67322_1ভালো মানুষদের রাজনীতিতে ঠাঁই নেই। যারা দূর্বৃত্ত, যাদের সন্ত্রাসের ক্ষমতা আছে,আধিপত্য করার ক্ষমতা আছে রাজনীতি তাদের হাতের মুঠোয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.পিয়াস করিম।

এদিকে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী বলেছেন, কুটকৌশল, ছলনা, সত্য-মিথ্যা, ভাল-মন্দ সব এখন রাজনীতির সাথে মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছে। সত্যিকারের ভাল মানুষটি রাজনীতিতে আসছে না। শনিবার সন্ধ্যায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের ফ্রন্ট লাইন অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।

পিয়াস করিম বলেন, ভালো মানুষদের রাজনীতিতে আসা উচিত। আমাদের রাজনীতিতে দূর্বৃত্তায়ন তৈরি হয়েছে। আজকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা প্রধান সংকটের জায়গা হচ্ছে যে মানুষগুলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করছেন অথচ তারা রাজনীতিতে ঠাঁই পাচ্ছেন না। আজকে যদি আমরা বাংলাদেশের উন্নতি চাই, বিকাশ চাই, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই তাহলে এসব আধিপত্যকামী ও সন্ত্রাসবাদীদের হাত থেকে রাজনীতিকে বের করে এনে তা ভালো মানুষের কাছে সোপর্দ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী বাংলাদেশের রাজনীতিকে একেবারেই বিস্ময়কর ব্যাপার বলে মন্তব্য করে বলেন, সেই ছোটবেলা থেকেই আমি একটি ভিন্ন জগতের মানুষ। অভিনয়,গানবাজনার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। সেই অর্থে আমি নিজেকে রাজনীতিবিদ মনে করি না। আপনারা জানেন, সবাই জানে রাজনীতি কিভাবে হচ্ছে। কুটকৌশল, ছলনা, সত্য-মিথ্যা, ভাল-মন্দ সব এখন রাজনীতির সাথে মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, কয়জন তৃণমূলে গিয়ে রাজনীতি করছে। মানুষের কাছে যাচ্ছে। কই তেমন কাউকে তো দেখি না। সত্যিকারের ভাল মানুষটি রাজনীতিতে আসছে না। আমি রাজনীতি থেকে গুটিয়ে চলে আসিনি। কোন গডফাদারের কাছে নতি স্বীকার করিনি। আমার সময়ে মানুষ দরজা খুলে ঘুমিয়েছে। তবে এবার আমাকে কেন নমিনেশন দেয়নি সেটা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন।

অনেক কিছুই হওয়ার কথা ছিল কিন্তু সব হিসাব সব সময় মিলে না। অনেক হিসাব নিকাশ অনেক সময় বদলে যায়। আমি মন্ত্রী এমপি না হলেও জনগণের কাছাকাছি ছিলাম এবং থাকবো।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে দর্শকের এক প্রশ্নের উত্তরে পিয়াস করিম বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে অব্যবস্থাপনার মধ্যে হয়েছে এবং এতে কারচুপি হয়েছে সে খবর তো গণমাধ্যমে এসেছে। এটা এক অর্থে প্রমাণ করলো যে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে ভুল করেছে বলে যারা বলে তারা ঠিক বলছেন না। কারণ যে নির্বাচনের সাথে রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি জড়িত তাতে অশুভ শক্তিগুলোর আরও বেশি তৎপর হওয়ার কথা ছিল। এতো কিছুর পরেও আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে পারে নি। এটা একটি সত্যি কথা।
বিএনপি এবং অন্যান্য দলগুলো আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি আসন নিয়েছে। এটা এক ধরণের অশনি সংকেত হিসেবে আওয়ামীলীগ দেখবেন কি না আমরা জানি না। কারণ উট পাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে বাস্তবতা সম্পর্কে কোনরকম ধারনা না রাখাকেও আমাদের মূল ধারার রাজনীতির অনেক দিনের প্রবণতা।

নির্বাচনের পুলিশ সিল মারছে এমন খবর আসার পর এর বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বা হতে পারে দর্শকের এমন প্রশ্নের উত্তরে পিয়াস করিম বলেন,নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয় নি এবং এ ব্যাপারে যে কোন ব্যবস্থা নিবে না এটা আমরা জানি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো অযোগ্য, অপদার্থ এতো অক্ষম নির্বাচন কমিশন এর আগে আসে নি। নির্বাচন কমিশন জাতির ইতিহাসে কলঙ্ক। অযোগ্যতা ও অদক্ষতার দিক থেকে এই নির্বাচন কমিশন আজিজ নির্বাচন কমিশনকেও ছাড়িয়ে গেছে। সুতরাং এই নির্বাচন কমিশন তো এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না।

আর যারা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে ৫ থেকে ৭ শতাংশের ভোট পেয়ে ৪০ শতাংশের দাবি করেন, যারা ১৫৩ টা আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে এসেও যদি বলেন এই সংসদ গ্রহণযোগ্য তারা যে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিবেন না এটা জানা কথা।

অনুষ্ঠানে, সারাহ বেগম কবরী বলেন, মক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে সকল ইতিবাচক কাজ। ভাল কাজ করতে ভাল মানুষ লাগবে কিন্তু চাটুকারিতা করে তো ভালকাজ করা যাবে না।

আমার এলাকার ত্বকী যখন হত্যা হল তখন আমি ছুটে গেলাম। আমার মনে হল আমার সন্তান মারা গেছে। আমার প্রশ্ন কেন এত প্রমাণ পাওয়ার পরও ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না। এ বিচার না হলে আমার সরকারকেই তো কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

আমাদের হয়ে গেছে বিপদ। সরকারি দলে থাকলেও কথা বলতে পারবো না। বিরোধী দলে থাকলেও কথা বলতে পারবো না।

অনুষ্ঠানে, অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে পিয়াস করিম বলেন, বিএনপি যদি তাদের আন্দোলন ও নেতৃত্বকে গুছিয়ে নিয়ে আসতে না পারে তাহলে তারা আন্দোলনে যেতে পারবে না। আর আন্দোলনে যেতে না পারলে ইতিহাসের কাছে বিএনপি দায়বদ্ধ থাকবে।

সেদিন মতিয়া চৌধুরী সংসদে বললেন জাওয়াহিরি বাংলাদেশে ৩ বার ঘুরে গেছেন। ওনারা এত খবর পান এই খবর পান না যে, ত্বকীকে কে হত্যা করেছে। সাগর-রুনি কে কারা হত্যা করেছে।

সারা দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চলছেই। আসাদুজ্জামান নূরের গাড়ি বহরে হামলাকারি ৩ জন আসামির লাশ পাওয়া গিয়েছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের মাধ্যমে শাস্তি হতে হবে।

উৎসঃ   নিউজপেজ২৪
Advertisements