dublin_mosqueক্যাথলিক গির্জার দেশ আয়ারল্যান্ডে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ২০৪৩ সালের মধ্যে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টানদের ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী হবেন মুসলমানরা। ২০১১ সালে দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৪৯,০০০। কিন্তু ২০২০ সালের তা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ অন্তত ১ লাখে উন্নীত হবে। বছরে অন্তত ৫০০ লোক সেখানে ইসলাম গ্রহণ করছেন। ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের বহুল পঠিত সংবাদপত্র ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসে প্রকাশিত Shamrock Crescent: Islam Is Ireland’s Fastest Growing Religion শীর্ষক প্রতিবেদন অবলম্বনে বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফাতিমা ফেরদৌসী;

আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র এবং রোমান ক্যাথলিক গির্জা প্রায় সমার্থক। তবে এই দেশটিতে এখন সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৪৩ সালের মধ্যে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টানদের ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী হবে মুসলমানরা।

আয়ারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় জানিয়েছে, ১৯৯১ সালে আয়ারল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.১ শতাংশ। ২০১১ সালে তা বেড়ে ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে (মোট মুসলিম জনসংখ্যা ৪৯,০০০)।

২০২০ সালের আয়ার্যামন্ডে মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ অন্তত ১ লাখে উন্নীত হবে।

মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ অভিবাসন, জন্মহার বৃদ্ধি এবং ইসলামে ধর্মান্তর। দেশটিতে মুসলমানদের পরেই সবচেয়ে বেশি বাড়ছে অর্থডক্স খ্রিষ্টানদের সংখ্যা। ২০০৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মাত্র ৫ বছরে তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৪৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

আদমশুমারির তথ্যে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের ৯১.৬ শতাংশ নিজেদের ক্যাথলিক বলে পরিচয় দিতেন। সেই সংখ্যা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৮৪ শতাংশে। ক্যাথলিকদের মধ্যে মাত্র ৩৪ শতাংশ গির্জায় যায়। অনদিকে দেশটিতে প্রোটেস্ট্যান্টদের সংখ্যা মাত্র ৫ শতাংশ।

১৯৯১ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দেশটিতে ধর্মে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। এখন দেশটিতে কোনো ধর্মেই বিশ্বাসী নয় এমন লোকের সংখ্যা ২ লাখ ৮০ হাজার।

এই চিত্রের বিপরীতে আয়ারল্যান্ডে মুসলামনদের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে গড়ে উঠছে একের পর এক মসজিদ। উত্তর ডাবলিনে চলতি বছরই ৫ কোটি ডলার (৪০০ কোটি টাকা) ব্যয়ে দেশটির সবচেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

ইলিউম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লোনগ্রিফিন সেন্টারে নির্মিতব্য এই মসজিদটিতে একত্রে ৩,০০০ লোক নামায পড়তে পারবেন। এটায় থাকবে দুটো মিনার, নামাযের স্থান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, অফিস, লাইব্রেরি, মরচুয়ারি, ৬০০ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন অনুষ্ঠান কেন্দ্র, স্কুল, ফিটনেস সেন্টার এবং অ্যাপার্টমেন্ট।

আয়ারল্যান্ডে মুসলিম নারীরা বিনা বাধায়ই হিজাব নেকাব পরতে পারে, যেটা সম্ভব নয় ফ্রান্সে।

দা আইরিশ ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ক্যাথলিক নাগরিকদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কারণেও দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। বছরে দেশটিতে অন্তত ৫০০ লোক ইসলাম গ্রহণ করছেন। ধর্মান্তরিতদের একটা বড় অংশই নারী।

ধর্মান্তরিত নারীদের সহায়তার জন্য বেশ কিছু সংগঠন রয়েছে, যেমন দা মুসলিম সিস্টারস অব আয়ার। ইসলামে নবদীক্ষিতদের একজন হচ্ছেন ৩৬ বছর বয়সী  নারী আয়শা। আগে তার নাম ছিল লিজা।

ইসলাম গ্রহণের কাহিনী শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় ১২ বছর আগে আমি ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী হই। আমার জীবনধারা অন্য ১০ জন আইরিশদের মত ছিল না। আমি নৈশক্লাবে যেতাম না, মদপান করতাম না। আমি ভাবতাম এমন একদল লোক আছে কিনা যারা নিভৃত জীবনযাপন করে।’

আয়শা জানান, অবশেষে ইসলামেই তিনি সব প্রশ্নের জবাব পান এবং তিন বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেন।

গত বছর মৌরিশাসের এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করেন তিনি। আয়শা জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের তার পরিবার তাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছে। তারা তাকে হিজাব ও পবিত্র কুরআন কিনে দিয়েছে। যদিও তার বাবা একজন গোড়া ক্যাথলিক। তিনি প্রতি রবিবার গির্জায় যান।

আয়শা বলেন, তার জীবন এখন শান্তিময়। তার ভাষায়, ‘ইসলাম অধিকতর শান্ত ও শান্তির জীবনধারা। এখানে ঐক্যের অনুভূতি তীব্র। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশই মুসলমান। তারা প্রতিদিন মক্কার কাবার দিকে মুখ করে নামায পড়ে। মেঝেতে মুখ রেখে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ একটা শক্তিশালী ও পবিত্র অনুভূতি। আমি কখনাই আমার শরীর প্রদর্শন করি না।’

সূত্র: ibtimes.com, আরটিএনএন

Advertisements