Nizamiমতিউর রহমান আকন্দ

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, একজন রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ, সুলেখক ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের নেতা। বর্তমান বিশ্বের প্রায় পৌনে দু’শ কোটি মুসলমানের মধ্যে তিনি শীর্ষস্থানীয় ৫০ জন ইসলামী চিন্তাবিদের একজন। “ঞযব জড়ুধষ ওংষধসরপ ঝঃৎধঃবমরপ ঝঃঁফরবং ঈবহঃৎব” পরিচালিত ২০০৯ সালের এক জরিপে ১৫ ক্যাটাগরিতে ৫০০ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সিরিয়াল ৪৩তম। মাওলানা নিজামী শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের শত কোটি মানুষের প্রিয় নেতা, প্রিয় ব্যক্তিত্ব। ছাত্র আন্দোলন থেকে বৃহৎ আন্দোলন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী এক আপোষহীন নেতৃত্ব। ছাত্রজীবনে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিকবার তিনি হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। বহুবার তাকে জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ব্যক্তিগত জীবনে একজন স্বল্পভাষী, অমায়িক ব্যবহার ও স্বচ্ছ চিন্তার অধিকারী, সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত একজন সাদা দিলের মানুষ। কারো সাথে রূঢ় আচরণ বা কটুকথা বলে কষ্ট দিয়েছেন এমন নজির কেউ দিতে পারবে না। মনের দিক থেকে তিনি অত্যন্ত নরম দিলের একজন মানুষ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর আমীর, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল, জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল ও আমীরে জামায়াতের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র অঙ্গন থেকে বৃহৎ অঙ্গনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনের এ ধরনের দৃষ্টান্ত বিরল। তার গতিশীল নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছে এবং বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনে বাংলাদেশের অবস্থানকে অনেক উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তদানীন্তন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার পাশে বসে একাধিক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। দেশী-বিদেশী অনেক প্রতিনিধি দলের সাথে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বর্তমান সরকারের অনেক মন্ত্রী ও এমপিদের সাথে পাশাপাশি বসেছেন। হ্যান্ড শেক করেছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আজ তাকে প্রায় ৪৪ মাস যাবৎ কারাগারের অন্ধ কুঠরিতে বন্দী জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার অপরাধেই তাকে এ বৈরী পরিবেশের শিকার হতে হয়েছে। তিনি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জনগণের প্রিয় নেতা হিসেবে নন্দিত হয়েছেন। তার এ জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক ও বায়বীয় অভিযোগ দায়ের করে তাকে কারাগারে আটক করে রেখেছে। তার বন্দী জীবন তাকে আরো বেশী শক্তিশালী ও মজবুত করেছে। জনগণের মাঝে সংগঠনের মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী জামায়াতের প্রতি সহানুভূতি অনেক বেড়েছে।

১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বারের মত তিনি ৮ম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১-২০০৬ জোট সরকারের ৫ বছর শাসনামলে ২০ মাস কৃষি মন্ত্রণালয় ও ৪০ মাস শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

সততা, বিশ্বস্ততা, স্বচ্ছতা ও আমানতদারিতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি দুটো মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে অনন্য সফলতা অর্জন করেন। তাঁর পরিচালনাধীন মন্ত্রণালয়ে কোথাও কোন দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনীতিবিদদেরকে দুর্নীতির দায়ে একের পর এক যখন গ্রেফতার করছিল, তখন জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার কোন অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে ২০০৮ সালে ১৮মে রাতে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করে।

১৯মে আদালতে হাজির করার পর, আদালতের অনুমতি নিয়ে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ৭ মিনিট বক্তব্য রাখেন। সকাল ১০টা ২১ মিনিটে শুরু করে ১০টা ২৮ মিনিটে তার বক্তব্য শেষ করেন। যা ২০মে’র জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়। তার সে বক্তব্য সর্বমহলে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যতার সৃষ্টি করে। তার বক্তব্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

“আমি বিজ্ঞ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দু’টি কথা বলতে চাই। আদালতে ন্যায়বিচার পাবো বলে আমি আশা করছি। এখন বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কোনদিক থেকে অনাকাক্সিক্ষত বা অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের নীতিগত কোন সুযোগ নেই। আমাকে আজ আদালতে দুর্নীতির অভিযোগে হাজির হতে হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। দীর্ঘ ২০ মাস আমি কৃষি মন্ত্রণালয় ও ৪০ মাস শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। এ দুটি মন্ত্রণালয়ে দুরবীন দিয়ে তালাশ করেও কোন অনিয়ম পাওয়া যায়নি। দুর্নীতিপরায়ণ কোন ব্যক্তি স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। আমি দায়িত্ব পালন করে চলে আসার পর, জরুরী অবস্থা জারির পর দায়িত্ব পালনরত সময়ের কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি দুরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পারচেজ কমিটির সদস্য হওয়ার কারণে আজ আমাকে এখানে আসতে হয়েছে। দুর্নীতি প্রসঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ নেই। কমিটির সদস্য হওয়াই যদি অপরাধ হয়, তাহলে কমিটির সবারই আসামী হওয়ার কথা ছিল। সভার এজেন্ডা যিনি ঠিক করেন, কার্যপত্র যিনি দেখেন, সত্যায়ন করেন, যারা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাদেরকে ধরা্্্ছোয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়, এ মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যোগসাজশের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ কার্যপত্র স্বাক্ষর করা ছাড়া আমার আর কোন সম্পৃক্ততা নেই। যোগসাজশের তো প্রশ্নই ওঠে না।

চার্জশিটে আমাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। অথচ আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে আমার বাসা থেকেই। তার আগে আমি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেছি। দলীয় কার্যালয়ে সময় দিয়েছি। আমাকে পলাতক দেখানো জঘন্য মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ হচ্ছে দুর্নীতি দমন করা। মিথ্যাচার হচ্ছে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। যারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয় তাদের দ্বারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল হতে পারে, দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়।

আমার মনের মধ্যে কোন ধরনের দুর্বলতা নেই। মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে সংবাদ মাধ্যম বা বিভিন্ন এজেন্সি তন্ন তন্ন করে আমার ব্যাপারে কোন দুর্নীতি খুঁজে পায়নি। শুধুমাত্র কমিটির সদস্য হওয়ার কারণেই এভাবে অপদস্ত করা হলে দেশ চালানই কঠিন হয়ে পড়বে। যেহেতু আদালত স্বাধীন, তাই সুবিচার পাবো। আদালত বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নিবে বলে আশা করি।”

কিছুদিন পর তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করে জনগণের মাঝে ফিরে আসেন। ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করা হয়। এর পরেও তার প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ২৩ হাজার। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি বিশেষ করে টিপাই মুখ বঁঁঁাঁধ ও তিস্তার পানি বন্টনে ন্যায্য হিসসার দাবীতে দেশব্যাপী তিনি গণসংযোগ করেন। সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় জামায়াতের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হতে থাকে। তার বলিষ্ঠ ও প্রত্যয়দ্বীপ্ত বক্তব্য জনগণকে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও দেশের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করে। দিশেহারা হয়ে সরকার তাকে ফাঁসানোর নানা চক্রান্তের জাল বুনতে থাকে।

২০১০ সালের ২৯ জুন তাকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার এক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ৩৯ বছর পূর্বের মীমাংসিত যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসানোর চক্রান্তে মেতে উঠে সরকার। মামলার সাক্ষী প্রমাণ শুরু হওয়ার পর পুনরায় তদন্তের নামে সরকারের নির্দেশনায় একটি ফরমায়েসী চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করা হয়।

৩০ জানুয়ারী ২০১৪ চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালত তাকে অস্ত্র ও চোরাচালান মামলায় মৃত্যুদ- এবং যাবজ্জীবন কারাদ-ে দ-িত করে। তার বিরুদ্ধে ঘোষিত এ সাজা দেশবাসীকে হতবাক করেছে। আইন-আদালতের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ মামলার এ রায়ে বিস্মিত ও স্তম্ভিত। মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষণার পর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এতটুকু বিচলিত হননি। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, “আমি নির্দোষ। ঘটনার সাথে আমার সামান্যতম সম্পৃক্ততাও নেই। সুতরাং আমার ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। অন্যায় ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলনের অপরাধে আমাকে এ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। আমি উচ্চ আদালতে আপীল করবো এবং আমি বিশ্বাস করি, সেখানে আমি ন্যায়বিচার পাবো ও আমার বিরুদ্ধে ঘোষিত এ দন্ড বাতিল হবে। আমি খালাস পাবো।”

ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে আপীলের প্র¯‘িতর উদ্দেশ্যে আইনী পরামর্শের জন্য ১১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার আমরা তার সাথে সাক্ষাৎ করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়েছিলাম। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ৪ নং হাই সিকিউরিটিস ভবনে তিনি বন্দী জীবনযাপন করছেন। আইনজীবী হিসেবে কারা ফটকে উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথেই কারা কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সাথে ভিতরে নিয়ে গেলেন। আমরা জেলারের কক্ষে অবস্থান করছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই ডেপুটি জেলারের কক্ষে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে নিয়ে আসা হলো এবং আমাদেরকে উক্ত কক্ষে যাওয়ার জন্য বলা হলো। আমরা কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই “আস্সালামু আলাইকুম” বলে তিনি চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আমাদের সাথে কোলাকুলি করলেন। স্পষ্ট কণ্ঠে উচ্চারিত তার সালাম কারাভ্যন্তরে ধ্বনিত, প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। তিনি সংগঠনের, দেশের এবং আটক অসংখ্য নেতা-কর্মীর পরিবারের খোঁজ-খবর জানতে চাইলেন। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি বললেন, “মহান রাব্বুল আলামীন এ পরিস্থিতির অবশ্যই অবসান ঘটাবেন।”

তিনি, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত কর্তৃক ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আপীলের নির্দেশ দিলেন। বেশ কয়েকটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আইনী মোকাবিলায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের অস্ত্র চোরাচালান সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার রায়ের বিষয় সামনে রেখে প্র¯‘িত নিতে বললেন। তিনি বললেন, “আইনগতভাবে অস্ত্র ও চোরাচালান মামলা একসাথে চলতে পারে না।”

ঘটনাস্থল সম্পর্কে বললেন, “ঐ স্থানটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল না। কোন সাক্ষী আমার বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্য প্রদান করেনি। যে দু’জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে তারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য আদালতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে পর্যাপ্ত জেরা করার সুযোগও দেয়া হয়নি।”

তিনি বললেন, “দুনিয়াতে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে আদালত। আদালত যদি স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ থেকে বিবেকের তাড়নায় ন্যায়বিচার করতে না পারে, তাহলে দেশ জালেম ও অত্যচারীর সীমাহীন বাড়াবাড়ীতে ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হবে। আমি লক্ষ্য করেছি, বিচারক স্বাধীনভাবে তার বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেননি।”

মৃত্যুদ-ের রায় সম্পর্কে তিনি বললেন, “আমি মৃত্যুদ-ে মোটেই ভীত নই। সন্ত্রস্ত নই। মানুষের মৃত্যু অনিবার্য। আমাকে যদি মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে মৃত্যুদ- দেয়া হয়, তাহলে সেটা হবে শহীদি মৃত্যু। যেদিন ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছি, সেদিন থেকেই শাহাদাতের মৃত্যু কামনা করি। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তদানীন্তন ভাইস চ্যান্সেলরের দাওয়াতে আমন্ত্রিত হয়ে যখন আক্রান্ত হয়েছিলাম, তখনই আমি শহীদি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, জীবন মৃত্যুর মালিক আল্লাহ্। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো মৃত্যু হয় না। আল্লাহ যখন যেভাবে চান সেভাবেই আমার মৃত্যু হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমি প্রস্তুত।”

তিনি সারাদেশের সংগঠনের খোঁজ-খবর ও কুশলাদি জানতে চাইলেন। তিনি দেশবাসীকে সালাম জানান ও দোয়া কামনা করেন।

উৎসঃ   সংগ্রাম
Advertisements