Sakawat Hossainবাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বেনাপোলে এবার সরকারি পর্যায়ে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেনি ভারত। এজন্য বাংলাদেশে নিরাপত্তার খারাপ অবস্থার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দোপধ্যায়ের সরকারে বাংলাদেশ বিরোধীতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শাখাওয়াত হোসেন। তিনি আজ শুক্রবার প্রিয়.কমকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে তেমন কোন অশান্ত পরিবেশ নেই। এটি অজুহাত মাত্র। তিনি জানান,পশ্চিমবাংলার কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে এরমধ্যে। এদিকে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন,বাংলাদেশের ভেতরে জামায়াতের হুমকি রয়েছে তা ঠিক। তবে এমন হুমকি বা জামায়াতের সহিংসতার ঘটনা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার অনুষ্ঠান বাতিল করার কারণ হতে পারে না।মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একসঙ্গে পালন হয়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দোপধ্যায়ের যৌথ অনুষ্ঠানে সম্মতি দেয়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ ওপার বাংলার মিডিয়া প্রচার করছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো না। চরম হুমিকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার ভারতের জি-নিউজের বাংলা অনলাইন ২৪ঘন্টা এমন খবরের শিরোনাম করছে,‘অশান্ত ওপার বাংলা, ভাষা দিবসেও তাই আলাদা রইল দুই বাংলা ।’ এদিকে গতকাল কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকা ‘নিরাপত্তার কারণে একুশে খুলবে না সীমান্তের দোর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন দুটিতেই বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ বলে জানানো হয়েছে।

বাংলা অনলাইন ২৪ঘন্টা.কমের প্রতিবেদন
‘’বাংলাদেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় এ বছর ভাষা দিবস একত্রে পালন করছে না ভারত সরকার। বাংলাদেশের সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়াতে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অনুপ্রবেশ আটকাতে সীমান্তে বসানো হচ্ছে বায়োমেট্রিক মেশিন। জলপথ দিয়ে অনুপ্রবেশ আটকাতে আধুনিক ব্যবস্থা চালু করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইআইটির বিশেষজ্ঞদের।

বিগত কয়েক মাসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন পরিস্থিতি যতটা উত্তপ্ত হয়েছে, ততটাই কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত সরকার। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি দুই দেশ একত্রে ভাষা দিবস পালন করে।কিন্তু এবার সেই অনুষ্ঠান বাতিল করেছে ভারত সরকার। অনুপ্রবেশ আটকাতে সীমান্তে বসানো হয়েছে বায়োমেট্রিক মেশিন। সীমান্ত পেরনোর সময় ওই মেশিনে আঙুল ছোঁয়ালেই ধরা পড়বে ব্যক্তির পরিচয়।ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কুড়ি শতাংশই জলপথ। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় জলপথে বাড়ছে অনুপ্রবেশ। ডাকাতির ঘটনাও বেড়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে কীভাবে অনুপ্রবেশ আটকানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে আইআইটির বিশেষজ্ঞদের।‘’

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন
খুলে গেল সীমান্তের দু’দিকে পেল্লায় গেট। দু’দেশের মানুষ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। বুকে কালো ব্যাজ, মুখে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…।’ ফুলে-ফুলে ছয়লাপ ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড।’
আগামী কাল, ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবসে পেট্রাপোল বা বেনাপোলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এই দৃশ্য আর দেখা যাবে না। এত দিন দু’দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও মন্ত্রীরা পড়শি দেশে গিয়ে শহিদবেদিতে মালা দিতেন। সেই স্মারক বিনিময় এবং বক্তৃতা পর্বও বাতিল। ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’-এ যেখানে ভারতের মঞ্চ বাঁধা হত, বদলাচ্ছে সেই জায়গাও। বিএসএফ, শুল্ক দফতর এবং উত্তর ২৪ পরগনা পুলিশকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এর আগে টাকিতে বিজয়া দশমীর দিন ইছামতীর বুকে দু’দেশের বিসর্জন বন্ধ করেছে প্রশাসন। এ বার একুশের মেলামেশাও বন্ধ হল। কারণ মূলত নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়। এক দিকে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতা, অন্য দিকে ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচন। বেড়ে গিয়েছে সোনা পাচার। পেট্রাপোল শুল্ক দফতরের ডেপুটি কমিশনার শুভেন দাশগুপ্ত বলেন, “নিরাপত্তার কারণেই মূলত এই সিদ্ধান্ত।” জেলার অতিরিক্ত এসপি ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ও বলেন, “এ বার বিশেষ সতকর্তাও থাকবে।”

উৎসঃ   প্রিয়ডটকম
Advertisements