Nurul Kabir copyসরকার খুব তড়িঘড়ি করে উপজেলা নির্বাচন দিয়েছিল। পাঁচই জানুয়ারির প্রতারণামূলক সাধারণ নির্বাচন বর্জন করেছিল সকল বিরোধীদল। নির্বাচনের পর  সব বিরোধীদলের আন্দোলনকে প্রতিহত করার কৌশল হিসেবে সরকার দ্রুত উপজেলা নির্বাচন দেয়। তারা ভেবেছিল যেহেতু তারা একটা সরকার গঠন করতে পেরেছে তখন উপজেলা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে সরকারিদল অনেক কম আসন পেয়েছে এবং অনেক জালিয়াতি ও প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধমকি দেয়ার  খবর পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে একটা হযবরল অবস্থা তৈরি করেছে সরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন  পরিচালনা করতে পারেনি। পাঁচই জানুয়ারিতে  যদি সবার অংশ্রগ্রহণমূলক নির্বাচন হতো তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারি দলে থাকতে পারত না। তাদেরকে বিরোধী দলে থাকতে হতো। আপনারা দেখেছেন সরকারি জোটের অন্যতম দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচম এম এরশাদ বলেছেন, আরেকটা নির্বাচন হওয়া দরকার। একই কথা বলছে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট তো বলছেই। সরকারের যদি শুভ বুদ্ধির উদয় হয় তাহলে তারা পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচনকে পেছনে ফেলে নতুন করে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে।

বিশিষ্ট এ সাংবাদিক বলেন, জাতীয় পার্টি এদেশে গত প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সুবিধাবাদী রাজনীতি  করে এসেছে।তাদের নিজস্ব কোনো রাজনীতি বা রাজনৈতিক কৌশল ছিল না।কখনও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আবার কখনও বিএনপির সঙ্গে থেকে সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছে। গত পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র এরশাদ সকাল বিকেল তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। আর সরকারি দল আওয়ামী লীগ অর্থবিত্ত দিয়ে জাতীয় মূল অংশটিকে তাদের অধীনে নিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম সুবিধাবাদী প্রমাণিত হওয়ায় দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির নতুন করে বিকষিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে বলে আমি মনে করি না।

নুরুল কবির বলেন, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন অন্য কোনো ভাষার বিরুদ্ধে ছিল না। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই ছিল আন্দোলন। আর বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি ছিল অত্যন্ত ন্যায্য। ৭১ সালে বাংলা ভাষা রাষ্ট্র হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি পেলেও আজও বাংলা ভাষা রাষ্ট্রের সর্বত্র চালু হয়নি। এটি বোঝা যায় কোর্টের সাম্প্রতিক একটি অর্ডারে। কেন হয়নি এটি একটি বড় প্রশ্ন! এর কারণ হচ্ছে কোনো দেশের শাসক শ্রেণী জনগণকে নিজেদের থেকে দূরে রাখার জন্য ভাষার একটি দেয়ার তৈরী করে রাখে। আর বাংলাদেশে সেই ভাষাটা হচ্ছে ইংরেজি। যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পক্ষাবলম্বী অর্থাত তাদের ,সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের দর্শন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল গঠিত হবে এবং তারা ক্ষমতায় আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হিসেবে সর্বস্তরে চালু হবে না।

সাক্ষাৎকারটি রেডিও তেহরান এর সাইটে শুনতে পারেন…
সূত্র: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, রেডিও তেহরান

Advertisements