12729056_1070582536296646_4368163085193608555_n (1)আগে নাম ছিলো ’ আর এখন ‘জাহাঙ্গীরনগর হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়’‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি খবর শোনা যাচ্ছে, খবরটি হলো- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের কার্পেট নিয়ে পূজা মণ্ডপে ব্যবহার করেছে হিন্দুরা। এ কাজটি করতে তারা মসজিদে কারো কাছে অনুমতি পর্যন্ত নেয়নি। ইচ্ছা হয়েছে, তাই মসজিদের কার্পেট নিয়ে গেছে এবং ব্যবহার শেষে ফের মসজিদের বারান্দায় ছুড়ে ফেলে গেছে। (http://goo.gl/gCxD2l)
আসলে এ ধরনের খবর দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই, জাহাঙ্গীরনগরের বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে এটি খুবই স্বাভাবিক। এবং সত্যিই বলতে- মসজিদ থেকে বিনা অনুমতিতে কার্পেট নিয়ে মন্দিরে ব্যবহার করা সেই পরিস্থিতির একটি ক্ষুদ্র নিদর্শন মাত্র।
মুসলিম ছাত্রদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে- জাবিতে হিন্দুদের বেপরোয়া কার্যক্রম এতটাই বৃদ্ধি হয়েছে যে, অনেক মুসলিম ছাত্রকে জোর করে পূজা পর্যন্ত করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যেমন- ৩ বছর আগে এক সরস্বতী পূজার রাতে পূজা কমিটি হলগুলোতে ভিজিটে বের হয়- কে কে পূজা করে নাই তা দেখতে। তারা আল বিরুনী হলে এসে মহসিন নামক এক ছাত্রকে পায়, যে সরস্বতী পূজায় যায়নি। ব্যস সে মহসিন নামক মুসলিম ছাত্রের উপর শুরু হয়ে যায় নির্যাতন।পূজায় না যাওয়ার শাস্তিস্বরূপ হলে সবার সামনে মহসিনের সকল কাপড় খুলে ফেলা হয়। এরপর শুধু গামছা পরিয়ে মাঘ মাসের তীব্র শীতের রাতে ফ্যান চালিয়ে দাড় করে রাখা হয়।
উল্লেখ্য জাবিতে সংস্কৃতিবাদী বামপন্থীদের একটি বড় অংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর অন্তর্ভূক্ত।তারা মুসলিমদের ধর্মের কথা আসলে সেক্যুলার ভান ধরে সেটাতে বাধা দেয়, অথচ তাদের হিন্দুয়ানীর সকল কার্যক্রম ১০০ তে ১০০ পালন করে ও সবাইকে পালন করতে বাধ্য করে।
তবে বর্তমানে জাবিতে হিন্দুত্ববাদী কার্যক্রম ব্যপকহারে মাথাচাড়া দেওয়ার অন্যতম কারণ প্রক্টর হিসেবে অধ্যাপক তপন কুমার সাহাকে নিয়োগ। উল্লেখ্য তপন কুমার সাহা উগ্রহিন্দুত্ববাদী হিসেবেই অধিক পরিচিত। ভার্সিটিতে সকল মুসলিম বিরোধী কার্যক্রমকে ধামাচাপা দেওয়ার মূল হোতা এই তপন কুমার। জানা গেছে, নিজের প্রভাব বিস্তার করার জন্য সে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিঠুন কুমার নামক এক উগ্রহিন্দুত্ববাদী ছাত্রকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, উদ্দেশ্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুত্ববাদ স্থায়ী করা। ইতিমধ্যে সে লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়ে গেছে।
জানা গেছে জাবিতে হলগুলোতে হিন্দুত্ববাদের দায়িত্ব নিয়েছে ‘সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ’ নামক একটি সংগঠন। এরা প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধা থেকে প্রত্যেক হলে হলে হিন্দুত্ববাদীদের নিয়ে রুদ্ধদার মিটিং শুরু করেছে। উল্লেখ্য গত ২ বছর যাবত জাবিতে ইসলামীক অনুষ্ঠান উঠে গেছে বললেই চলে। আগে হল প্রভোস্টের উদ্যোগে প্রত্যেক হলে হলে বিভিন্ন ইসলামী দিবস (শবে বরাত, শবে কদর) পালন করা হতো, কিন্তু এখন সব বন্ধ। তার বদলে প্রত্যেক হলে পুরোদ্যোমে চালু হয়েছে সরস্বতী পূজা, দূর্গা পূজা, কালী পূজা, দিপাবলী, হলি পূজাসহ বারো মাসে তের পূজা। প্রত্যেক অনুষ্ঠানে প্রত্যেক হলে আলাদা আয়োজন থাকছে, সাজানো হচ্ছে পুরো হল। অনেক ক্ষেত্রে হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সে বিশাল খরচও বহন করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে জাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নির্মাণ শুরু হয়েছে বিশাল মন্দির। এছাড়া নতুন রবীন্দ্রনাথ হলকে ঘিরে চলছে হিন্দুত্ববাদীদের বিশেষ প্ল্যান।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭০ সালে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ছিলো জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৩ সালে ভার্সিটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, নতুন নাম করা হয়- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বর্তমানে ভার্সিটিতে হিন্দুত্ববাদীদের স্বৈরাচারী কার্যক্রম, মুসলমানদের কোনঠাসা অবস্থা এবং রমরমা পূজা-অর্চনার কারণে ভার্সিটির এ নামটিও পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়ে উঠছে, এক্ষেত্রে নতুন নাম হতে পারে- ‘জাহাঙ্গীরনগর হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়’।
সবাইকে ধন্যবাদ।
সূত্র: www.noyonchatterjee.com
Advertisements