Nur-E-Alam Siddiqiনূরে আলম সিদ্দিকী:
আমার গণতান্ত্রিক মননশীলতার আঙ্গিকে সন্ত্রাসবিরোধী একটা ঘৃণা এত বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে যে, সেটাই আমার প্রতীতী এবং প্রত্যয়ের ওপর রেখাপাত করে আছে। পৃথিবীর কোন আন্দোলনই সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসা দ্বারা ক্ষমতায় পৌঁছায় না। উপরন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথপরিক্রমণের কারণে যে সংগঠনটি আমার সমস্ত সত্তায়, অনুভূতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে অণু-পরমাণুতে প্রভাব বিস্তার করে রয়েছে তাকে সশস্ত্র জঙ্গিরূপে প্রতিভাত হতে দেখলে আমি কেবল আশ্চর্যান্বিত ও বিস্ময়াভিভূতই হই না, আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে। একটা অব্যক্ত বেদনায় আমার সমস্ত অনুভূতি ডুকরে কেঁদে ওঠে। তবুও দেখতে হয়। প্রতিনিয়তই এ বেদনা, অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়।

কেউ কেউ বলেন একই চেনামুখ বহিষ্কৃত হওয়ার পর আবার এই অস্ত্রের প্রদর্শন এবং আস্ফালন করে। তারা স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন করে- তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংগঠন থেকে তাদের বহিষ্কারাদেশের কার্যকারিতা থাকে কোথায়। এই প্রশ্নটি আমাকে হতবিহ্বল করে তোলে। কারণ, এই জিজ্ঞাসার কোন সদুত্তর আমারও জানা নেই। অপ্রাসঙ্গিক হচ্ছে কিনা জানি না, কিন্তু ষাট দশকের রাজনীতিতে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের সবার কাছেই আজকের ছাত্র সংগঠনগুলোর এই দৈন্যদশা ও চিন্তা-চেতনা-মননশীলতার এই দারিদ্র্য কেবল অনভিপ্রেতই নয়, কল্পনাতীতও। বিশেষ করে আমি মনে করি, খুব সুপরিকল্পিতভাবে, অপ্রতিরোধ্য তারুণ্যকে নিষ্ক্রিয়, নিষ্প্রভ এবং অবক্ষয়ের অতলান্তে নিমজ্জিত করার সুদূরপ্রসারী একটি চক্রান্ত ও অপচেষ্টা আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

ছাত্ররাজনীতির আজকের এই করুণ দুর্গতির জন্য আমি সামগ্রিকভাবে সামাজিক অবক্ষয়কে দায়ী করি। কারণ, গণতন্ত্রের মোড়কে যারা নিষ্ঠুরভাবে একনায়কতন্ত্র বা রাজতন্ত্র চিরস্থায়ী করতে চায়, তারা মনে করে ছাত্রসমাজ এই দুর্বিষহ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তারা স্বাধীনতা-পূর্বকালের বিভিন্ন আন্দোলনের মতো, বিশেষ করে ষাট দশকের আঙ্গিকে আগ্নেয়গিরির গলিত লাভার মতো বিস্ফোরিত হতে পারে। তাই তাদের মধ্যে অবক্ষয়ের ফরমালিন ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।

জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সাহেব সামরিক শাসক ছিলেন। তাদের আমলেও মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে, নিয়মিত না হলেও, ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচন শুধু সুষ্ঠু ছাত্র প্রতিনিধিত্বেরই সহায়ক ছিল না বরং ছাত্র নেতৃত্বের একটা জবাবদিহিরও বাধ্যবাধকতা তৈরি করতো। প্রতিভা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নৈতিক সততা, প্রত্যয়ে উজ্জীবিত চরিত্র পরিস্ফুটিত করতে না পারলে বিজয়ী হওয়া তো দূরের কথা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে কোন ছাত্র সাহস পেতো না।

কিন্তু ’৯১-এর পর থেকে ছাত্রসংসদ নির্বাচন সুপরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দেয়ার কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে তুষ্ট করা ছাড়া ছাত্র রাজনীতির কর্মকাণ্ডের অন্য কোন আঙ্গিক তৈরি হতে পারেনি। পারা সম্ভবও নয়। নির্দলীয় নির্মোহ দৃষ্টিতে ছাত্রলীগসহ সব সংগঠনের এই অস্ত্রবাজি ও ঔদ্ধত্যকে বন্ধ করতে হবে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা হলেই ক্রমান্বয়ে সমস্যাটির সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

উপরন্তু, আমি বহুবার বলেছি, ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে উত্তরণে ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা অপরিহার্য ছিল। আজ সেই প্রয়োজন একেবারেই নেই। তাই কোন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন রাখার একমাত্র উদ্দেশ্যই হলো তাদেরকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করার একটা পদ্ধতি চালু রাখা। তাই আইন করে ছাত্রদের রাজনীতি পরিপূর্ণ বন্ধ করা আশু প্রয়োজন। এ ব্যাপারে অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ না নিলে, পুরো ছাত্রসমাজটি অবক্ষয়ের অতলান্তে নিমজ্জিত হবে।

সন্দেহাতীতভাবেই শুধু ছাত্রলীগ নয়, সমস্ত ছাত্র রাজনীতির সত্তা অবক্ষয়ের অতলান্তে নিমজ্জিত। তাদের নৈতিকতা স্খলিত। শুধু অস্ত্র নির্ভরই নয়, অর্থনির্ভর স্বার্থচিন্তার গভীরে নিমজ্জিত তাদের মূল্যবোধ। রাজনৈতিক সংগঠনের, বিশেষ করে শীর্ষ নেতৃত্বের মনঃতুষ্টির জন্য কেবল স্তুতিই নয়, যে কোন ধরনের দুষ্কর্মে প্রবৃত্ত হওয়ার অদম্য অনৈতিক স্পৃহা আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। প্রতি মুহূর্তে আত্মহননের যন্ত্রণায় ছটফট করি।

অন্যদিকে গর্বে, আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠি অতীত স্মৃতিচারণে। একটি সূর্যস্নাত নিষ্কলুষ নির্মোহ প্রশান্তিতে হৃদয় ভরে যায়, যখন ভাবি বাঙালি জাতির চেতনার উন্মেষ, তার বিকাশ-ব্যাপ্তি, সফলতা ও কৃতিত্বের সিংহভাগই ছাত্র সমাজের, বিশেষ করে ছাত্রলীগের। তা ভাষা আন্দোলনের এই গৌরবান্বিত মাসটিতে সীমাহীন উচ্ছ্বসিত হৃদয়ে স্মরণ করি। ভাষা আন্দোলন- মা কে মায়ের ভাষায় মা ডাকার অধিকারের আন্দোলনটি শুরু করেছিল ছাত্রলীগ। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্মলগ্ন থেকেই এই সংগঠনটির চেতনার মূল অংশ ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র। জিন্নাহ সাহেব উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা (তৎকালীন পাকিস্তানের) ঘোষণা দেয়ার প্রাক্কালে যে ‘না’ শব্দটি, সেটিও উচ্চারিত হয়েছিল নাঈমউদ্দিনের মুখে। তিনি ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, তখন ছাত্রলীগ ছাড়া সাংগঠনিক অবকাঠামোয় অন্য কোন সংগঠনের জন্ম হয়নি। ’৫৪-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে একত্রিত করার গৌরবদীপ্ত দায়িত্বটিও পালন করেছিল ছাত্রসমাজ। এর অগ্রণী ভূমিকায় ছিল ছাত্রলীগ। ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলনের নামে যে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনটি তৈরি হয়েছিল, সেটিতেও ছাত্র সমাজের কৃতিত্ব অবিস্মরণীয়। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ, স্বাধিকারের মোড়কে স্বাধীনতার কর্মসূচি বঙ্গবন্ধু প্রদান করলেও আওয়ামী লীগ সেটিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করার সাহসিকতা দেখাতে পারেনি। এর দায়িত্বভার নিতে হয়েছিল ছাত্রলীগকে। ’৬৯-এর অবিস্মরণীয় গণঅভ্যুত্থানে ১১ দফার মধ্যে ৬ দফাকে সন্নিবেশিত করার গৌরবও ছাত্রলীগের। ছয় দফা কেন্দ্রিক আন্দোলনটি এক একটি সোপান উত্তরণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির চেতনার পূর্ণ পরিস্ফুটন ঘটিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপান্তরিত করার কৃতিত্বও ছাত্রলীগের। অকুতোভয় এবং আপসহীন নেতা, তখনকার মুজিব ভাই, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে আন্দোলনের স্থপতি ছিলেন। তার নির্দেশনায় আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে- এটা ঐতিহাসিক সত্য। এর সঙ্গে এটাই বাস্তব যে, তার চেতনার, তার স্বপ্নের, তার ভরসার সার্থক রূপকার ছাত্রলীগ। তখন ছাত্রলীগ বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে শুধু আপসহীন ও নিষ্কলুষ ছাত্র সংগঠনই ছিল না, তা গণমানুষের চিন্তাচেতনার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নেতার মননশীলতা বাস্তবায়ন করার মূল শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। ১৯৭০-এ নির্বাচনেও বঙ্গবন্ধুকে সামনে রেখে এই ছাত্রলীগই অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়। এই ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করে, সংসদের অধিবেশনটি একতরফাভাবে বাতিল ঘোষণা করে ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ভাষণের মাধ্যমে। তখন ছাত্রলীগের একক নেতৃত্বে গঠিত হয় স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। প্রতি জেলায়, মহকুমায়, ইউনিয়নে, গ্রামে এমনকি পাড়ায় পাড়ায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠে এর শাখা। তখন মোবাইল ছিল না, ইন্টারনেট ছিল না, ফেসবুক ছিল না। ছিল বিনা তারে বাঁধা স্বাধীনতার স্বরলিপি। আমাদের সামনে কোন প্রাপ্তি প্রত্যাশা কাজ করেনি। তাই সংগঠনের কোন স্তরের কর্মী কোন স্বার্থচিন্তায় নিমগ্ন হওয়া তো দূরের কথা, তা তাদের কল্পনার পরিমণ্ডলেও আসেনি। দেশ, জাতি, সমাজ, পরিবার এমনকি পিতামাতাও গর্ববোধ করতো, তার সন্তানটি ছাত্রলীগ করে- এই ভাবনায়। সেই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার গৌরব আমাদেরকে, বিশেষ করে আমাকে সফলতার দীপ্ত সূর্যালোকে আলোকিত রাখবে।

তারপরও আমি গত দেড় যুগ ধরে একইভাবে বলে আসছি, এখন আর ছাত্রদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রয়োজন নেই। অনেকে আমার এই মতের তির্যক সমালোচনা করে বলেছেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে গেলে ’৫২, ’৬২, ’৬৯ এবং স্বাধীনতার সংগ্রামের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব কিভাবে আসবে। কথাটির যৌক্তিকতা আমি মানতে বাধ্য। কারণ আমার ও আমাদের ওটিই অস্তিত্ব। ওটি প্রথম এবং শেষ পরিচয়। স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির আঙ্গিক ছিল সংগ্রামের। তার প্রত্যয় ও প্রস্তুতি ছিল সেই রকমের। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সমস্ত প্রেক্ষাপটই বদলে গেছে। এখন প্রয়োজন সংগ্রামের নয়, জ্ঞানের সাধনা। আরেকটি কথা এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, তখন রাজনীতিকরা তো দূরের কথা- কেউ কখনওই ছাত্রলীগকে তাদের স্বার্থসিদ্ধির নিমিত্ত হিসেবে ব্যবহার করেননি। বঙ্গবন্ধু আমাদের চেতনার প্রতীক ছিলেন। কিন্তু ছাত্রলীগের সাংবিধানিক প্রধান ছিলেন না। আসলে এই পদটি কি এবং কিভাবে হলো আজও আমাদের অজানা। কিন্তু আজকে অপরাধ সংঘটিত হলে তার সমস্ত দায়ভার আসে ছাত্রলীগের। কিন্তু যারা আপন স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য সংগঠনটিকে যথেচ্ছ ব্যবহার করেন তারা পর্দার অন্তরালেই থেকে যান। তাদের গায়ে কোন আঁচড় লাগে না।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার প্রধান আসামী ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বলেছে, গডফাদারদের খুশি করতেই এই বীরত্ব দেখাতে হয়েছে। আগে শিক্ষক ছাত্রদের সম্পর্ক ছিল পিতাপুত্রের। শ্রদ্ধা ও স্নেহের। এখন শোনা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা, নীল বিভিন্ন ধরনের প্যানেলে এই ছাত্র সংগঠনকেও নিষ্ঠুরভাবে ব্যবহার করা হয়। উপাচার্য থেকে শুরু করে শিক্ষকের পদপ্রাপ্তি, চাকরি নিয়োগ প্রাপ্তিসহ সমস্ত অপকর্মে ছাত্র সংগঠনকেই নির্দয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। উপরন্ত স্বাধীনতাপূর্বকালে জাতির জনকসহ সকলের সন্তানরাই আমরা এদেশের বিদ্যাপীঠেই অধ্যয়নরত ছিলাম। কিন্তু এখনকার কোন রাজনীতিকই নন, সমাজের সকল স্তরের কর্ণধারের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করে (আমিও তার ব্যতিক্রম নই)। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃশংসতা সাধারণ মানুষের হৃদয় কাঁপায়। কর্ণধারদের মানসপটে বিন্দুমাত্র ছাপ ফেলে না। সমস্ত প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে গোটা সমাজটাই দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন। তাই তারা দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে নিজের অজান্তেই বিভিন্ন অনৈতিক কর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আমি ওই অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শুধু বন্ধই নয়, সার্বিকভাবে সমাজের অবক্ষয়ের চিত্রটি উদঘাটনের জন্য এটি বললাম। পাশ্চাত্য দেশের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এমআইটি, হার্ভার্ড, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমস্ত প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ রয়েছে। কিন্তু কোন দেশেই রাজনৈতিক সংগঠনের অঙ্গসংগঠন হিসেবে নয়। তাদের মূল কর্মটিই হলো মননশীলতা, সংস্কৃতি ও সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়নের পরিমণ্ডল। আমার জ্যেষ্ঠ সন্তানটি যখন কর্নেলে ভর্তি হয়, তখন নবীনবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের একটি বিরাট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেখানে সংর্বধনা কমিটির আহবায়ক ছিলেন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি। তার এক ঘণ্টা বিস্তৃত ভাষণ আমাকে বিমুগ্ধ, বিমোহিত করেছিল। উপসংহারে মনে হয়েছিল ভাষণটি সমস্ত বিশ্বের ছাত্র সমাজের জন্য একটি দিগন্ত বিস্তৃত দিকনির্দেশনা। ছাত্রদের নৈতিকতার দর্শন। তখন থেকেই আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি স্বাধীনতারউত্তরকালে বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের প্রয়োজন, প্রতিনিধিত্বের আঙ্গিকে। তাদের কাজ হবে সাহিত্য, সংস্কৃতি, মেধা ও মনন বিকাশ। ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা কঠোর আইন করে বন্ধই শুধু নয়, সব রাজনৈতিক সংগঠনকে এটি মেনে চলার বাধ্যবাধকতারও আইন করতে হবে।

সূত্র: টাইম নিউজ
Advertisements