চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মহাজোটের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদলের বিরুদ্ধে বৌদ্ধদের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলার কড়লডেঙ্গা বৌদ্ধদের আর্য্যভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্স‘র জমি স্থানীয় সাংসদ মঈনুদ্দিন খান বাদল দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে মর্মে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আর্য্যভাবনা কুটির এর কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, মহাজোটের স্থানীয় সংসদ সদস্য মাঈন উদ্দিন খান বাদল বৌদ্ধ মন্দিরের শ্মশানের জায়গায় ডাকবাংলো ও পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য ২ একর জায়গা চান।

জমি না পেয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। এতে আর্য্যভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্সকে অবৈধ দখল বলে উল্লেখ করে ৭ দিনের মধ্যে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)।

১৮ শতকের পুরোনো এই মহাশ্মশান কমপ্লেক্স‘র জমি দখলে নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে দিয়ে আর্য্যভাবনা কুটিরের পরিচালনা কমিটিকে নোটিশ দেয়া হয়েছে মর্মে তারা অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আর্য্যভাবনা কুটিরের প্রধান সমন্বয়ক রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া দাবি করেন ভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্স‘র জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য মাঈন উদ্দিন খান বাদল ও তার বাহিনী বোয়ালখালী থানার ওসিকে দিয়ে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এই সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিৎ রঞ্জন বড়ুয়া, এডভোকেট জয়শান্ত বিকাশ বড়ুয়া, অমল চৌধুরী,  গৃহবর্ধণ বড়ুয়া,  তনিশেন বড়ুয়া, এডভোকেট সুজন কুমার বড়ুয়া ও প্রভাষ চন্দ্র বড়ুয়া প্রমুখ।

এ সময় বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিৎ রঞ্জন বড়ুয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সংসদ মাঈনুদ্দিন খান বাদল নিজে সরাসরি কয়েকবার আর্য্যভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্সকে গিয়ে ডাক বাংলো করার জন্য জমি চেয়েছে। বৌদ্ধদের এই পবিত্রস্থানে ডাকবাংলো করার জন্য জমি না পাওয়ার জের ধরে প্রশাসনকে দিয়ে আর্য্যভাবনা কুটির মহাশ্মশান কমপ্লেক্স উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দিয়েছে। এটা পুরোপুরি বেআইনি। আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

এ সময় সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমাদেরকে মানববন্ধন ও সভা সমাবেশ করে আর্ন্তজাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করতে বাধ্য করবেন না। আমরা শান্তি চাই। শান্তভাবে বাঁচতে চাই। যেখানে ধর্ম থাকে না, সেখানে মানুষ তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। আমরা চাই না এমন কিছু হোক, যা দেশের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনুক।

মাইনুদ্দিন খান বাদলকে তিনি ভূমিদস্যু ও দুষ্কৃতিকারী উল্লেখ করে বলেন, মহাজোট সরকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে কালিমাযুক্ত করতেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমিদস্যুতায় মেতে উঠেছেন। শত শত বছরের পুরনো ভাবনা কুটির, বুদ্ধ মন্দিরের শ্মশানের সম্পত্তি বেআইনিভাবে ডাকবাংলো ও পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে, বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মৃতদেহ সৎকারে দুর্ভোগ বাড়বে।

Advertisements