67321_1‘অপারেশন চালাতে গেলে দু’একটা অঘটন ঘটতেই পারে’ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর যেন আরও বেড়েছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।

র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি এখন থানা পুলিশও ক্রস ফায়ার চালাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থানা পুলিশের হাতে বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটছে। গত সপ্তাহে দিন-দুপুরে ডিএমপি’র যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের হাতে নিহত হন সুমন। পুলিশ তাকে সন্ত্রাসী ও অনেক হত্যা মামলার আসামি দাবি করলেও তার নামে কোনো থানায় একটি মামলাতো দূরের কথা একটি জিডিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকার নির্বিকার।

বাংলাদেশের এই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও নাগরিক মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এখনই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থামানো উচিত। নইলে ভবিষ্যতে এটা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করারও দাবি জানান তারা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড একটি স্বাধীন দেশের জন্য উদ্বেগের। একটি স্বাধীন দেশে, গণতান্ত্রিক দেশে সাধারণ মানুষ কেন, একজন সন্ত্রাসীও আইনী সহায়তা চাইতে পারবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র তাকে আইনী সহায়তা দেবে। মুখোমুখি হবে বিচারের। কোনো অবস্থাতেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন যোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকার আসলে কী বলতে চায়, সরকারের অবস্থান কী, তা জাতির কাছে স্পষ্ট করা উচিত।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, সারাদেশে প্রতিদিনই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অনাকাঙ্খিত বক্তব্যের পর এটা আরও একধাপ বেড়েছে। র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি এখন থানা পুলিশও আটকের পর রাস্তায় ফেলে গুলি করে মারছে মানুষ। এখন আমরা কোন দেশে বাস করছি? খবরের কাগজে প্রায়ই দেখছি, মামলার প্রধান আসামির লাশ উদ্ধার হচ্ছে রাস্তার পাশ থেকে। নিহতদের পরিবার জানাচ্ছে, আগের দিন পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশের হাতে আটক, এর পর মিলছে লাশ! কারা এর হত্যাকারী? পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর নেই। সরকারকে শুধু এতটুকুই বলব, এখনই এটা থামান। নইলে সামনে ভয়ঙ্কর অবস্থা ধারণ করবে।

নাগরিক মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, প্রতিদিন খবরেরর কাগজ খুললেই দেখছি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংবাদ। ছাপা হচ্ছে, ‘দীর্ঘ হচ্ছে লাশের তালিকা’, ‘মামলা-জিডি নেই, তবুও সুমনেকে সন্ত্রাসী বানিয়ে পুলিশের ক্রসফায়ার’। এসব বিষয় দেশের জন্য উদ্বেগের। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। ভুলণ্ঠিত হচ্ছে মানবাধিকারও। কে বন্ধ করবে, কে থামাবে এসব? কাকে বলবেন, কাকে লিখবেন? সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এখন হতাশ। নির্বাক হয়ে যাচ্ছে সবাই।

উৎসঃ   প্রাইমনিউজবিডি
Advertisements