউশন ভর্তি হন এবং সেখান থেকে আইএ সম্পন্ন করেন এবং ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে শিক্ষানবীশ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। অত্যন্ত মেধাবী এবং চৌকস সেনা কর্মকর্তা মেজর জলিল ১৯৬৫ সালে ক্যাপ্টেন পদমর্যাদায় পদোন্নতি লাভ করেন। একই বছর পাক-ভারত যুদ্ধে ১২ ক্যাভালরি রেজিমেন্টের অধিনে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি মেজর পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। পড়ালেখার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী মেজর জলিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় ব্যাচেলর এবং ইতিহাসে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যাক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুজন কন্যা সন্তানের জনক। ১৯৮২ সালে তিনি টাঙ্গাইলে সায়মা আক্তারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সারাহ জলিল এবং ফারাহ জলিল নামে তাদের দুজন কন্যা সন্তান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে মেজর জলিল
১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৪ তারিখে অসুস্থ মাকে দেখতে মেজর জলিল তার কর্মস্থল পাকিস্তানের মুলতান থেকে ছুটি কাটাতে বরিশলে নিজ বাড়িতে আসেন। ছুটি শেষ হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে তখন তিনি নিজ কর্মস্থলে যোগদান করা থেকে বিরত থাকেন। মার্চের শেষ দিকে জিয়াউর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মেজর জলিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতি আনুগত্য ছিন্ন করে মহান মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহন করেন। বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের নিপীড়িত মানুষদের পরাধিনতা থেকে মুক্তির পণ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন স্বাধীনতা সংগ্রামে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত ১১ টি সেক্টরের মধ্যে সাহসী সেনা মেজর জলিলকে বরিশাল,ভোলা, পটুয়াখলী, ফরিদপুর এবং খুলনার কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডারের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ নয় মাস তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করেন যার মধ্যে ৭ এপ্রিল খুলনা রেডিও সেন্টার মুক্ত করার অপারেশন উল্লেখযোগ্য। অত্যন্ত দক্ষতা, সাহসিকতা এবং বীরত্বপূর্ন অবদানের মাধ্যমে তিনি যুদ্ধের শেষ দিন ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত জীবন পণ যুদ্ধ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিল তার লেখা “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” বইটিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর দলন-নিপীড়ন, লুটপাট ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বেশ খোলামেলা আলোচনা করেছেন। সত্য ইতিহাস জানতে আগ্রহী প্রতিটি জাগরিকেরই উচিত বইটি অধ্যয়ন করা।

স্কেন কপি  ও লিঙ্ক

Advertisements