বহুল আলোচিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। ব্যাপক কারচুপি করে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঠেকানো যায়নি।
৯৭টি উপজেলার মধ্যে সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ৭০টি উপজেলার মধ্যে বিএনপি ৩১টি এবং আওয়ামী লীগ ২৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি ৬টি আসন বেশি পেয়েছে।

P1_bapok-karchupi-shotteoবাংলাদেশের ইতিহাসে স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভবত কখনো ক্ষমতাসীন দলের এমন ভরাডুবি ঘটেনি।
সব ভোট কেন্দ্র দখল, অস্ত্রের মহড়া, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বসহ ভোট কারচুপির কারণে ভোটের শুরুতেই ৭টি উপজেলার নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। কারচুপির প্রতিবাদে ৯টি উপজেলায় আজ হরতালও আহ্বান করেছে দলটির স্থানীয় কমিটি।
নির্বাচনে দেশের বৃহত্তম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী অবিশ্বাস্য ভালো করেছে। আওয়ামীপন্থী গণমাধ্যমের কথিত জরিপে দলটি কার্যত জনসমর্থহীন বলে প্রচারণা চালালেও নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা গতকাল ৯৭টি উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে। ইসির তথ্যানুযায়ী ৯৭টি উপজেলায় ১,২৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪৩২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫১৩ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩২৯ জন।
এসব এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৭ জন আর নারী ভোটার ৮২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩৫ জন। তবে কত ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন তা গতকাল পর্যন্ত জানা যায়নি।
৯৭টি উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬ হাজার ৯৯৫টি ও ভোটকক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০টি।
বর্জন কেন্দ্র দখল ও সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে ৯৭ উপজেলায় নির্বাচন
কেন্দ্র দখল দাঙ্গা-হাঙ্গামা ভোট বর্জনের মধ্যদিয়ে গতকাল দেশের ৯৭টি উপজেলায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ উপজেলাতেই নির্বাচনকেন্দ্রিক বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ব্যাপক জালভোট, ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিকালের আগেই পাবনার সুজানগর, বরিশালের গৌরনদী, ভোলার লালমোহন ও ঝিনাইদহের শৈলকূপায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থিত চার প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেছেন। এছাড়া, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয় গণনার কাজ।
শান্তিপূর্ণ ভোট না হওয়ায় মেহেরপুর সদর, ঝিনাইদহের সদর ও শৈলাকূপা, বগুড়ার সোনাতলা, বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও গৌরনদী, পাবনার সুজানগর ও সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে আজ হরতাল ডেকেছে বিএনপি।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত উপজেলা নির্বাচনের প্রথম তফসিল অনুযায়ী ৯৭টি উপজেলায় গতকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। কেন্দ্রগুলোতে সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটার বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েক দফা সম্মেলন করে নির্বাচনে কারচুপি ও ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সরকারি দল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে।
প্রথম ধাপের এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট এক হাজার ২৭৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪৩২, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩২৯ জন আছেন। এই ৯৭টি উপজেলার মোট ভোটার এক কোটি ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৭ জন এবং নারী ৮২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩৫ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছয় হাজার ৯৯৫টি এবং ভোটকক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০টি। রিটার্নিং অফিসার ৪০ জনই সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন ৯৭ জন। প্রিসাইডিং অফিসার ৬ হাজার ৯৯৫ জন।
নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দুদিন আগে থেকেই স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। তারা মোট পাঁচদিন নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করবে। এছাড়া র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীও রয়েছে। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতও।
৮ উপজেলায় আজ হরতাল
নির্বাচনে ভোট ‘জালিয়াতির’ প্রতিবাদে ছয় জেলার আট উপজেলায় বৃহস্পতিবার হরতাল ডেকেছে বিএনপি। জেলাগুলো হলো- মেহেরপুর সদর, ঝিনাইদহের সদর ও শৈলাকূপা, বগুড়ার সোনাতলা, বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও গৌরনদী, পাবনার সুজানগর ও সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা। গতকাল বিকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্থানীয়ভাবে এই হরতাল ডাকা হয়েছে।
গৌরনদী ও বাকেরগঞ্জে নির্বাচন বর্জন
বরিশাল অফিস জানিয়েছে, দিনভর জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভোট কারচুপির মধ্যদিয়ে বরিশালের দুই উপজেলায় সম্পন্ন হলো প্রথম দফার নির্বাচন। এসব অভিযোগে গৌরনদী ও বাকেরগঞ্জে বিএনপি, জাপা এবং ১ আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেছে। পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপি আজ বৃহস্পতিবার এ দুই উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে। গৌরনদীতে ব্যালট ছিনতাই ও আচরন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার ছাড়াও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক সাংবাদিক।
গতকাল জেলার বাকেরগঞ্জ ও গৌরনদী উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভোট প্রদান শুরুর একটু পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক জালভোট প্রদান, বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্ট বের করে কেন্দ্র দখল ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে। এসব অভিযোগ এনে নির্বাচন শুরুর দুই ঘণ্টার মাথায় গৌরনদীতে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। সকাল ১০টায় গৌরনদী প্রেস ক্লাব চত্বরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা আবুল হোসেন আবুল হোসেন মিয়া, বিএনপির অপর প্রার্থী লোকমান হোসেন খান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান, জহির সাজ্জাত ও তসলিমা বেগম সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বয়কটকারীদের অভিযোগ সরকার দলীয় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ক্যাডাররা ভোটের আগের রাতে বিএনপির প্রার্থীর মাইক্রোবাস ভাংচুর করে এবং সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ছাড়াও টরকি বন্দর এলাকায় গৌরনদী পৌর তরুণ দলের আহ্বায়ক অলিল মাল, আলম রাঢ়ী, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান স্বপনসহ একাধিক নেতাকর্মীর ঘর ভাংচুর করে। প্রার্থীরা আরও অভিযোগ করেন ভোট গ্রহণ শুরুর পরপরই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে মারধর করে বের করে দেয়। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া সহ প্রকাশ্যে ভোট প্রদান বাধ্য করা হয়। ভোটকেন্দ্রে নিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে উত্তর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান আজ গৌরনদীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শাহআলম খান বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মিথ্যাচার চালায়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস (এমপি) বলেন, বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় নিজেদের ভরাডুবির আশঙ্কায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে বর্জনের ঘোষণা দেন।
গৌরনদীর মতো একই অবস্থা ছিল বাকেরগঞ্জ উপজেলায়ও। এ উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন কেন্দ্রে মহাজোটের এমপি নাসরিন জাহান রত্না এবং মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার উপস্থিতিতে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ অপর প্রার্থীদের। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে বেলা ২টায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন বয়কট করে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের আহ্বান জানানো হয়। বেলা ২টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিলুর রহমান সিকদার সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। এ সময় উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছির উদ্দিন হাওলাদারসহ পৌর বিএনপির সভাপতি মতিউর রহমান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ জোমাদ্দার, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি প্রার্থীদের মতো আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম আতিকুর রহমানও ভোট কারচুপির প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল তদন্ত কেন্দ্রের এক এএসআই ও তিন কনস্টেবলকে গতকাল দুপুরে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান, গতকাল বেলা বারোটার দিকে সরিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে জাল ভোটদানকারীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই নাসির উদ্দিন, কনস্টেবল মো. নুরু, শহিদসহ আরও একজন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
নির্বাচনে আচরনবিধি লঙ্ঘন করার অপরাধে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি এসএম রহমান পারভেজসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গৌরনদী থানার ওসি আবুল কালাম জানান, গতকাল দুপুরে মাহিলাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘন করায় এসএম রহমান পারভেজ, আ.লীগকর্মী শান্তি রঞ্জন করসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। একইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে সরিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় পুলিশ আ.লীগকর্মী খোকন, রাকিব, রাজুসহ চারজনকে আটক করেছে।
এছাড়া গৌরনদীতে উপজেলা নির্বাচনে জাল ভোট দেয়ার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বেসরকারি ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার জেলা প্রতিনিধি শামীম আহমেদ।
জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে গতকাল দুপুরে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থকরা জাল ভোট দেয়ার সময় বেসরকারি ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া বাংলা ভিশনের বরিশাল জেলা প্রতিনিধি শামীম আহমেদ সংবাদ সংগ্রহের জন্য যান।
এ সময় ওই কেন্দ্রের জাল ভোট প্রদানকারী আ.লীগ নেতা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল সরদার ও আনোয়ার হোসেন সাংবাদিক শামীম আহমেদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
কয়রা ও দিঘলিয়ায় আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্র দখলের মহড়া
খুলনা অফিস জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্র দখলের মহড়া, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা, পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া, ভোটকেন্দ্রের বাইরে পোলিং এজেন্টদের পিটিয়ে আহত করা এবং প্রকাশ্যে টেবিলে রেখে ব্যালট পেপারে সিল মারাসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে খুলনার দিঘলিয়া ও কয়রা উপজেলায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ দুটি বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।
গতকাল সকাল নয়টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ১৯ দলীয় জোট প্রার্থী সাইফুর রহমান মিন্টুর সমর্থকরা চন্দনীমহল শিল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার স্লিপ দেয়ার সময় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে সুমন, বাচ্চু, সোহাগ, নূর উদ্দীন, আয়ুব, বারেক ও মেম্বর মোহাম্মদ আলী মিন্টু আহত হন। বাচ্চু ও নূর উদ্দীনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুর রহমান মিন্টু উক্ত কেন্দ্রে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে এই কেন্দ্রের পাশে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভোট শুরুর আধাঘণ্টা পরে গাজীরহাট ইউনিয়নের জঙ্গুশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সুব্রত কুমার সরদার তুচ্ছ অভিযোগে ১৯ দলীয় জোট প্রার্থীর এজেন্ট নাজমুল হোসেনকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ডোমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার পরও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনি মোহন বিশ্বাস ও ঋষিকেষ সরকারকে বারবার বিভিন্ন বুথে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সকাল ১১টায় স্থানীয় মাঝিরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্রের চতুর্দিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা আবদুর রউফ ও সন্ত্রাসী টিপু সুলতানের নেতৃত্বে বহিরাগতদের জড়ো হয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এ সময় অভিযোগ পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুত্ফুন্নাহার নাজিম তাদের সরিয়ে দেন। যদিও ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্র ত্যাগ করার পর ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন বুথে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন। ভোট গ্রহন সম্পন্ন হওয়ার আধাঘণ্টা আগেও একই কেন্দ্রের ৩নং বুথে প্রবেশ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সালাম মোল্লা প্রকাশ্যে টেবিলের ওপর ব্যালট পেপার রেখে ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য হুমকি দেন। ওই কেন্দ্রের পোলিং অফিসার দিলারা পারভীন ও প্রার্থীদের এজেন্টরা এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল মুত্তালিব খান বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি এ কেন্দ্রে শামীম শেখ নামে স্থানীয় আমবাড়িয়া কেটলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রকে ভোট দিতে দেখা যায়। যদিও সে তার বাবার নাম লুত্ফর রহমান বলতে পারলেও মায়ের নাম আখিরন্নেছা বলে জানায়। তবে ভোটার লিস্টে তার মায়ের নাম ছিল নূর জাহান বেগম। বিষয়টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নজরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। যোগীপোল ইউনিয়নের ৪৫নং কেন্দ্রের যোগীপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার দিঘলিয়া উপজেলা সমবয় কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামানকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট প্রিয়াংকা পাল কেন্দ্র থেকে তাকে প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া যোগীপোল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের খানাবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে কিছু যুবক জালভোট দেয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ তা প্রতিহত করে।
এর আগে সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার আরডিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মো. সাইফুর রহমান মিন্টু। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী খান নজরুল ইসলাম দিঘলিয়া এম এ মজিদ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল বলে জানান সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান।
অপরদিকে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কয়রা উপজেলায় ১৯ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা আ.খ.ম তমিজ উদ্দিনের এজেন্টরা আমাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে কেন্দ্রের দক্ষিণ দিকের পুকুরের পাশে পৌঁছলে আওয়ামী সমর্থিত জিএম মহসিন রেজার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে পোলিং এজেন্ট জালাল উদ্দিন, হারুন অর রশীদ, শহীদুল ইসলাম ও ফারুক হোসেন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে র্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে পাঠান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রাজুয়েটস মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বেতকাশি দিঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেশ্বরীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মহাসিন রেজার সমর্থকরা তমিজউদ্দিনের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া গোবিন্দপুর আবদুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাহেলা নাম মহসিন রেজার এক সমর্থককে নারী ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। একই অভিযোগে বামিয়া এম এ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে রবিউল ইসলামকে পুলিশ বের করে দেয়।
সকাল আটটায় কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের গাজী আবদুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজে ভোট প্রদান করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জিএম মহাসিন রেজা। এ সময় ওই কেন্দ্রে লম্বা লাইনে ভোটারদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে পার্শ্ববর্তী দেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১৯ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা আখম তমিজ উদ্দিন ভোট দেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আমাদি, গ্রাজুয়েট স্কুলসহ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রে থেকে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতেও দেয়া হয়নি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমার পোলিং এজেন্টদের আবার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হাসান বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল।
চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় খুলনার কয়রা ও দিঘলিয়া উপজেলায় ভোটগ্রহণ হয়। দুটি উপজেলার ১০৭টি কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই লাখেরও বেশি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার জন্য দু’উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিন হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সহযোগিতা করে কয়রায় নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা এবং দিঘলিয়ায় সেনাবাহিনী। তবে এ দুটি বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত্ম ভোট গণনা চলছিল।
ঝিনাইদহের ভোট বর্জন, ব্যালট পেপার ছিনতাই
ঝিনাইদহের ৪ উপজেলায় ভোটগ্রহণ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি জানান, ভোট বর্জন, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহের ৪ উপজেলার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার সকালে উত্সবের মধ্যে দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে তেমন ভোটার উপস্থিতি না থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সকাল ১১টার সময় শৈলকুপা শহরের কবিরপুর নিজ বাসভনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জন ও বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা দেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রাকিবুল হাসান খান দিপু। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মোশারফ হোসেন শিকদাদের লোকজন ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে জাল ভোট প্রদান, ব্যালট পেপার ছিনতাই, এজেন্টদের বের করে দেয়া এবং কর্মীদের মারপিট করছে। এছাড়া ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনার পর শৈলকুপা থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সকালে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কারণে শৈলকুপার মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। এদিকে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও ভয় ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা ফয়জুদ্দীন মোলস্নাকে ৩ মাসের কারা দণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে লাঞ্ছিত ও জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান আতিয়ার রহমান নামে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না বাজারে ভোটকেন্দ্রে আসার সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এ সময় উভয় দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে মাধবপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী আলী আজগর, একই গ্রামের মফিজ, চান্দেরপোল গ্রামের রফিকুল, পুড়োবেতাই গ্রামের আশাদুল, বিএনপি কর্মী নাছির উদ্দীন, নাজমুল ও আবুল কালাম আহত হন। একই সময় গান্না ইউনিয়নের রঘুনাথপুর কেন্দ্রে বিএনপি কর্মীদের উপর আওয়ামী লীগ সমর্থকরা হামলা চালালে দুর্গাপুর গ্রামের কিতাবদি, তোয়াজ উদ্দীন, আবদুল হান্নান, সুপ্রাদ আলী, আবদুল জব্বার ও বাবলু মিয়া আহত হন। সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার মামুনশিয়া গ্রামে বিজিবির টহল দলের সামনে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় ফারুক ও আবদুল কুদ্দুস আহত হন। এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের খাজুরা ভোট কেন্দ্রে ভোট দিসে আসার সময় যুবদল নেতা লোকমান হোসেন ও মঙ্গল মিয়াকে পিটিয়ে আহত করে। এদিকে ঝিনাইদহ কেসি কলেজ ভোটকেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ভোটার তালিকা কেড়ে নেয়া হয়েছে। এ সময় জেলা বিএনরি নেতা শাহজাহান আলী আহত হন।
সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চননগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে সরকার দলীয় সমর্থকদের হামালায় তিনজন আহত হয়েছে। এ সময় মিলন নামে বিএনপি সমর্থক চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল আলিমের এজেন্টকে বের করে দেয়। ঝিনাইদহ পৌর এলাকার পবহাটি ও উদয়পুর ভোটকেন্দ্রে ৫ বিএনপি সমর্থককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলায় নলডাঙ্গা ভুষণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুবর্ণসারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলণ্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাকোবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়তালিয়ান দাখিল মাদ্রাসা, সাহাপুর ঘিঘাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেলাট দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা, হাট বারো বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বার্ফা মঙ্গল পৈতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমারহাটি দাখিল মাদরাসা, ঝনঝনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাজদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৬টির অধিক ভোট কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। ঝিনাইদহের চারটি উপজেলায় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৮৮টি আর ভোটার ছিল ৮ লাখ ৪০ হাজার ৮১৪ জন।
সোনাকান্দা ও সারিয়াকান্দিতে সংঘর্ষ
বগুড়া অফিস জানিয়েছে, প্রথম দফায় উপজেলা নির্বাচনে বগুড়ায় সোনাতলা ও সারিয়াকান্দিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট বক্স ছিনতাই ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে ১৫ জন। এ ঘটনায় সোনাতলা উপজেলার ৪টি ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম ও দুপচাঁচিয়ায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছে।
নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বগুড়ার ৬টি উপজেলা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গতকাল। এরমধ্যে শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম ও দুপচাঁচিয়ায় উত্সবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও সারিয়াকান্দি ও সোনাতলায় থেমে থেমে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। সকালে সোনাতলা উপজেলার সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১৯ দলীয় জোট প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে প্রিসাইডিং অফিসার ও আওয়ামী লীগ কর্মী লেবু মিয়া মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন। কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার পর আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একই সময়ে উপজেলার বয়রা স্কুল ও কলেজ এবং বয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেটে নেয়ার অভিযোগ ওঠে আ.লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগুনিয়ার তাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চমরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেলুরপাড়া এনায়েত আলী বিদ্যালয়, পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কর্পুরহাট বিদ্যালয়, হুয়াকুয়া বিদ্যালয়, তেকানী চুকাইনগর উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা। এর মধ্যে ভেলুরপাড়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট বক্স ভাংচুরের ছবি তোলার সময় স্থানীয় উত্তরের খবর পত্রিকার ফটো সাংবাদিক বজলুর রশীদ সু্ইটের ক্যামেরা কেড়ে নেয়া হয়। পরে স্থানীয় আওয়মী লীগ নেতাদের সমঝোতায় ক্যামেরা ফিরিয়ে দেয়া হয়। কালাইহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন হামলা চালিয়ে ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। ফলে বেলা সাড়ে ১১টা হতে বিকেল পৌনে তিনটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
কালাইহাটা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জিলুর রহমান জানান, বিকেল পৌনে তিনটায় পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকালে নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোনাতলার হুয়াকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলাকালে পরপর ৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি কর্মী নজরুল ইসলাম, শান্তি মিয়া, আলমগীর ও শাজাহান আলী আহত হয়।
এদিকে সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচীর গনকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুটি ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়। চরকাজলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিএনপি প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুছ আলী জানান, সোনাতলা উপজেলার সুখান পুকুর উচ্চ বিদ্যালয়, কর্পর উচ্চবিদ্যালয়, নওদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাটকড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অভয়নগরে শান্তিপূর্ণ ভোট
যশোর অফিস জানিয়েছে, বহুল আলোচিত চাপাতলা মালোপাড়াসহ যশোরের অভয়নগর উপজেলায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভোটকেন্দ্র ঘুরে নারী ভোটারদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা যায়।
বেলা ১২টায় উপজেলার রাজঘাট জাফরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোটারবেশে ঢুকে পড়ে শ’খানেক লোক। তারা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারতে উদ্যত হলে প্রিজাইডিং অফিসার আশিস কুমার নন্দী কর্তব্যরত পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এর আগে তারা জাফরপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর তিনটি টেম্লট ভাংচুর করে। পরে একই দুর্বৃত্তরা পার্শ্ববর্তী গাজীপুর কেন্দ্রে দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় বলে এলাকাবাসী জানান।
ব্যালট লুটের চেষ্টার ঘটনা জানতে পেরে অল্পসময়ের মধ্যে জাফরপুর কেন্দ্রে উপস্থিত হন পুলিশের খুলনা বিভাগীয় ডিআইজি এসএম মনিরুজ্জামান, যশোরের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম সরফরাজসহ সেনা, বিজিবি ও র্যাব কর্মকর্তা ও সদস্যরা। ডিআইজি মনিরুজ্জামান কেন্দ্রটিতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান দুর্বৃত্তদের মোকাবিলায় পাশাপাশি অবস্থিত দুই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে নির্দেশ দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম সরফরাজ বলেন, দুর্বৃত্তরা সংখ্যায় শ’খানেক হলেও দ্রুতই তাদের হটিয়ে দেয়া হয়। প্রিজাইডিং অফিসার আশিস নন্দী দুই রাউন্ড গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেন।
উল্লিখিত দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যায়। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেন, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে দায়িত্বরতরা চেষ্টা চালিয়েছেন।
এরআগে সকালে চাপাতলা মালোপাড়ার বাসিন্দাদের কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে আসছে। চাপাতলা চেঙ্গুটিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার তিমিরবরণ সরকার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ওই কেন্দ্রের ভোটার মনিন্দ্রনাথ জানান, নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা নেই। উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন চাপাতলা মালোপাড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনা দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
চাপাতলা চেঙ্গুটিয়া কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সকাল ৯টার সময় কেন্দ্রে বসে পরিচয় কার্ডে নিজের নাম লিখছিলেন। কার্ডে কোনো ছবিও ছিল না। এটি অনিয়ম কিনা জানতে চাইলে রিটার্নিং অফিসার যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এএনএম মঈনুল ইসলাম এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত মেহনাজের কাছে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি।’
উপজেলার নওয়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রেমবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল হেলাল ইসলামী একাডেমি, বাগদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পায়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বুইকরা আলহেরা ইসলামী একাডেমি প্রভৃতি কেন্দ্র ঘুরে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের চিত্র দেখা গেছে। দু’-একটি কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থকদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্রত্যেক কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
ভোটগ্রহণ শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রবিন অধিকারী ব্যাচা বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ অধ্যক্ষ শেখ আবদুল ওহাবের লোকজন সিংগাড়িসহ কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে নিয়েছেন বলে তার অভিযোগ।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নূরুল হক মোল্যা বাঘা বলেন, রাজঘাটে দুটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রবিন অধিকারীর সমর্থকরা। এছাড়া ভোটের পরিবেশ ছিল মোটামুটি শান্তিপূর্ণ।
যশোরের পুলিশ সুপার জয়দেবকুমার ভদ্র এবং দায়িত্বরত বিজিবির ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মতিউর রহমান নির্বাচনের সামগ্রীক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
যশোরে ৩ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীসহ আ’লীগের ১০ নেতা বহিষ্কার
যশোরের তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগের তিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী, একজন মেয়রসহ দশজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার বিকালে দলের জেলা সভাপতি আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে জেলা কমিটির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু দশ নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্বীকার করে দফতর সম্পাদক জহুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
জহুরুল ইসলাম জানান, বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু, সহ-সভাপতি সালেহ আহম্মেদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান, যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম, ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মুসা মাহমুদ, ঝিকরগাছা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান শরিফ বাদশা, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক নাসিমুল হাবিব শিফার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম বিশ্বাস এবং বাঘারপাড়া উপজেলার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর রশিদ স্বপন।
জহুরুল ইসলাম আরও জানান, চলতি উপজেলা নির্বাচনে দল সমর্থিত একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার পর বহিষ্কৃতদের কয়েকজন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। অন্যরাও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আগেই সবাইকে সতর্ক করা হলেও তারা শোনেননি। সে কারণে বুধবার বিকালে দলের জেলা কমিটির জরুরি সভায় তাদের বহিষ্কার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দলটির নেতারা দাবি করছেন।
মিরসরাইয়ে কেন্দ্র দখল
কেন্দ্র দখল করে ব্যাপক জাল ভোট প্রদান, ভোটারদের পথে পথে বাধা ও কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে মিরসরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চললেও বিভিন্ন কেন্দ্রে সাময়িক বন্ধ ছিলো ভোটগ্রহণ। উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ আতাউর রহমানের কর্মীরা উপজেলার কিছু কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দিয়েছে। এ সময় আতাউর রহমান সমর্থিতদের হামলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের অন্তত ৩০ কর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে দু’জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন গিয়াস উদ্দিন সমর্থিত কর্মী আওলাদ হোসেন, জামশেদ হোসেন। এছাড়া আহতরা হলেন সাবের, ইছাক মেম্বার, হাশেম মেম্বার, বেলায়েত হোসেন সিরাজ, নাছির উদ্দিন, ইয়াছিন মিয়া, টিটু, মো. রিয়াজ উদ্দিন, মহিউদ্দিন মেম্বারসহ ৩০ জন।
বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন অভিযোগ করেন, উপজেলার ১৪ নম্বর হাইতকান্দি ইউনিয়নের কমরআলী উচ্চবিদ্যালয়, বালিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়কমলহদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনসুন্দর ফকির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়, খিলমুরালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অলিনগর এলবি উচ্চবিদ্যালয়, খিল হিঙ্গুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ প্রায় বিশটি ভোটকেন্দ্রে থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়।
এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে মিরসরাই সদরে নিজ নির্বাচনী অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন মন্ত্রী সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন অন্তত বিশটি ভোটকেন্দ্র দখল করে জালভোট প্রদান করে। গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, একজন মন্ত্রী হয়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। গিয়াস উদ্দিন গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস উদ্দিন বিশটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা স্থগিত করে পুননির্বাচন দাবি করেন।
উপজেলার বামনসুন্দর ফকির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শেখ আতাউর রহমান (হেলিকপ্টার) লোকজন ১০০ পাতা করে তিনটি ব্যালট বই নিয়ে জোরপূর্বক জাল ভোট দেয়। জাল ভোট দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রতন কুমার দে। পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে মিরসরাইয়ের সাংসদ গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব করার প্রশ্নই আসে না। দুজনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
প্রসঙ্গত মিরসরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেন। এদিকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত্ম বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট গণনায় দেখা গেছে ৭টি কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল আমিন (আনারস) এগিয়ে আছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন গিয়াস উদ্দিন (দোয়াত কলম)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ভোটগ্রহণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন চলছে। সকাল সাড়ে ৯টায় লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ভোটার উপস্থিতি অনেক কম। ভোট কেন্দ্রেটির ১৫৮৬ জন ভোটারের মধ্যে ১৫০ জন ভোট দিয়েছে বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার শাহজাহান সিরাজ। পরে সাড়ে ১০টার দিকে নাচোল খ.ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটার উপস্থিতি বেশি। যেখানকার প্রিজাইডিং অফিসার ইসমাইল হক জানান, এখানে অন্তত ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আও উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দীন আহম্মদ বিনোদ বিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাররা ভোট প্রদান করছে। ভোট চলাকালীন সময়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্তকাবস্থায় রয়েছে। এ সময় জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী, পুলিশ সুপার বশির আহম্মদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিনোদবিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নাতীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে আসা ৯০ বছরের আসমা বেগমও খুশি ভোট দিতে পেরে সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারলেও নতুন ভোটার সুমি জানান এবার ভোট দিয়ে পেরে ভালো লাগছে।
সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
কাজিপুরে দু’প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, কাজিপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবুল কালাম আজাদ গতকাল বেলা ১১টায় ও বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান দুপুর ১২টায় নির্বাচন বর্জন করেছেন।
উপজেলা পরিষদ গেটে তারা সাংবাদিকরেকে ব্রিফিংকালে অভিযোগ করেন, পরাজয়ের আশংকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীরা নির্বাচন-পূর্ব রাতে বিভিন্ন এলাকায় তাদের এজেন্ট ও ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ভোট প্রদানে বিরত থাকার জন্য ভীতি প্রদর্শন, ভোট চলাকালে চরাঞ্চলের প্রায় সব ভোটকেন্দ্র দখল, দ্বৈত ভোট প্রদান, ভোট প্রদানে কারচুপি, পোলিং এজেন্টদেরকে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, প্রশাসনের নীরবতা, পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রভৃতি কারণে তারা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন এবং এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচনকে স্থগিত করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান। তারা আরও জানান, তারা নিজেও শঙ্কিত এবং পরবর্তীতে কর্মীসহ ভোটারদের নিরাপত্তার জোর দাবি জানান। এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাফিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি তাকেসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবুল কালাম আজাদ মৌখিকভাবে জানিয়েছেন এবং রবিউল হাসান লিখিতভাবে জানিয়েছেন। অপর দিকে আলমপুর, কুনকুনিয়া, ঢেকুরিয়া, মাইজবাড়ি, হরিনাথপুর ও স্থলবাড়ি কেন্দ্র সরেজমিন ঘুরে প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি, তবে ভোটারদের উপস্থিতি সকাল ১১টা পর্যন্ত কম ছিল। আবুল কালাম আজাদ ও রবিউল হাসান নির্বাচন বর্জন করায় ভোটারদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
সিংড়ার তিন কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলার কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাছিয়ারকান্দি ও আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিংড়া থানা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম ভোলা। কারচুপি ও তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে বিকেল তিনটার দিকে নিজের চেম্বারে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই তিন কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে এসব কেন্দ্রে গিয়ে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারো পোলিং এজেন্ট দেখতে পাওয়া যায়নি। আনন্দনগর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবদুর রশীদ তার কেন্দ্রে অন্য কোনো এজেন্ট না থাকার কথা স্বীকার করে বলেছেন, তার সামনে কাউকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়নি। বরং কেন্দ্রের বাহিরে সমস্যার কারণে হয়ত তারা আসতেই পারেননি। কালিনগর ও নাছিয়ারকান্দি কেন্দ্রে সাধারণ ভোটাররা বলেছেন, সমপ্রতি খুন হওয়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থিত লোকজন নিজেরাই প্রায় সবার ভোট দিয়ে দেওয়ায় তাদের আর কেন্দ্রে ভোট দিতে যেতে হয়নি। অন্যদিকে উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের তালহাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকালে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সিংড়া সরকারি গোল-ই-আফরোজ কলেজ কেন্দ্রে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, বিকেলে বড়গাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া করে স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ ও আলহাজ রহিম উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দেখা গেছে। বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহেদুল ইসলাম ভোলা বলেছেন, দুই কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার ব্যাপারে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েও কোনো ফল পান নেই। এদিকে কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সিংড়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার সালমা খাতুন বলেছেন, অভিযোগ সঠিক নয়, এ সব কেন্দ্রে কোন অনিয়ম হয়নি, কেন্দ্র দুটিতে পুলিশ ও ম্যাজিষ্ট্রেট মোতায়েন আছে।
মেহেরপুরে পোলিং এজেন্টের কারাদণ্ড
মেহেরপুর সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে ভোট কেন্দ্রে ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট আজাহার মণ্ডলকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ উদ্দীন।
ফরিদ উদ্দীন জানান, বুধবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই ৭০নং সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়ার দাবি জানান আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম রসুলের পোলিং এজেন্ট আজাহার মণ্ডল। এ নিয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে দোষী ব্যক্তিকে তাত্ক্ষণিকভাবে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।
এদিকে রাজনগর, কুলবাড়িয়া, বুড়িপোতা ও রাজাপুর গ্রামে ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট মারুফ আহাম্মদ বিজন। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে।’
তবে রিটার্নিং অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, ভোটদানে বাধা দেয়া বা এজেন্টদের বের করে দেয়ার কোনো খবর তিনি পাননি।
কালীগঞ্জে প্রিজাইডিং অফিসারকে মারপিট
কালীগঞ্জে আতিয়ার রহমান নামের এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১৫ হাজার জারিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।ড় বুধবার দুপুরে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে শ্রীরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর করার অপরাধে তাকে এ শান্তি দিয়েছে নির্বাচন পরিচালনা কাজে নিয়োাজিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। আতিয়ার উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের খলিল শেখের ছেলে।
কালীগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
কেন্দ্র থেকে প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, সমর্থকদের মারপিট ও ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কালীগঞ্জ বিএনপির একাংশের যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হামিদুল ইসলাম হামিদ। নির্বাচন শেষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তাত্ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের ২ দিন আগ থেকে সরকার দলীয় লোকজন তার সমর্থকের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। আর নির্বাচনের দিন নাকোবাড়িয়া, নাটোপাড়া, উল্যা, সুর্বনাস্বারা, মাঝদিয়া, জগন্নাথপুর, মঙ্গলপৈতা, রঘুনাথপুর, বহিরগাছিসহ ১২টি ভোটকেন্দ্রে তার কাপ পিরিচ প্রতিকের এজেন্টদের কেন্দ্রের কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সমর্থকদের মারপিট ও ভোট কেন্দ্রে না আসার জন্য হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। প্রশাসনকে বললেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি এসব কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির থানা কমিটির আহবায়ক আলহাজ মাহবুবার রহমান, বিএনপি নেতা একেএমপি হারুন অর রশীদ মোল্যা, আবদুল হাই মিন্টু, ছাত্রদল নেতা মঞ্জরুল আহসান খোকা প্রমুখ।

সূত্র: আমারদেশ, ২০-০২-১৪

Advertisements