goyeshor-bnpদ্বিতীয় দফা শুরু হওয়া উপজেলা নির্বাচনে কেরানীগঞ্জে ভোট ডাকাতির মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বের চন্দ্র।

তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

গয়েশ্বর অভিযোগ করেন, ‘সকাল ৮টা থেকে দুটি বাদে সব কেন্দ্র উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন, তার ভাই ফারুক ও শিপলুর নেতৃত্বে দখল করা হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি, মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। মহিলাদেরও মারধর করা হয়েছে। সামনে ভোট দিতে অস্বীকার করলে মারধর করা হয়েছে। সকল কেন্দ্র দখল করে ভোট লুটপাটের মহোৎসব চলছে।’

তিনি বলেন, ঢাকা-৩ আসনের পাঁচটি ইউনিয়নের ৯৮টি কেন্দ্র দখল সকালেই করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি ১০ ভাগও নেই। ইতোমধ্যে কদমতলি ও আগানগরের ভোট শেষ হয়ে গেছে। ঢাকা-২ আসনের সাতটি ইউনিয়নেও একই অবস্থা চলছে।

কেরানীগঞ্জের ইতিহাসে এমন নির্বাচন কখনো হয়নি। এটা মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলেও জানান গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীরা গৃহপালিত, তারা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এসব অপকর্ম করছে। পুলিশকে বাংলাদেশ আওয়ামী পুলিশ লীগে পরিণত করা হয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সেনাবাহিনী ও র্যাাবের ভূমিকা এমন যে, চেয়ে চেয়ে দেখলাম, করার কিছুই ছিল না। কারণ সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রিসি ক্ষমতা না থাকায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এছাড়া ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেটকে সকাল থেকে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, সরকারি দল বুঝতে পেরেছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। এজন্য আশরাফ, আমু, তোফায়েল, কামরুল সেনাবাহীনিকে প্রভাবিত করেছে।

এ সময় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের অনিময় নিয়ে তার তুলে ধরা বক্তব্য ভুল প্রমাণ করতে পারলে প্রয়োজনে রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিবেন বলেও জানান গয়েশ্বর।

ভোট বর্জন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রার্থীদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিব। তবে যেহেতু জনগণ এ নির্বাচন বর্জন করেছে, তাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। কিছুক্ষণের মধ্যে জানানো হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: আরটিএনএন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ১৪

Advertisements