DMCরাজধানীর বনানী থানা চলছে দুই উপ-পুলিশ পরিদর্শকের (এএসআই) ইশারায়। ওই দুই কর্মকর্তা প্রতিমাসে বনানী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তারা হলেন- এএসআই লিটন শরীফ (সিভিল টিম) ও এএসআই জহিরুল ইসলাম জহির (সেরেস্তা)। তাদের প্রভাবে ওই থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা একরকম জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং মতের অমিল হলেই প্রতিবাদকারীদের অল্প সময়ের মধ্যে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত দুই এএসআই তাদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, তাদের আয়ের মূল উৎস হচ্ছে আবাসিক হোটেল ও মাদক। তারা হোটেল সোনারগাঁও, হোয়াইট রিজেন্সি, ব্লুবার্ডসহ ১৫/১৬টি আবাসিক হোটেল তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ওইসব হোটেলে তাদের ছত্রছায়ায় দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। হোটেল প্রতি সপ্তাহে এক লাখ টাকা করে আদায় করে নিচ্ছেন এই দুই কর্মকর্তা।

বনানী থানার প্রতিটি রেস্ট ও গেস্ট হাউজেও রয়েছে তাদের সরব উপস্থিতি। নারী ব্যবসার ডন খ্যাত রাজিব বাবুর এক সময়ের ম্যানেজার রবি’র অলিখিত পার্টনার হিসেবে সার্বিক দিক দেখাশুনা করেন পুলিশের এই দুজন কর্মকর্তা।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, এএসআই লিটন শরীফের ক্যান্টনমেন্টর মানিকদি এলাকায় রয়েছে ৫ কাঠা জমি। ভাটারার সাতারকূলেও রয়েছে ৫ কাঠা জমি। রয়েছে নতুন মডেলের দুইটি নোহা মাইক্রোবাস ও একটি অত্যাধুনিক টয়োটা এক্স করোলা প্রাইভেটকার। এছাড়া স্বনামে-বেনামে তাদের রয়েছে একাধিক ব্যাংক একাউন্ট।

অপরদিকে, এএসআই জহিরের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। অর্থের বিনিময়ে ডিউটি বন্টন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট ক্লিয়ারেন্সসহ নানা অপকর্মে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মানিকদিতে তারও রয়েছে ৫ কাঠার একটি প্লট। খিলক্ষেতের নামাপাড়ায় তার রয়েছে আড়াই কাঠার একটি প্লট। নিয়মিত গভীর রাতে তিনি থানা এলাকার বাইরে একাধিক হোটেলে অবস্থান করাসহ বিভিন্ন মাদক স্পটে তাদের রয়েছে আনাগোনা। এক্ষেত্রে মোটর সাইকেলযোগে তাকে সহযোগিতা করেন ওই থানারই এসআই জাকির।

সূত্র জানায়, ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কনস্টেবল থেকে এএসআই হিসিবে প্রমোশন নিয়ে ২০১২ সালের ১০ এপ্রিলে বনানী থানায় যোগ দেন। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তারা কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

তাদের বিরুদ্ধে একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য কারণে তারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে। বরং পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ প্রভাব খাটিয়ে নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে ডিএমপি সদর দপ্তরের ডিসি স্বাক্ষরিত এক বদলির আদেশে (স্ট্যান্ডরিলিজ) এএসআই লিটন শরীফকে খিলক্ষেত থানায় যোগ দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার নির্দেশ থাকলেও তিনি যোগ দেননি।

এমনকি এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় ডিবিতে বদলির আদেশ হলেও প্রতিটি আদেশ অমান্য করে বনানী থানায় এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গুলশান জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার নুরুল আমিন বাংলামেইলকে জানান, ওইদুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে তাদের কাছে কোন অভিযোগ নেই। তবে যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এ এস আই লিটন জানান, তিনি প্রায় দেড় বছর হলো বনানী থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিবিতে তার বদলি হয়ে গেছে। তিনি ছুটি থেকে ফিরে ডিবিতে যোগদান করবেন।

তিনি আরো বলেন, ‘একজন এএএসআইয়ের কি ক্ষমতা রয়েছে। মূলত থানার ওসি আমাকে স্নেহ করার কারণে হয়তো কারো কারো কাছে বিষয়টি ভালো নাও লাগতে পার। আর আমার নিজের নামে বা স্ত্রী সন্তানের নামে কোথায় কোন জমি নেই। আমি মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন পাই। ওই টাকায় আমি চলি। মাদকের সঙ্গে আমার কোন আপোস নেই।’

অভিযোগের ব্যাপারে এ এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, আমি এ থানায় যোগদানে যদি কারো অসুবিধা হয় তাহলে চলে যাবো। আমি অফিসিয়াল ডিউটি করে। ওসি সাহেবের নির্দেশ মোতাবেক আমাদের কাজ। আমার কোন নিজস্ব ক্ষমতা নেই।

সূত্র: বাংলামেইল২৪ডটকম

Advertisements