MR Manna২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর অনেকের ভ্রু কুঁচকে গেছে। অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামী এত বড় বিজয় অর্জন করল! এও কি সম্ভব?

ইতোমধ্যে দুই ধাপে ২১২টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি (অন্যরকম হিসেবে ২১টি) উপজেলা পরিষদে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন ৫৭ জন আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২১ জন। নিঃসন্দেহে জামায়াতে ইসলামীর জন্য এটি একটি বড় বিজয়। কারণ গতবার সব উপজেলা মিলে জামায়াত সমর্থিতরা বিজয়ী হয়েছিলেন মাত্র ১৩টি উপজেলায়। আর এবার যে ফলাফলের কথা আমি বললাম তা হচ্ছে মাত্র ২১২টি উপজেলার। আরও ২৪৯টি উপজেলা নির্বাচন এখনো বাকি আছে। বলাবাহুল্য, জামায়াতের এই বিজয়ীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

বিশ্লেষকদের অনেকেই বলেছেন, এই ফল অপ্রত্যাশিত। সাধারণভাবে দেখলে এই রকম বলার যুক্তি হয়তো আছে। কারণ এই সাধারণরা সব সময় আসলে সাধারণ নয়। মাঝে মাঝে অসাধারণ, মাঝে মাঝে অন্ধ। দেখেও দেখেন না। অথবা না দেখার ভান করেন। এ কথা বলছি এ কারণে যে, এই ঘটনা তো ঘটেছে এবং যা ঘটেছে তা তো বাস্তব। প্রথম পর্যায়েও যে ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল তাতেও কি এরকম লক্ষণ স্পষ্ট ছিল না। আমরা যদি তা দেখেও না দেখি, না দেখার ভান করি তা হলেই কি তা অবাস্তব হয়ে যাবে?

আমি যদি আজকে এরকম করে প্রশ্ন করি কেন মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করবে না, কেন তারা আওয়ামী লীগকে পছন্দ করবে, তার জবাব কি? আওয়ামী লীগকে পছন্দ কিংবা অপছন্দ করার ২০-৫০টি কারণ থাকতে পারে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামকে অপছন্দ করার কারণ তো প্রধানত একটি মানুষের বিবেচনায় এসেছে। অথবা আনা হয়েছে। আর তা হলো জামায়াতে ইসলামী আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিরোধিতা করেছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল। সে জন্য তাদের বিচার করুন। কিন্তু আমরা তো জামায়াতে ইসলামী সংগঠনটির কোনো বিচার করছি না। কতিপয় যুদ্ধাপরাধীর বিচার করছি। লক্ষ করা দরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এ বিষয়টি তাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে এনেছিল এবং জনগণ তাদের ভোট দিয়েছিল। তো সেই বিচারের অবস্থা কি? কতজনের বিচার হয়েছে? কতজনের বিচার হবে? সরকারের কাছে কি কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে? নাকি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে থাকবে এটা? তাই কি হয়? ইতোমধ্যে বিচারব্যবস্থা বিলম্বিত হচ্ছে বলে প্রশ্ন উঠেছে। বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কোনো কোনো মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। এসব কিছু প্রকারান্তরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে চলে যাচ্ছে। যেহেতু যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তারাই অভিযুক্ত হচ্ছে বেশি।

প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার পর থেকেই জামায়াত প্রশ্নটি যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি বাংলাদেশের রাজনীতি, বিশেষ করে বড় দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। জামায়াতের আমির গোলাম আযমকে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং আদালত তার নাগরিকত্ব বহাল করেছেন। আওয়ামী লীগ বিএনপির এসব রাজনৈতিক পদক্ষেপকে বিরোধিতা করেছে, কিন্তু যখন বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রশ্ন উঠেছে তখন জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করতে দ্বিধা করেনি তারা। আজ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে সেই যুগপৎ তৎপরতার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেনি তারা। পরবর্তীতে জামায়াতের সঙ্গে সেই আন্দোলনের বাস্তবতা যখন আর থাকেনি তখন ধর্মীয় মৌলবাদের দিক থেকে আরও কট্টর খেলাফতে মজলিসের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এখন যে আওয়ামী লীগ জামায়াতের বিরোধিতা করে তা কোন যুক্তিতে? কোনো আদর্শগত ব্যাপার কি আছে? কেবল যুদ্ধাপরাধ? সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে সাজা দিয়ে দিক আওয়ামী লীগ। তার পর জামায়াতকে নিয়ে কি করবে তারা? এই যে সম্প্রতি আমরা দেখলাম জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোট করলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাতে কি কোনো দোষ হলো না। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুব-উল আলম হানিফ জামায়াতের এক নেতাকে দলে যোগ দেওয়ালেন সে সম্পর্কে দলের বক্তব্য কি? হানিফ এবং তার সহযোগীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, এরা তো আর যুদ্ধাপরাধী নয়। দল কি এটাকে ঠিক মনে করে? তার মানে ৫/১০/৫০ জন যুদ্ধাপরাধীর যদি ফাঁসি হয়ে যায় তারপরে যারা থাকবে তারা যদি জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার নিয়ে কাজ চালিয়ে যায় তাতে আওয়ামী লীগের আপত্তি নেই।

এরকম অবস্থায় পড়লে সত্যি সত্যি জামায়াতে ইসলামী কি করবে? তাদের এক নেতার ফাঁসি হয়েছে, এক নেতা ফাঁসির নির্দেশ পাওয়ার পরে পুলিশের পাহারা থেকে পালিয়ে গেছেন। মূল নেতা দলের আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে ৯৩ বছর বয়সে, সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় কার্যকর হবে (কিংবা হবে না)। এর পরে আরও যদি পাঁচ-দশজনের ফাঁসি হয় সরকার পক্ষের বিবেচনায় কি বলে জামায়াতে ইসলামী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে? পাঠকদের আমি মিসরের মুসলিম ব্রাডার হুডের ইতিহাস পড়ে দেখতে অনুরোধ করব। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো দল ৭০-৭৫ বছর নিষিদ্ধ ছিল, দলের শীর্ষস্থানীয় ১৫-১৬ জন নেতার ফাঁসি হয়েছে, তারপরেও বিগত নির্বাচনে তারা সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে মিসরে আবিভর্ূত হয়েছে।

আমি মুসলিম ব্রাদার হুডের সঙ্গে জামায়াতের তুলনা করছি না; কিন্তু আমাদের দেশের দুটি বড় দলের ক্ষমতার লিপ্সায় লড়াইয়ে জামায়াত সব সময় সুবিধা পেয়েছে, শক্তি অর্জন করেছে।

জামায়াত কি একটি গণতান্ত্রিক দল? এ প্রশ্ন তোলা অবান্তর। কারণ পাল্টা প্রশ্ন উঠতে পারে আওয়ামী লীগই কি একটি গণতান্ত্রিক দল? আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে জোট সরকার এখন ক্ষমতায় আছে সেটি কি একটি নির্বাচিত সরকার? প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে এই সরকার বৈধ না। তাদের কথায় হয়তো যুক্তি আছে। কিন্তু সেই যুক্তি মানলে এ কথা মানতে হবে যে, বিএনপিও সর্ব অর্থে সব সময় বৈধভাবে সরকারে ছিল না। ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করে তারাও ক্ষমতায় বসেছিল। সেটা যতই অল্প বা দীর্ঘ সময়ের জন্য হোক না কেন? পঞ্চদশ সংশোধনী তথা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপি যে দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল তা গণতন্ত্র সম্মত ছিল; কিন্তু সেই দাবিতে বিএনপি জামায়াতকে তার সঙ্গে নিয়েছিল এবং আওয়ামী লীগও অবস্থা বুঝে যুদ্ধাপরাধী বিচারের খেলা খেলেছিল। তারা প্রচার করেছিল বিএনপি আসলে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায়। বিএনপি অবশ্য নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছিল এই বলে যে, যুদ্ধাপরাধ প্রশ্নে তারা জামায়াতের সঙ্গে নেই। কিন্তু যখন আন্দোলন মাঠে গড়ায় তখন অনেক দাবি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। জামায়াত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছিল। এই পরিস্থিতিতে মানুষের সামনে একাত্তরের ভূমিকা বাদ দিলে সমসাময়িক রাজনীতিতে তিনটি দলের তুলনামূলক গুণাগুণ বিচার দুরূহ হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক। দাবি ওঠা সত্ত্বেও সরকার নির্বাহী আদেশে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছিল কিন্তু সেটি তার স্বাধীনতা যুদ্ধের ভূমিকার কারণে বা কোনো রাজনৈতিক বিচারে নয়। একেবারে নিবন্ধনকেন্দ্রিক আইনি জটিলতার কারণে। কোর্টের রায় ছিল জামায়াতের বিরুদ্ধে; কিন্তু সরকার রায়কে উপেক্ষা করে জামায়াতের রাজনীতি করার অধিকার বহাল রেখেছে। সাধারণ মানুষের কি দোষ।

স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গনগুলোতে আমরা শিবিরের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলাম কিন্তু তারপরেও চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ঠেকানো যায়নি। গায়ের জোরে বানের পানি কিংবা রাজনীতির প্রবাহকে নিষিদ্ধ করা যায় না। আমি মাঝে মাঝেই বলতাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি সরকার বাহিনীর সমর্থন না দেওয়া হয় তাহলে শিবিরের প্রবেশ রোধ করা যেত কি? শিক্ষাগত যোগ্যতায় মেধায় তারা কি হলে উঠতে পারত না? আবারও বলছি যারা জামায়াতের বর্তমান বিজয় দেখে বিস্মিত হয়েছেন তারা ঘোরের মধ্যে আছেন। গায়ের জোরে কিংবা অপশাসন দিয়ে এমনকি সাম্প্রদায়িকতা রোধ করা যায় না।

আর যদি সর্ষেই ভূত থাকে, সে ভূত ছাড়াবে কে? একটি দৈনিক পত্রিকার খবর থেকে উদ্ধৃত করছি বগুড়ার সাত উপজেলায় তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় মামলা হয় ৫৯টি, আসামির সংখ্যা এক লাখ ২০ হাজার। এক বছরে ৪৪টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ৭১৬ জন আসামির মাত্র দুজন এখন কারাগারে, বাকিরা জামিনে বেরিয়ে এসেছেন।

এদিকে মূল আসামিদের তিনজন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তারা স্থানীয় জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা। অভিযোগ আছে, অন্য আসামিদের জামিন পেতে অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা। ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে’ এই গুজব ছড়িয়ে গত বছরের ৩ মার্চ বগুড়ায় ব্যাপক সহিংসতা চালান জামায়াত-শিবির ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। নন্দীগ্রাম থেকে শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর থেকে শেরপুর উপজেলার বেশির ভাগ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। নিহত হন ১৩ জন, আহত হন হাজার খানেক। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাঈদীর ফাঁসির রায় হয় ২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন থেকেই মূলত এসব এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে জামায়াত-শিবির।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব মামলার আসামি জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যাতে জামিনে মুক্ত হতে পারেন, তার সব চেষ্টাই করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ জন্য জামায়াতের কর্মীদের আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বগুড়া আওয়ামী লীগের অন্তত সাতজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। একই কাজ করেছেন ইউনিয়ন পর্যায়ের আরও অন্তত ১০ জন নেতা।

জামায়াতের কর্মীকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক বলেন, ‘আমরা যেহেতু এলাকায় রাজনীতি করি, তাই এলাকার শত শত মানুষ আমাদের কাছে চাকরিসহ বিভিন্ন কারণে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে থাকে। এদের মধ্যে যদি কেউ তা জামিনের জন্য আদালতে ব্যবহার করে, তাহলে আমাদের কী করার আছে!’ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র রেজাউল করিমও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে ছিলেন।

পাঠকবৃন্দ আমার বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ। এই এলাকার উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। অনেক দূরে থেকে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, যার বক্তব্য এই পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।

আমি আজ আওয়ামী লীগে নেই। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাতেই স্বস্তিবোধ করেন। জানতে ইচ্ছা করে এভাবে জামায়াত জিতে যাওয়াতে তার অনুভূতি কি? আমি আওয়ামী লীগে ফিরে যেতে চাচ্ছি না। কিন্তু আমার বিশ্বাস আমি দলে থাকলে আওয়ামী লীগের ফলাফল এত খারাপ হতো না। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কিংবা পাঠকবৃন্দ আপনারা বগুড়ার শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না
mrmanna51@yahoo.com
লেখক : রাজনীতিক, আহ্বায়ক নাগরিক ঐক্য।
বাংলাদেশ প্রতিদিন, ০৫/০৩/২০১৪

Advertisements