syedi_jamaat_kashimpur_karg_30026আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল আবেদন শুনানিকালে তার আইনজীবী বলেছেন, ঘটনার সময় সাক্ষী ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাই তার পক্ষে সাঈদীকে চেনা সম্ভব ছিল না। আজ ১৯তম অভিযোগ তথা জোর করে হিন্দুদের ধর্মান্তরকরণ বিষয়ে আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মো : মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করেন।
অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ট্রাইব্যুনালের রায় থেকে ১৯ নম্বর অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে বলেন, মধুসূদন ঘরামী, কৃষ্ণ, অজিত কুমার শীল, বিপদ সাহা, গৌরাঙ্গ সাহা, ফকির দাস, হরিদাস, মহামায়া, অন্নরানী, কমলারানীসহ ১০০-১৫০ জন হিন্দুকে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানোর পর তাদেরকে তজবি, টুপি, জায়নামাজ দিয়ে মসজিদে যেতে এবং নামাজ পড়তে বাধ্য করানোর অভিযোগে মাওলানা সাঈদীতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এ সময় একজন বিচারপতি বলেন, আপনি যে ২০ জনের নাম আপনি পড়ে শোনালেন তাদের মধ্যে কয়জনকে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, এদের মধ্যে মধুসূদন ঘরামী এবং গৌরাঙ্গ সাহাকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়েছে। অজিত কুমার শীল সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু তিনি আসেননি এবং তার জবানবন্দী ১৯ (২) ধারায় গ্রহণ করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, ধর্মান্তরকরণের সময়কাল হিসেবে চার্জে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এদেরকে ধর্মান্তরকরণ করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষেরই দাবি যে পাড়েরহাটে আর্মি আসে ১৯৭১ সালের ৭ মে। এরপর সেখানে রাজাকার, শান্তিকমিটি এবং পাক আর্মির অপকর্ম শুরু হয়। আর ধর্মান্তরকরণ ঠিক কোন সময়ে হয়েছে সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সময় উল্লেখ নাই। কাজেই আসামির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ টেকে না।
তিনি বলেন, ধর্মান্তরকরণ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের ২, ৩, ৪, ১৩ ও ২৩ নম্বর সাক্ষীর ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
২ নম্বর সাক্ষী রুহুল আমিন নবিন বলেছেন, শান্তিকমিটির লোকেরা লুটপাট অগ্নিসংযোগ করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং ননীসাহা, মাখন সাহা, ডা. গণেশ চন্দ্র রায়, ডা. সতিশ চন্দ্র রায়, সুধীর চন্দ্র রায় গৌরাঙ্গসহ স্থানীয় অনেক হিন্দুকে জোর করে মুসলমান বানায়।
এসময় একজন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, যাদের বিরুদ্ধে জোর করে মুসলমান বানানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের মধ্যে এখন জীবিত আছে কারা। অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, মোসলেম মাওলানা জীবিত আছেন।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ২ নম্বর সাক্ষী রুহুল আমিন নবিন সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের ৯ নম্বর সাক্ষী বলেছেন যে তিনি যুদ্ধের শুরুতে এলাকা ছেড়ে চলে যান এবং ১৮ ডিসেম্বর তিনি তাকে পাড়েরহাট প্রথম দেখেন। কাজেই যুদ্ধের সময় রুহুল আমিন নবিন এলাকায় ছিলেন না এবং ধর্মান্তারকরণের বিষয়ে তার অভিযোগও টেকে না।
রাষ্ট্রপক্ষের ৩ নম্বর সাক্ষী মিজানুর রহমান তার জবানবন্দীতে বলেছেন, কথিত সাঈদী ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের ধরে এনে জোরপূর্ব ধর্মান্তকরণ করেন।
জেরায় তাকে প্রশ্ন করা হয় যে মুসলমান হওয়ার বিষয়ে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দীতে বলেছিলেন কি-না। তিনি জবাব দেন, স্মরণ নেই । তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরায় প্রশ্ন করা হয় কথিত সাঈদী ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের ধরে এনে জোর করে ধর্মান্তরকরণ করেন- এ কথাটি আপনাকে সাক্ষী বলেছিল কি-না। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তার কাছে সাক্ষী একথা বলেননি।
রাষ্ট্রপক্ষের ৪ নম্বর সাক্ষী সুলতান আহমেদ হাওলাদার ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, ভানু সাহার বাপ ভাই সকলকে মুসলমান বানিয়ে তাদেরকে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করেন।
জেরায় তাকে প্রশ্ন করা হয়, ভানু সাহার বাপ-ভাই সকলকে মুসলমান বানানোর কথা তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছিলেন কি-না। জবাবে তিনি জানান, স্মরণ নেই। তদন্ত কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জেরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সাক্ষী সুলতান আহমেদ তার কাছে একথা বলেননি।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, ভানুসাহার বাপ এবং ভাইরা দেশে আছেন। কিন্তু তাদের সাক্ষী করা হয়নি। ভানু সাহার তিন ভাইয়ের মধ্যে দুজন অসুস্থ। কিন্তু বড়ভাই রামসাহা সুস্থ  আছেন। ভানুসাহার বাপ ভাইকে মুসলমান বানানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কাজেই রামসাহাকে সাক্ষী করা হলেই তিনি এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো সাক্ষ্য দিতে পারতেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন রামসাহাকে এ বিষয়ে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি তাকে  সাক্ষী করেননি।
ট্রাইব্যুনালের রুলে বলা আছে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ভার রাষ্ট্রপক্ষের। এবং আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে সন্দোহীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে।
এ সময় একজন বিচারপতি বলেন, দুই-একজন সাক্ষী না আনলেই কি বলা যাবে সন্দোহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। যারা এসেছেন তাদের সাক্ষ্য থেকে যদি প্রমাণিত হয় তাহলে কি দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না?
অ্যাডভোকেট শাহাজহান বলেন, যারা এসেছে তাদের সাক্ষ্য থেকে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এ সময় একজন বিচারপতি বলেন, ৪০ বছর পরের ঘটনা। সবাই আসবে এটা আশা করা যায় না। সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও সমস্যা আছে।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, কিন্তু ভানু সাহার বাপ ভাই এ মামলায় ভাইটাল সাক্ষী হতে পারতেন।
তখন ওই বিচারপতি বলেন, এজন্যই তো ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগে সাজা উল্লেখ করেনি।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের চুতর্থ সাক্ষী সুলতান আহমেদের কলাচুরি মামলায় জজকোর্টে সাজা হয়েছে এবং এ মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ট্রলার চুরির দায়ে আরো দুটি মামলা বরিশালে বিচারাধীন রয়েছে। এরকম সাক্ষীর ওপর নির্ভর করা হয়েছে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে। এ সময় একজন বিচারপতি বলেন, চুরির মামলায় সাজা হয়েছে কোথায় আছে দেখান। তখন অ্যাডভোকেট শাহাজান চুরির মামলায় সাজা হওয়া বিষয়ে সাক্ষী সুলতান আহমেদের জেরা থেকে এ বিষয়ে তারই স্বীকারোক্তি পড়ে শোনান আদালতে।
রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ নম্বর সাক্ষী গৌরাঙ্গ সাহা ট্রাইব্যুনালে বলেছেন পিরোজপুর থেকে তার তিন বোনকে বাসায় ফেরত পাঠানোর কিছুদিন পর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তার মা বাবা ভাই বোন পরিবারের সবাইকে মুসলমান বানায়। মসজিদে নিয়া নামাজ পড়ায়। ‘এ লজ্জায় আমার মা বাবা ভাইবোন সবাই ভারতে চলে যায়। আমি একাই এদেশে আসি। তারা আরো অনেক হিন্দুকে মুসলমান বানায়। এক শ’ থেকে দেড় শ’ হবে। এর  মধ্যে কয়েকজন হলেন নারায়ণ সাহা, নিখিল পাল, গৌরাঙ্গ পাল, সুনীল পাল। এদের  অনেকে ভারতে চলে গেছেন। অনেকে মারা গেছেন। আমাকে মুসলমান বানিয়ে নাম দেন আব্দুল  গনি। হাতে তজবি টুপি দেন। দেশ স্বাধীন হবার পর আমি আবার নিজ ধর্মে ফিরে আসি।’
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ১৯৭১ সালে সাক্ষীর বয়স ছিল ৭/৮ বছর। আর সাক্ষী বলেছেন তার তিন বোন ময়ামায়া, অন্নরানী এবং কমলারানী তার ছোট ছিল। কাজেই এত ছোট মেয়েদের ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ টেকে না।
জেরায় তাকে প্রশ্ন করা হয় ‘আমার বোনেরা বাসায় আসার পর সবাইকে মুসলমান বানানো হয়… তারা আরো অনেক হিন্দুকে মুসলমান বানায়। এক শ’ থেকে দেড় শ’ হবে।’ এ কথাগুলো আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রদত্ত জবানবন্দীতে বলেননি। সাক্ষী বলেন বলেছি। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বোনেরা বাসায় আসার পর সবাইকে মুসলমান বানানো হয়… তারা আরো অনেক হিন্দুকে মুসলমান বানায়’- এ কথাগুলো সাক্ষী তাকে বলেনি।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, সাক্ষী গৌরাঙ্গ সাহা তিন বছর আগে সরকারের তরফ থেকে আশ্রয়ন প্রকল্পে একটি বরাদ্দ পেয়েছেন।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৯ নম্বর অভিযোগ যথা আব্দুল হালিম বাবুলের বাড়িতে লুটপাট এবং আগুন দেয়ার অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে। এ অভিযোগ বিষয়ে সাক্ষী ছিলেন ১৪ নম্বর সাক্ষী আবদুল হালিম বাবুল।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, ট্রাইব্যুনাল রায়ে এ অভিযোগের পক্ষে আবদুল হালিমের সাক্ষ্য আমলে নেয়নি। তাকে অবিশ্বাস করা হয়েছে। খালাসের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তাতে আবদুল হালিম বাবুলের সাক্ষ্য নাকচ করা প্রসঙ্গে যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবদুল হালিম বাবুলের জন্ম তারিখ ৬/৬/১৯৬০। ১৯৭১ সালে তিনি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিলেন। কাজেই তখন তার পক্ষে সাঈদীকে চেনা সম্ভব ছিল না।
কিন্তু যে ট্রাইব্যুনাল ৯ নম্বর অভিযোগ বিষয়ে ১৪ নম্বর সাক্ষী আবদুল হালিম বাবুলকে অবিশ্বাস করলেন সেই একই সাক্ষীকে আবার বিশ্বাস করা হয়েছে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯ নম্বর অভিযোগ যথা ধর্মান্তারকরণের অভিযোগ প্রমাণের পক্ষে।
তখন একজন বিচারপতি বলেন, এখানে তাহলে আপনার বক্তব্য হলো ট্রাইব্যুনাল ডাবল স্টান্ডার্ড ভূমিকা পালন করেছে। একটি কোর্ট ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ভূমিকা পালন করতে পারে না। আদালত বৈষম্য করতে পারে না।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান উক্ত বিচারপতির মন্তব্য পুনরুক্তি করে বলেন, এটাই আমার বক্তব্য।
রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ নম্বর সাক্ষী মধুসূদন ঘরামী বলেছেন, ‘কৃষ্ণসাহা, গনেশ আর আমি একদিন বাজারের মসজিদে বসে মুসলমান হই। দুই-তিন দিন পর কৃষ্ণসাহা মারা যান। মুসলমান হয়েও বাঁচতে পারলেন না। মুসলমান বানানোর পর আমার নাম হয় আলী আশরাফ আর গনেশের নাম হয় আলী আকবর।’
মুধুসূদন ঘরামীকে জেরায় প্রশ্ন করা হয় ‘কৃষ্ণসাহা, গনেশ আর আমি একদিন বাজারের মসজিদে বসে মুসলমান হই… মুসলমান বানানোর পর আমার নাম হয় আলী আশরাফ আর গনেশের নাম হয় আলী আকবর’ একথাগুলো আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেননি। সাক্ষী জবাব দেন স্মরণ নেই। আর তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরায় এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কৃষ্ণসাহা, গনেশ আর আমি একদিন বাজারের মসজিদে বসে মুসলমান হই… মুসলমান বানানোর পর আমার নাম হয় আলী আশরাফ আর গনেশের নাম হয় আলী আকবর’ এ কথাগুলো সাক্ষী আমাকে বলেনি।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মুধসূদন ঘরামী বলেছেন, দেলোয়ার নামে একজন রাজাকার ছিল। সে পরে পরিচয় দিত দেলোয়ার শিকদার। এখন শুনছি সাঈদী, আগে শুননিনি জবানবন্দী প্রদানের সময় দুই/তিনটি প্রশ্নের পর তিনি একথা বলেন। মধুসূদন ঘরামী বলেছেন, রাজাকার দেলোয়ার শিকদারকে ১৯৭১ সালের পর মেরে ফেলা হয়েছে এবং তাকে পিরোজপুরে হত্যা করা হতে পারে।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, মাওলানা সাঈদীর নাম কখনো শিকদার ছিল না। শিকদার নামে যে ছিল তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। তাকে যদি মেরে ফেলা না হতো এবং সে যদি এখনো জীবিত থাকত এবং রাষ্ট্রপক্ষ যে দাবি করছে শিকদার এখন সাঈদী নামে পরিচিত তাহলে এ দাবির  একটা অর্থ থাকত। কিন্তু শিকদার মারা গেছে। কাজেই দেলোয়ার শিকদার এবং দেলাওয়ার সাঈদী সম্পূর্ণ আলাদা দুজন ব্যক্তি এবং তাদের পিতার নামও আলাদা। এসময় একজন বিচারপতি বলেন, এ কথাটা আপনি আগেও কয়েকবার বলেছেন। আমাদের মনে আছে। আর বলার দরকার নেই।
এরপর শুনানি আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
শুনানিতে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহানকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
Advertisements