Mahfuz Ullahবাংলাদেশের  দু’দফার উপজেলা নির্বাচনে আবার প্রমাণিত হয়েছে যে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনো কাজ হবে না এবং দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না। তারপরও প্রথম এবং দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের কোনো অবস্থান নেই। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে রেডিও তেহরানের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মাহফুজউল্লাহ।

পুরো সাক্ষাতকারটি উপস্থাপন করা হলো 

রেডিও তেহরান:  ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দ্বিতীয় দফার উপজেলা নির্বাচন। প্রথম দফার নির্বাচনের মতো এবারও জনগণের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে যেটি ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে একেবারেই দেখা যায়নি। দু’টি নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণের এই তারতম্যটি কী কী কারণে হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?

মাহফুজউল্লাহ: প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনের পর দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জনগণের আগ্রহ থাকলেও তাদের সেই আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোটা অত্যন্ত বিপদসঙ্কুল ছিল। কারণ প্রথম দফার উপজেলা নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার জন্য এবং পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সরকার দলীয় বা সমর্থিত প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস, নির্যাতন, ভোটকেন্দ্র দখল, সিলমারা, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের সে হামলার পরিণতিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে; এমন ঘটনা এর আগে ঘটেনি। প্রথম দফার নির্বাচনে বিএনপির সাফল্য পরবর্তী পর্যায়ে অর্থাত তৃতীয় বা চতুর্থ দফার নির্বাচনে বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। কারণ প্রথম দফা নির্বাচনে বিএনপির এই চমক দেখানো সাফল্য আশা করেনি সরকার। বিএনপি প্রথম দফার নির্বাচনে শত প্রতিকূলতা সত্বেও চমক দেখানো সাফল্য দেখিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে জনগণ বিএনপিকে নির্বাচনী বৈতরণীতে পার হতে দেখতে চায় এবং এইমুহুর্তে তারা বিএনপির সঙ্গে আছে, তাদের নীতি আদর্শের সঙ্গে আছে। তবে এটা স্থায়ী প্রক্রিয়া নয়; কিন্তু এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগের অত্যাচার নিপীড়নসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জনগণ এতই বিরক্ত, বিক্ষুদ্ধ এবং অসন্তুষ্ট যে তারা আগামী দিনে বিএনপিকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় এবং স্থানীয় সরকারেও তারা বিএনপির নেতৃত্বকে গ্রহণ করতে চায়।

আর পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচনে আসলে  জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না একথা দেশের সবাই জানেন। বিশেষ করে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা গেছে যে ভোট কেন্দ্রে ভোটার নয় কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও পরবর্তীতে সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ভোটার উপস্থিতি চল্লিশ ভাগ বলে দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণ দেখেছেন যে আসলে শতকরা কতভাগ মানুষ ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে! বিএনপিসহ ১৯ দলীয় জোট এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ফলে উপজেলা নির্বাচনে বেশি মানুষ ভোট দিয়েছে। আর এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আমার ধারণা গড়ে ৫৫ থেকে ৬৫ ভাগ জনগণ ভোট দিয়েছে। আরেকটা বিষয় উপজেলা নির্বাচনকে যদিও আমরা নির্দলীয় বলার চেষ্টা করি কিন্তু আসলে এ নির্বাচনে লড়াই হয়েছে রাজনৈতিক। সেক্ষেত্রে যদি কেউ মনে করে যে উপজেলা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে অথবা তৃণমূল পর্যায়ে- সেক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের কোনো অবস্থান নেই। সরকারের অবস্থান একেবারেই বিপরীতমুখী অর্থাত যারা বিরোধী দলে আছেন তাদের পক্ষেই এখন জনমত।

রেডিও তেহরান: আপনি উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটের অংশগ্রহণের কথা বললেন। এ প্রসঙ্গে যে প্রশ্নটি বারবার সামনে আসছে তা হচ্ছে- যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে করতে পারবে না বলে ১৯ দলীয় জোট অভিযোগ করল সেই সরকার ও কমিশনের অধীনে তারা কীভাবে ভাবছে উপজেলা নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে?

মাহফুজউল্লাহ:  না; তারা এমনটি আশা করেনি যে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দল দুটি জিনিষ প্রমাণ করেছে। একটি হচ্ছে সবাই বলছিলেন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি নিশ্চহ্ন হয়ে গেছে। তাদের আর উঠে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। আর সেটি বিএনপি প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা খুব স্বল্পতম সময়েই চমক লাগানো সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে- উপজেলা নির্বাচনের এই দুটি দফায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে  বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনো কাজ হবে না এবং দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না।

পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচনে বিরোধী দল অংশগ্রহণ করলে কি হতো সেটি আমরা পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দেখছি। অনেক মন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল পাওয়া যেত। তার মানে সরকার আগেই ঠিক করেই রেখেছিল যে বিএনপি নির্বাচনে  আসবে এবং যেকোনো মূল্যে তাদেরকে পরাজিত করা হবে। ফলে বিএনপি হবে বিরোধী দল। বিএনপির জন্য এখানে আরেকটি অসুবিধা ছিল। বিএনপি হেরে গেলে ‘অল ইনক্লুসিভ ইলেকশন’ হয়েছে এই ধুয়ো তুলে অন্যরা বলত যে হ্যাঁ এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এভাবে এটা ওটা নানা ধরনের যুক্তি দেখাত। আর বিএনপি তখন যদি আন্দোলন করত তখন অন্যরা বলত তোমরা এখন কেন আন্দোলন করছ; তোমরা তো নির্বাচনে গিয়েছিলে। আর যেটুকু অনিয়ম হয়েছে এ ধরণের অনিয়ম সব সময় হয়ে থাকে। ফলে আমি মনে করি যে পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্য দল যারা অংশগ্রহণ করেনি-তারা ভুল করেনি।

রেডিও তেহরান:  আপনি জানেন যে, প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনের এ ফলাফলের পর সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সরকারের অধীনে যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনগুলোতেও একই বিষয় প্রমাণিত হয়েছিল। এমনকি একজন মন্ত্রী বলেছেন, নাকে খৎ দিয়ে বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে এসেছে। ক্ষমতাসীন দলের এই যুক্তিকে ১৯ দলীয় জোট কীভাবে খণ্ডন করবে?

মাহফুজউল্লাহ: দেখুন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে আমি খুব একটা আলোচনা করতে চাই না। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী  তুই তোকারি থেকে শুরু করে যে ভাষায় কথা বলেন, যে ধরণের অশোভন ভাষা ব্যবহার করেন সেটা সম্ভবত আলোচনা করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের শিক্ষা এবং মনোজগত গঠনের কথা বলেন। অথচ টেলিভিশনে তার যেসব বক্তব্য  প্রচারিত হয় তা শোনার পর দেশের আগামী প্রজন্ম কী জিনিষ শিখবে; কি সংস্কৃতি লালন করবে সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যায়। আর অন্যান্য মন্ত্রীরা যা বলছেন তা তাদের ক্ষমতার আস্ফালনমাত্র।

রেডিও তেহরান:  উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দফার ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতর ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং  পরের দফার নির্বাচনগুলোতে তা শুধরিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। তো প্রশ্ন হচ্ছে- উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের এই  বিপর্যয় সরকারি দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা নাকি জনগণের ভিন্ন সিদ্ধান্ত?

মাহফুজউল্লাহ: মোটেই সরকারি দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা নয়। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যেমন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল বরং জামায়াত বা জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল না। তবে জাতীয় পার্টি তো এখন আলোচনার বাইরে চলে গেছে। কারণ তারা এখন জনগণের রাডারের বাইরে অবস্থান করছে। দুই দফার উপজেলা নির্বাচনে তারা একটি করে আসন পেয়েছে। তাদের রাজনীতি নিয়ে এখন ভিন্ন চিন্তাভাবনা করা উচিত। তাদের একাংশের হয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে যাওয়া উচিত। আর অন্যরা যারা সরকারের সঙ্গে মিশে যাওযার পক্ষে না; তাদের উচিত বিরোধী দলের যেকোনো একটির মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার পরও এবং বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নিজেদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কলহ থাকার পরও তারা সফলতা দেখিয়েছে। কাজেই আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা; তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা নয়; এটা খুব স্পষ্টভাবে জনমতের বহিঃপ্রকাশ। জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে আর তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে ভোটের রায়ে।

রেডিও তেহরান: প্রথম দফা নির্বাচনের আগে সরকারি দলের কোনো কোনো নেতা বলেছিলেন, বিএনপিকে খালি বাক্স নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে। নির্বাচনের পর ফলাফল নিয়ে যখন বিএনপি উচ্ছ্বাস করছে তখন আবার বলা হলো –এটুকুতে এত উচ্ছ্বাসের কি আরো কয়েক দফা বাকি। আসলে এধরনের কথা বলার মধ্যে কি কোনো ইঙ্গিত আছে?

মাহফুজউল্লাহ: জ্বি, এখানে সরকারি দলের উদ্দেশ্য পরিস্কার। অবশ্যই তাদের নানা ধরণের বক্তব্যে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে। কারণ আমি প্রথম দফা নির্বাচনের পর বলেছিলাম এটা বিএনপির জন্য কাল হলো। পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল যে কোনোভাবেই হোক বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে দে’য়া হবে না বা দে’য়া যাবে না। একই বিষয় উপজেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ প্রথম দফা নির্বাচনের তুলনায় দ্বিতীয় দফায় সহিংসতা অনেক বেশি হয়েছে। আর দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে বিএনপির বিজয় বা সরকারি দল থেকে এগিয়ে থাকা তাদের জন্য আগামীতে আরো কাল হতে পারে। তবে আমি জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি এবং আশাকরি জনগণ তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ের নির্বাচনে সরকারের অপকর্ম এবং ক্ষমতাসীন দলের ষড়যন্ত্র রুখে দেবেন।

রেডিও তেহরান: অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশ উত্তাল হবে। এরই মধ্যে দু’দফার উপজেলা নির্বাচনে কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। তাহলে কি এবার উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আবার  দেশ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে?

মাহফুজউল্লাহ: এ বিষয়টি নিয়ে আসলে আমাদের পক্ষে ব্যাখ্যা করাটা খানিকটা মুশকিল। তবে আমি সব সময় যেটা বিশ্বাস করি সেটা হচ্ছে যে, যে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা যেসব বক্তব্য দেন তারমধ্যে তিনটি অংশ থাকে। একটি হচ্ছে নিজেদের দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিরোধীদের প্রতি চোখ রাঙানো। আর তৃতীয়টি হচ্ছে মূল কথা। কাজেই রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যকে তিনভাগে ভাগ করে তাদের বক্তব্যের মূল অর্থটা বের করা সহজ হয়।

রেডিও তেহরান:  সবশেষে আমরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একটি প্রশ্ন করবো। সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উপজেলা অকার্যকর হয়ে রয়েছে। এমনকি উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার মহাপ্রস্তুতি নিয়ে ২০০৯ সালে নির্বাচন হওয়ার পরও কিন্তু এ পরিষদকে কার্যকর করা হয়নি। তারপরও এরকম একটি মরা ও অকার্যকর পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের মধ্যে এতখানি সাড়া পড়ে যাওয়ার কারণ কি? অনেকে বলছে, পাতানো সংসদ নির্বাচন থেকে ভিন্নদিকে দৃষ্টি ঘোরাতেই সরকার উপজেলা নামক নির্বাচন নিয়ে খেলছে। আপনার কি মনে হয়?

মাহফুজউল্লাহ: দেখুন সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সরকার নির্বাচন দিয়েছে। তাছাড়া উপজেলা নির্বাচন স্থানীয় সরকারের অধীনে। আপনি যেকথাটি বললেন যে পাঁচ তারিখের পাতানো সংসদ নির্বাচন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নদিকে ঘোরাতেই উপজেলা নির্বাচন দেয়া হয়েছে, অনেকটা তাই। কারণ তারা ভেবেছিল পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচনের কলঙ্ককে এই নির্বাচনের মাধ্যমে মুছে ফেলতে পারবেন। এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সারা বিশ্বকে তারা দেখানোর চেস্টা করবেন যে তারা সত্যি সত্যি জনপ্রিয়। সরকারের সেই ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনাটি নস্যাত হয়েছে।

এছাড়া উপজেলা কাঠামোকে যদি আমরা পরিবর্তন না করি তাহলে এটি একটি নিষ্ক্রিয় বা অর্থহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। কারণ ওখানে যেভাবে জাতীয় সংসদ সদস্যদেরকে উপদেষ্টার পদ দেয়া হয়েছে এবং সেই উপদেষ্টার আদেশ ছাড়া উপজেলা কোনো কাজ করতে পারবে না। তো এরফলে উপজেলা পরিষদের আসলে কোনো কর্মকাণ্ড থাকে না।

আর তৃতীয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে- এবার বহু জায়গার উপজেলা চেয়ারম্যানরা ক্ষমতাসীন দলের এমপির সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে বিপরীতমুখী। অন্যদিকে ভোটারবিহীন ১৫৩ টি আসনে যারা এমপি হয়েছেন সেইসব এলাকায় যারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন তারা বলবেন আপনি তো ভোটার ছাড়া এমপি হয়েছেন, আর আমি তো জণগনের ভোটে পাস করা চেয়ারম্যান-ফলে সেখানে একটা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে।

আর সবশেষে যে কথাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে, তত্ত্বগতভাবে এবং সাংবিধানিকভাবে  আমাদের যারা সংসদ সদস্য তাদের হওয়া উচিত লেজিসলেটার- গম ডিস্ট্রিবিউটর নন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সংসদ সদস্যরা লেজিসলেটার না হয়ে গম ডিস্ট্রিবিউটর হয়েছেন। আমি এটি রূপক অর্থে বললাম। আর এসব কারণে নানাবিধ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা তাদের ক্ষমতা ছাড়তে চান না। তবে যত দ্রুত সংসদ সদস্যরা তাদের ক্ষমতা ছাড়বেন ততোই দেশের জন্য মঙ্গল এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সংবিধানের জন্য মঙ্গলজনক।

সূত্র: রেডিও তেহরান

Advertisements