সম্প্রতি বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে যে হিন্দু পুরোহিত খুন হয়েছে সে ছিলো বৈষ্ণব শ্রেণীর হিন্দু। বৈষ্ণব হচ্ছে হিন্দুদের মধ্যে এক ধরনের ফেরকা, যাদের মূল নীতির সাথে সনাতন হিন্দুদের কোন মিল নেই। পঞ্চগড়ে নিহত পুরোহিত ছিলো গৌড়িয়, এরা ও ইসকন সমগোত্রীয়। এরা সবাই চৈতন্যের মতবাদে বিশ্বাসী। চৈতন্য ছিলো গোড়া মুসলিম বিদ্বেষী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক, তার একটি বাণী ছিলো – নির্যবন করো আজি সকল ভুবন, অর্থাৎ সারা পৃথিবীকে মুসলিমমুক্ত করো।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বৈষ্ণব হিন্দু, ইসকন ও তাদের সমগোত্রীয়রা (হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু, বেদান্ত ইত্যাদি) কট্টর বাংলাদেশ বিরোধী, এরা বর্তমান আওয়ামী সরকারেরও বিরোধী। এরা অনেকটা উপজাতিদের মত, টার্গেট বাংলাদেশে পৃথক হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

এর প্রমাণ অবশ্য মিলেছে, এদের একজন মারা যাওয়ার সাথে সাথে কথিত আইএস দায় স্বীকার করেছে, তাও আবার সাইট ইন্টেলিজেন্স নামক একটি গ্রুপের মাধ্যমে। একই সাথে নিন্দা জানিয়েছে ইইউ-ব্রিটেন-ভারত। এগুলো আসলে বৈদেশিক লবিং। সাইট ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে বেশি কিছু বলার দরকার নাই, সংস্থাটি মূল রিটা কাটজ নামক এক ইহুদী ইসরাইলী নারী। যে দেশ দখল করতে ইচ্ছা হয় তাদের, সে দেশে এই সংস্থাটি আইএস নামক দলটির গন্ধ ছড়িয়ে দেয়, ব্যস সেই অজুহাতে শুরু হয় মার্কিন হামলা। বাংলাদেশেও একই ঘটনার ঘটনানোর চেষ্টা করছে তারা।

হিন্দু পুরোহিত মরার পর ইসকন ও তার সমগোত্রীয়দের অত্যধিক লাফালাফি প্রমাণ করেছে- আসলে তাদের উদ্দেশ্যটা কি ? তারা যদি বাংলাদেশের ২-৩% হয়, তাহলে ১০০ জন্য ব্যক্তি মরে গেলে তার মধ্যে তাদের সংখ্যাও তো ২-৩% শতাংশ থাকা যুক্তিযুক্ত হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু সেই এক-দুইজন মরলেও তারা এ সাম্প্রদায়িক আন্দলোন শুরু করে। যদিও এটা তারা সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড বলে প্রচার করে, তবে বুঝতে হবে সাম্প্রদায়িকতা তাদের অন্তরে লুকিয়ে আছে, বাহিরে নয়।

ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিবি পুলিশ প্রধান অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন- এটা সাম্প্রদায়িক কোন হত্যাকাণ্ড নয়, এটা খুবই ভালো হয়েছে। তবে একটা ক্ষেত্রে ভুল করে প্রশাসন সব সময়, এসকল বৈদেশীক ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্জে রাজনীতিকরণ করে, এটা না করে উচিত ছিলো প্রকৃত হত্যাকারীর পরিচয় ফাস করে দেওয়া। এটা সবারই জানা, হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে সব সময় মুসলমানদের উপর দোষ চাপায়, এটা তাদের দোষ নয়, দোষ রক্তে অতি মাত্রায় সাম্প্রদায়িকতার স্যাচুরেশন। এ সকল বানানো ঘটনাকেই পূজি করে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, মুসলমানদের ঘাড়ে দোষ চাপায়।

উল্লেখ্য বিষ্ণব বিশেষ করে ইসকনীরা যে পশ্চিমাদের দালাল এটা সবাই জানে। আবু রুশদের লেখা ‘বাংলাদেশে র’ বইতে পড়েছিলাম, সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিলো- ইসকন হচ্ছে ইহুদী সংগঠন। এ সংগঠনগুলো মূলত মিশনারী বা এনজিও টাইপের, হিন্দুদের মধ্যে নব্য ফেরকা। সনাতনদের সাথে এদের কোন সম্পর্কই নেই, এদের নেতা প্রভুপাদ আমেরিকা থেকে এ নব্যমতবাদের জন্ম দিয়েছে, যে হিন্দুদের কোন প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেনি, করেছে খ্রিস্টানদের মিশনারীতে। হিন্দু ধর্মকে পরিবর্তন করে একটি নতুন ফেরকা তৈরী করা এদের উদ্দেশ্য। একই সাথে বিাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রমে সিআইএসকে সাহায্য করা এবং নতুন উপলক্ষ্য তৈরী করে দেওয়া এদেদের কার্যক্রমের অংশ।

আমার মনে হয়, হিন্দুরা পঞ্চগড়ের ঘটনা নিয়ে যেভাবে ব বাংলাদেশেবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে সেটার একটা বিহিত হওয়া উচিত। এবং প্রকৃত খুনির নাম প্রকাশ করে হিন্দুদের রাষ্ট্রদ্রোহীতার গোমর ফাস হওয়া উচিত।

সবাইকে ধন্যবাদ।

সূত্র: Noyon Chatterjee Returned

Advertisements