12747871_1071385676216332_1500981884997986513_oসম্প্রতি সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপনগুলো খেয়াল করলে অধিকাংশ ছুটির আদেশগুলোতে দেখা যায়, প্রশাসনের আমলারা গণহারে সব ভারত গমন করছে। কেউ ছুটি কাটাতে, কেউ ভারত ভ্রমণ করতে, কেউবা চিকিৎসা করার অজুহাতে। অমুক প্রকল্পের পরিচালক, তমুক ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী ডাইরেক্টর, অমুক সচিব, তমুক উপসচিব সবাই শুধু দৌড়াছে, শুধুই ভারত দৌড়াচ্ছে। এ দৌড় ঝাপ কি শুধু্ই চিকিৎসা আর ভ্রমণের জন্য, নাকি আরো কিছু ?

সত্যিই বলতে- বাংলাদেশে অনেক মন্ত্রী-মিনিস্টার আছে। এদের প্রত্যেকের দিন চলে যায় সভা-সমাবেশ আর সেমিনার-সিম্ফোজিয়ামে হাজিরা দিতে। প্রকৃতপক্ষে পর্দার আড়ালে থেকে দেশ চালায় কিন্তু আমলারা। সেই আমলারা যখন পার্শবর্তী আগ্রাসী রাষ্ট্রের নিয়মিত দৌড়ঝাপ লাগায়, তখন সত্যিই সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
হিসেব কষলে অনেক কিছুই বের হয়ে আসে। চলতি বছর (জানু-ফেব্রু) ৬ জন উপসচিবের ছুটি মঞ্জুর হয়, এর মধ্যে ৫ জনই ভারত যাওয়ার উদ্দেশ্যে, একজন শুধু ভুটানের উদ্দেশ্যে আছে, তবে এটা সবার জানা বর্তমানে ভারত-ভুটান একই জিনিস, একই ভিসা। যুগ্মসচিবের ক্ষেত্রে একই জিনিস, ১৪ জন ভারত যাওয়া লিস্টে, এর মধ্যে ৮ জন শুধুই ভ্রমণের নামে। এর মধ্যে হিন্দু-মুসলমান উভয়ই আছে।
(বিষয়গুলো খোজ নিতে আপনিও গভঃঅর্ডারগুলো দেখতে পারেন-
ক) http://www.mopa.gov.bd/en/home/govtorder/22
খ) http://www.mopa.gov.bd/en/home/govtorder/23)

যদিও এ ছুটি কাটানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ্য আছে ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসা। তবুও এ ধরনের অজুহাত মানতে নারাজ। কারণ শুধু ভ্রমণ ও চিকিৎসার জন্য গণহারে ভ্রমণ সত্যিই সন্দেহজনক, বিশেষ করে যে কর্ণধারদের উপর নির্ভর করছে গোটা বাংলাদেশ, সেখানে ভারতে গণহারে যাওয়া কি সত্যিই ‘এমনি এমনি’। হতে পারে-

১) ভারতের পক্ষ থেকেই তাদের দাওয়াত দিয়ে নেয়া হচ্ছে, ব্রেইন ওয়াশ করার জন্য, দালাল বানানোর জন্য। এজন্য দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যে কাজটি করা হয়- নির্দ্দিষ্ট স্বার্থ হাসিলের জন্য টাকার অফার দেওয়া অথবা মদ-নারী দিয়ে গোপনে অন্তরঙ্গ বিষয়গুলো ভিডিও করে রাখা হয়, পরে সেগুলো দিয়ে ব্ল্যাক মেইল করা। এক্ষেত্রে ঐ আমলাকে নাকে রাশি দিয়ে ধরে ভারত তার বহু স্বার্থ আদায় করে নিতে পারে।

২) অনেক আমলা নিজ থেকেই ভারত যায় সংযুক্তি ঠিক রাখতে। ভারতীয় লবিং ব্যবহার করে তদবির করে, যেন দ্রুত তাদের প্রমশন/বদলি হয়। তবে এক্ষেত্রে নাকে খত দিয়ে চিরস্থায়ী ভারতীয় দালালে পরিণত হতে হয়। ‘গিভ এন্ড টেক’ এখানে শর্ত ।
(উল্লেখ্য বিষয়টি সপক্ষে একটি দলিল হতে পারে দৈনিক ইনকিলাবের একটি খবর- “মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হতে ভারতীয় হাইকমিশনেএমপিদের দৌড়ঝাঁপ !!” (সূত্র দৈনিক ইনকিলাব, 2014/01/09/)

সত্যিই বলতে আমলাদের গণহারে ভারত গমণের বিষয়টি একটি ভয়ঙ্কর উদ্বেগজনক খবর। যারা রাষ্ট্রের চাবিকাঠি হাতে নিয়ে বসে থাকে, তারাই যদি গোপনে ভারতে গিয়ে বিক্রি হয়ে আসে, দালালির এজেন্সি নিয়ে আসে তবে আপনি বাঁচবেন কিভাবে ?
মনে রাখবেন- এ দালাল আমলা প্রশাসনের চেয়ারে বসে কখনই দেশের স্বার্থরক্ষা করবে না, স্বার্থরক্ষা করবে ভারতের। দেশের প্রত্যেকটি বিষয় এরা কৌশলে ঝুলিয়ে দেবে ভারতের ইচ্ছার উপর। ভারত সরকারের আর কষ্ট করে বাংলাদেশে র’ এর সদস্য পাঠাতে হবে না, খোদ বাংলাদেশের আমলারাই হবে এক একটি র’য়ের পাক্কা এজেন্ট। সামান্য কিছু টাকার জন্য এরা মীর জাফরের মত বিক্রি করে দেবে বাংলাদেশকে, বাংলাদেশ হবে সিকিমের মত ভারতের নতুন অঙ্গরাজ্য !

মনে কষ্ট, চিন্তায় ভয়, তবুও যে বলতে হয়-
“বাংলাদেশ সিকিম হতে আর কত দেরী ?
আর কত দেরী ? হে পাঞ্জেরী”।

সূত্র: Noyon Chatterjee Returned

Advertisements