durnity-crimeit(গতকালের পর) : সুতরাং দুর্নীতিকে সমূলে উচ্ছেদ করে মানুষকে দানশীল, উদার, সহানুভূতিশীল, মানব-দরদী ও পারস্পরিক কল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মকভাবে ইসলামের দিকেই ফিরে আসতে হবে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো ইতিবাচক পথ ধরেই আমাদের এগুতে হবে। এজন্য তিনি আল্লাহর দেয়া প্রতিটি আনুষ্ঠানিক ইবাদাতের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কারণ ইসলামের প্রতিটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত দুর্নীতি দমনে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। যে সমাজে বা রাষ্ট্রে এগুলো প্রতিষ্ঠিত হবে সেখানে দুর্নীতির অস্তিত্ব থাকতে পারে না। তবে এ বিধানগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের যদি আমি পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দান করি তাহলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত আদায় করবে, ভালো কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে।’ ‘আল-কুরআন, ২২ : ৪১’ আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের আদেশ করবে আর অসৎ কাজের নিষেধ করবে। আর এরাই সফলকাম।’ ‘আল-কুরআন, ৩ : ১০৪’

তাই আমরা যদি আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ আর দুর্নীতি করার ইচ্ছা মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারি এবং পরকালে আল্লাহর কাছে পাপ-পুণ্যের হিসাব দেয়ার ভয় সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে জাগ্রত করতে পারি তাহলে আমাদের দ্বারা অপরাধ করা আর সহজ হবে না। বরং ন্যায়নীতি মেনে চলা আমাদের পক্ষে অনেক সহজ হবে। তখন দেশ উন্নতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে আর মানুষের মধ্যে বিরাজ করবে শান্তি।

ইসলামী আইনের বাস্তবায়ন : দুর্নীতি একটি মারাত্মক অপরাধ। আর অপরাধ যে কোনো সমাজ-সভ্যতায় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। মানবজীবনে অপরাধ অশান্তি ও অকল্যাণ বয়ে আনে। এই অপরাধ প্রবণতা থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক। ইসলামের মৌলিক টুলস তথা নামায, রোজা, হজ্জ ও যাকাত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও কেউ যদি অপরাধে লিপ্ত হয় তখন ইসলাম তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলামের শাস্তি আইনগুলো বাহ্যত কঠোর মনে হলেও প্রতিটি আইনের পিছনে একটি সুপ্ত রহস্য ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। যেমন ইসলামের কিসাস সম্পর্কিত আইন বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী।’ ‘আল-কুরআন, ২ : ১৭৮’

আল্লাহ বলেছেন, ‘যে সব লোক আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে, তাদের শান্তি হচ্ছে, তাদের হত্যা করতে হবে কিংবা শূলিবিদ্ধ করা হবে অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে অথবা তাদের নির্বাসিত করা হবে।’ ‘আল-কুরআন, ৫:৩৩’ সাধারণ আইনে অপরাধ সংক্রান্ত সকল শাস্তিকেই ‘দ-বিধি’ নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু ইসলামের শাস্তি আইনগুলো একটু কঠিন মনে হলেও প্রতিটি শাস্তির আলাদা আলাদা বিধান রয়েছে।

দুর্নীতি একটি অপরাধ : ‘অপরাধ’ বলতে শরীয়তের এমন আদেশ ও নিষেধ বুঝায় যা লঙ্ঘন করলে হদ্দ বা তা’যীর প্রযোজ্য হয়। ‘আল-মাওয়ারদী, আল-ওলায়াতুত দীনিয়া ফিল আহকামিস সুলতানিয়া, বৈরূত : ১৯৭৮, পৃ. ২১৯’ দুর্নীতি একটি অপরাধ, যে সম্পর্কে আল্লাহ হদ্দ (বিধিবদ্ধ শাস্তি) অথবা তা’যীর (দ-বিধি) দ্বারা হুমকি প্রদান করেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিশাপ এবং পরকালে জাহান্নামের শাস্তির ওয়াদা করা হয়েছে। ‘ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, মৌলিক সমস্যা সমাধানে ইসলামী আইন, প্রাগুক্ত’ শাস্তির মাত্রার দিক থেকে অপরাধ তিন প্রকার : (ক) হদ্দ এর আওতাভুক্ত অপরাধ : যেসব অপরাধের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে শাস্তি নির্ধারিত। যেমনÑ যিনা (ব্যভিচার), যিনা এর মিথ্যা অপবাদ (কাযফ), চুরি (সারাকা), ডাকাতি (কাতউত তারীক), মাদক গ্রহণ (শুরবুল খামর) এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ (ইরতিদাদ); (খ) কিসাস ও দিয়াতের আওতাভুক্ত অপরাধ : যেসব অপরাধের জন্য কিসাস (মৃত্যুদ- বা অঙ্গহানি) অথবা দিয়াত (রক্তপণ) নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমনÑ ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হত্যা এর অন্তর্ভুক্ত এবং (গ) তা’যীরের আওতাভুক্ত অপরাধ : আল্লাহ বা মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট যে সব অপরাধের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট কোনো শাস্তি কিংবা কাফফারা নির্ধারণ করে দেয়নি সেসব অপরাধের শাস্তিকে তা’যীর (অনির্ধারিত শাস্তি) বলে। ‘ড. আহমদ আলী, ইসলামের শাস্তি আইন, ঢাকা : বাংলাদেশ ইসলামী সেন্টার, ২০০৯, পৃ. ২৯’

তা’যীর অপরাধ : তা’যীর পর্যায়ের অপরাধগুলোর মধ্যে দুর্নীতিসমূহ অন্যতম। ‘মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম, অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম, ঢাকা : খায়রুন প্রকাশনী, ২০১০, পৃ. ১৮১’ এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে, অন্যায় অপকর্ম থেকে অপরাধীকে বিরত রাখা। ‘সম্পাদনা পরিষদ, অপরাধ ও শাস্তি সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২০০৬, পৃ. ৯৫’ আর ইসলামী শাস্তি আইনের উদ্দেশ্য হলো : ১. মানুষের মৌলিক বিষয়সমূহের সংরক্ষণ; ২. সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং ৩. অপরাধীকে পবিত্রকরণ। ‘ড. আহমদ আলী, ইসলামের শাস্তি আইন, ঢাকা : বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ২০০৯, পৃ. ৩২-৩৩’ হুদুদ ও কিসাস জাতীয় কয়েকটি অপরাধ ছাড়া অবশিষ্ট সব অপরাধই তা’যীরী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু দুর্নীতি তা’যীরের পর্যায়ের একটি অপরাধ সেহেতু এর শাস্তিও তা’যীরের অনুরূপ। ‘প্রাগুক্ত, পৃ. ৩১২’ তা’যীরা শাস্তি হচ্ছে : অপরাধের ভিন্নতার কারণে শাস্তির ভিন্নতা হবেচ। যেমন, (ক) হত্যা : ইসলামী ফৌজদারি আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তা’যীরের আওতায় কাউকে হত্যা করা সমীচীন নয়। আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা এমন কাউকে বিনা অধিকারে হত্যা করো না, যার হত্যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন।’ ‘আল-কুরআন, ৬ : ১৫১’ ইমাম ইবনু তাইমিয়া (র.) বলেন, ‘বিপর্যয় সৃষ্টিকারী আক্রমণকারীর মতোই। যদি আক্রমণকারী হত্যা ছাড়া অবদমিত না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।’ ‘ইবনু তাইমিয়া, আল-ফাতাওয়া, তা.বি.,খ. ২৮.২৪৭’ (খ) বেত্রাঘাত করা, (গ) বন্দি করা, (ঘ) নির্বাসন বা দেশ থেকে বহিষ্কার, (ঙ) শূলে চড়ানো, (চ) উপদেশ বা তিরষ্কার কিংবা ধমকদান, (ছ) অপমান করা, (জ) বয়কট, (ঝ) আদালতে তলব, (ঞ) চাকরিচ্যুতকরণ, (ট) সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে রেদয়া, (ঠ) কাজ কারবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, (ড) উপায় উপকরণ ও সম্পদ নষ্ট করা, (ঢ) সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং (ণ) আর্থিক দ- আরোপ করা। ‘আল-কুরআন, ২ : ১৮৮’ আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে ভক্ষণ করো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোনো উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও।’৫৯

সুপারিশমালা : বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে গোটা বিশ্বকে একটি  Global Village মনে করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে অপেক্ষাকৃত কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলো অধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর সংস্পর্শে এসে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। IMF, World Bank, USAপলিসি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি অনেক NGO দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে।

দুর্নীতিদমনে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব-কর্তব্য, ভূমিকা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা অনেক বেশি। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, ‘ঘুষ যদি টেবিলের উপরে উঠে যায় তা হলে আমার করণীয় কিছুই নেই, আর যদি নিচে থাকে তাহলে এক্ষুণি প্রতিরোধ করা সম্ভব।’ বর্তমানে আমাদের জাতীয় জীবনে ঘুষ, দুর্নীতির অবস্থান কোথায় তা সহজেই অনুমেয়। তাই দুর্নীতি দমনে কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরা হলো : ১. দুর্নীতিমুক্ত পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ধর্মীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ এবং তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) ব্যাপক অনুশীলন হওয়া প্রয়োজন; ২. ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে দুর্নীতির ভয়াবহ পরিণতি ও কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা প্রয়োজন; ৩. রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন, এক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সম্পূরক অধ্যায় চালু করা যেতে পারে; ৪. সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মানদ- রক্ষা করা উচিত; এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা ও মৌখিক শপথ নেয়া উচিত যে, তিনি কোনো পর্যায়ে নিজেকে দুর্নীতির সাথে জড়াবেন না; ৫. রাজনৈতিক পক্ষপাত ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন; ৬. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পদমর্যাদা ও দ্রব্যমূল্য সামনে রেখে সম্মানজনক জীবন-জীবিকার উপযোগী বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন; উল্লেখ্য, সুইডেন, আর্জেন্টিনা, পেরু, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা জীবন-জীবিকার উপযোগী বলে সেখানে দুর্নীতি অনেক কম; ৭. সকল ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন; ৮. সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ অডিট ব্যবস্থা, স্বচ্ছ মনিটরিং পদ্ধতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও তথ্য সংরক্ষণ; ৯. দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং দুদককে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ক্ষমতা দিতে হবে; ১০. জনপ্রতিনিধিদের ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মানসিকতার উন্নতি করতে হবে, যাতে দুর্নীতির মতো ঘৃণ্য কাজকে ঘৃণার চোখেই দেখে এবং দুর্নীতি থেকে বিরত থেকে নিজেদের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে; ১১. দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাইভেট চাকরিজীবী ও সাধারণ জনগণকে এ পরিকল্পনার অধীনে নিয়ে আসতে হবে এবং সকলকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সততা ও নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত করতে হবে।  ১২. দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত কর্মসূচির সাথে আলেম-ওলামা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং মসজিদের ইমাম ও খতিবগণকে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করা; ১৩. দুর্নীতি প্রবণতার কারণসমূহ উদঘাটন করে সে আলোকে প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ১৪. সংবাদপত্রের আদর্শিক স্বাধীনতা দিতে হবে; ১৫. প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; ১৬. ইসলামের শাস্তি বিধান (ইসলামী ফৌজদারি আইন) চালু করা; ১৭. কুরআনে বর্ণিত দুর্নীতি প্রতিরোধের আয়াতসমূহের ব্যাপক প্রচার করা; ১৯. দুর্নীতির ভয়াবহতা ও পরিণাম সংবলিত হাদীসের ব্যাপক প্রচার করা; ২০. সর্বোপরি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে আরও গণসচেতনতা ও জনমত সৃষ্টি করতে হবে।

উপসংহার : বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে দুর্নীতির মতো দুষ্টক্ষত সামাজিক ও জাতীয় জীবনের উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার জন্য সবাইকে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, ইসলামপ্রিয় বাংলাদেশী জনসাধারণ এর অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত দেখতে চায়। এজন্য সমাজের তথা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলতার যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। পরকালে এর ভয়াবহ সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে পড়েছে তার করালগ্রাস থেকে আমরা কেউই রেহাই পাব না। দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা যায়, কিন্তু শান্তি অর্জন করা যায় না। অপরাধ আর অশান্তি একটা আরেকটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যারা ন্যায়নীতি মেনে চলে তাদের অন্তরে শান্তি বিরাজমান থাকে। দুনিয়াতে অপরাধের শাস্তি হোক বা না হোক আখেরাতে সব অপরাধের বিচার হবে। তখন অন্যায়ভাবে উপার্জিত সম্পদ কাউকে রক্ষা করতে পারবে না। তবে যারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অন্তর পবিত্র করেছেন, অপরাধ ছেড়ে দিয়ে সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন তারা আল্লাহর কঠিন আযাব থেকে যেমন রক্ষা পাবেন, তদ্রƒপ অভাবনীয় পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হবেন। দেশের প্রতিটি নাগরিককে এ পথে পুরোপুরি ফিরে আসতে হবে।

মোহাম্মদ মনজুর হোসেন খান
সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম

Advertisements