দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যে প্রতিষ্ঠানটি প্রধান ভূমিকা পালন করছিল স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এখন দুর্নীতিবাজদের দখলে। বলা যায়, লুটেরাদের রাহুগ্রাসে বন্দি। আর এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির কাজের মান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো ছাড়াও সরকারের বৃহৎ অর্থ বরাদ্দ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু, শীর্ষ দুর্নীতিবাজের কব্জায় পড়ে প্রতিষ্ঠানটির এখন বেহাল দশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমও মুখ থুবড়ে পড়েছে। অথচ সরকারের অর্থ ব্যয় হচ্ছে ঠিকই। সেই অর্থ চলে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজদের পকেটে। এরা দেশে-বিদেশে বিত্ত-বৈভব গড়ে তুলছে।

গত বছরের ১২ জুলাই টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) এই প্রতিষ্ঠানটির ওপর অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তিন বছর ধরে চালানো ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সারমর্মে বলা হয়, টেন্ডার কাজ পাওয়া থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত কমপক্ষে শতকরা ৩০ ভাগ এখানকার প্রকৌশলীদের ঘুষ দিতে হচ্ছে। এরপর রয়েছে স্থানীয় মাস্তান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কমিশন, ঠিকাদারের লাভ- সব মিটিয়ে কাজ বাস্তবায়ন কতটা নিম্ন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে তা এ থেকে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

কিন্তু, টিআইবি’র ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরও পরিস্থিতির কোনো রকমের উন্নতি হয়নি। বোধোদয় হয়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের। সংস্থাটির দুর্নীতি রোধ, কাজের মান উন্নয়ন, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার- প্রভৃতি বিষয়ে কোনো রকমের পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। আর এ কারণেই এলজিইডি’র দুর্নীতিবাজদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড এবং সরকারি অর্থের লুটপাট আরো বেড়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অথচ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক সময় এ প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরো এবং পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে অধিদফতরে রূপান্তরিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরুর পর এক পর্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানটি দেশবাসীর আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এরপর অতি অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অফিস ও কর্মকাণ্ড শুরু হয়। হাজার হাজার স্কুল-কলেজ, শত শত কিলোমিটার রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের কাজ চলতে থাকে। ওই সময় যারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এলজিইডি দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

কিন্তু, যাদের হাত দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এদের পরিবর্তনের পর ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে দুর্নীতি বাসা বাঁধতে থাকে। এখনতো এলজিইডি’র প্রকৌশলীদের ঘুষ-দুর্নীতি অনেকটাই ওপেন-সিক্রেট, যা টিআইবি’র প্রতিবেদনেই বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। আর এসব কেনই বা হবে না! যেখানে প্রধান প্রকৌশলীই আকন্ঠ ডুবে আছেন দুর্নীতিতে, সেখানে তো আর অনিয়ম-দুর্নীতিতে অধস্তনদের রাখঢাক রাখার কথা নয়। উল্লেখ্য, এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী পদে বর্তমানে যিনি রয়েছেন, সেই প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুর রহমানকে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ প্রকৌশলীর দুর্নীতির কাহিনী রূপকথাকেও হার মানায়। চাকরির প্রতিটি ধাপে ধাপে তিনি রেখেছেন দুর্নীতির ছোঁয়া। প্রধান প্রকৌশলী প্রকল্পে আর্থিক দুর্নীতি, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, ভুয়া নিয়োগ, কয়েকশ’ গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার, ভুয়া প্রকল্প বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ দিয়ে নিজের নামে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট তৈরি, অবৈধ অর্থ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি ক্রয়সহ হাজারো অনিয়ম করে যাচ্ছেন। প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান নিজের অপকর্মের সুবিধার্থে অন্যান্য অধস্তন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এরাই এক সময়ের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিতে ঘুষ-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি প্রবাদ তুল্য করে তুলেছে।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে লুটপাট

এলজিইডি’র আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাপকহারে দুর্নীতি-লুটপাট চলছে। এর কিছু চিত্র টিআইবি’র প্রতিবেদনেও উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমঝোতা ও যোগসাজশের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ে অনিয়ম সংঘটিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে লেনদেনের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ পাওয়ার পর জালিয়াতির মাধ্যমে দরপত্রের তথ্য পরিবর্তন করা হয়। ঠিকাদার প্রথমে লেস-এ দরপত্র দাখিল করে। কাজ পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশ করে জালিয়াতির মাধ্যমে সকল কাগজপত্র পরিবর্তন করে অতিরিক্ত দরে দাখিল দেখানো হয়, যা প্রকৌশলী ও ঠিকাদার ভাগ করে নেয়। টিআইবি’র রিপোর্টে বলা হয়, ‘নয়ছয়’ করে লুটপাট করার কাজে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী থেকে শুরু করে শেকড় পর্যায়ের কর্মকর্তারা জড়িত। প্রধান প্রকৌশলী নিজেই দুর্নীতির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা করেন।

শুধু টিআইবি’র প্রতিবেদনই নয়, শীর্ষ কাগজের অনুসন্ধানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থাটির দুর্নীতি-লুটপাটের সুনির্দিষ্ট এবং আরো ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির সার্ভিস চার্জ বাবদ প্রাপ্ত টাকা থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোপাট করেছেন ওয়াহিদুর রহমান তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। সার্ভিস চার্জের ১৪ কোটি টাকায় তিনটি গাড়ি ক্রয় করা হয়, যার একটি একজন প্রতিমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বৃহৎ ব্রিজ প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও প্রধান প্রকৌশলী নিজে লাভবান হওয়ার জন্য এক হাজার ২০০ কোটি টাকার স্কিম মাঠ পর্যায়ে টেন্ডার করেছেন। প্রতি টেন্ডারে গড়ে ২৫ থেকে ৩১ ভাগের অধিক দরে কার্যাদেশ দিয়ে ২০০ কোটি টাকা প্রধান প্রকৌশলী তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডি’র পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও থানায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের যে কর্মসূচি চলছে তাতে ভয়াবহ লুটপাটের চিত্র বেরিয়ে এসেছে। লুটপাটের কারণে নবনির্মিত শ্রেণীকক্ষ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ও সম্প্রসারিত ভবনের বেশির ভাগেরই করুণ দশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এ খাতে এলজিইডি’র মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ।

জানা গেছে, পল্লী উন্নয়ন-১৩ প্রকল্প থেকে ইতিপূর্বে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে ওয়াহিদুর রহমানের হাত দিয়ে। পল্লী উন্নয়ন-২১ প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। এ দু’টি প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়েছে ওয়াহিদুর রহমানের হাত দিয়ে। তিনি প্রকল্পে অব্যয়িত অর্থ মূল একাউন্ট থেকে অন্যত্র সরিয়ে রেখে আত্মসাৎ করেন। পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২১ এর মূল একাউন্ট থেকে বিকল্প একাউন্ট এসটিডি নং-৩৪, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, খামারবাড়ী শাখা, ঢাকা-তে প্রকল্প মেয়াদের শেষ পর্যায়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা সরিয়ে রেখে মূল একাউন্ট শূন্য করে এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ রকমের অসংখ্য লুটপাটের নজির স্থাপন করেছেন ওয়াহিদুর রহমান।

অবৈধ সম্পদ অর্জন

ওয়াহিদুর রহমান চাকরি জীবনে যেখানে ছিলেন প্রায় প্রত্যেকটি স্থানেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে তিনি দেশে-বিদেশে ইতিমধ্যে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ায় ২৪ ফ্ল্যাটবিশিষ্ট বিশাল অট্টালিকাটি নির্মাণ করেছেন বেশ আগেই। এ নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নামলেও এক পর্যায়ে তারা ম্যানেজ হয়ে যান। যে কারণে তদন্তকাজ সম্পূর্ণ না করেই রিপোর্ট দাখিল হয়েছে, যাতে ওয়াহিদুর রহমানকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবাক ব্যাপার হলো, বাড়িটি নির্মাণের সময় তিনি যে ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন তার অধিকাংশ বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই পরিশোধ করে দিয়েছেন। বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার আগে কোথা থেকে তিনি এ অর্থ পরিশোধ করলেন সেই প্রশ্ন তদন্তকারী কর্মকর্তারা কেউই করেননি।

অবশ্য ওয়াহিদুর রহমান এসব ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য এখন ভিন্ন কৌশল ধরেছেন। দেশে নয়, বিদেশে বাড়ি কিনছেন। শীর্ষ কাগজের বিগত সংখ্যায় অস্ট্রেলিয়ায় ক্রয় করা তার দু’টি বাড়ির ছবিসহ তথ্য ছাপা হয়েছে। শুধু বাড়ি ক্রয়ই নয়, ওয়াহিদুর রহমান অবৈধভাবে অর্জন করা বিপুল নগদ অর্থও বিদেশে গচ্ছিত রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা

প্রধান প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুর রহমানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম। এখানে তিনি ছোট থেকে বড় হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামেই ছিলেন। সেই চৌদ্দগ্রামের কেউ জানেন না ওয়াহিদুর রহমান কখনো মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কিনা বা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন কিনা। ওয়াহিদুর রহমান নিজেও কখনো ইতিপূর্বে বলেননি বা দাবি করেননি তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। কিন্তু, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি করার পর ওয়াহিদুর রহমান হঠাৎ করে মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট যোগাড় করে নেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তিনি কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচনের পিছনে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ করেন। চাকরির বয়স শেষ হওয়ার পরও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটের বলে তিনি পর পর ৩ বছর অবৈধভাবে অতিরিক্ত চাকরি করেন।

ওয়াহিদুর রহমানের এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট অর্জনকে কেন্দ্র করে নিজের এলাকায় এবং এলাকার বাইরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। চৌদ্দগ্রাম এলাকার ১৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ওয়াহিদুর রহমানের এই মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটকে ভুয়া বলে আখ্যায়িত করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে এই জালিয়াতির কারণে তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিতভাবে এরা অভিযোগও করেছেন।

অভিযোগে তারা বলেন, “চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৫নং শুভপুর ইউনিয়নের যশপুর গ্রামের মৃত আলী আজমের পুত্র ওয়াহিদুর রহমান একজন অ-মুক্তিযোদ্ধা। উক্ত ব্যক্তি ৭১ সালে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। দেশের অভ্যন্তরে বা ভারতীয় স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয়নি। ইহা আমরা হলফ করে বলতে পারি। গত ৩৯ বছর যাবৎ নিজেই মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেনি এবং কোনো পর্যায়ে তালিকাভুক্তির আবেদন করেনি। যেমন- ভারতীয় তালিকা, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত তালিকা, ১৯৯২ সালে প্রণীত ভোটার তালিকা কোনোটাতেই তার নাম অন্তর্ভুক্ত নাই। চৌদ্দগ্রাম থানার কোনো মুক্তিযোদ্ধা তাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে দেখেনি। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস সে নিজ বাড়িতে অবস্থান করেছে, যা এলাকার জনগণ জিজ্ঞাসিত হলে প্রমাণ করবে।”

তদন্ত হয়, তাতে দুর্নীতিবাজদের কি আসে যায়

ওয়াহিদুর রহমান পূর্বে বিভিন্ন পোস্টিংয়ে থাকাকালে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন, যে কারণে প্রায় প্রতিটি স্থানেই তদন্ত কমিটি হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাকে কখনোই কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি। ‘পল্লী উন্নয়ন-১৩’ এ তিনি পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার কাজ না করেই বিল প্রদান করেন। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন ব্যুরো ও বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলেও তিনি সেগুলো ম্যানেজ করতে সক্ষম হন। ‘পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২১’ এ পিডি’র দায়িত্ব পালনকালীন ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলেও তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর এপিএস আব্দুল মতিন, এমপি রশিদুজ্জামান মিল্লাত, তৎকালীন সচিব এএইচএম আবুল কাশেমের প্রত্যক্ষ তদারকিতে তিনি ক্ষমা পান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওয়াহিদুর রহমানের দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ দু’টি সংস্থা তদন্ত করেছে। তখন একটি জাতীয় দৈনিকে ওয়াহিদুর রহমানের দুর্নীতির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংস্থা দু’টি তার বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ নেয়। একটি সংস্থার ফিল্ড রিপোর্টে তার ব্যাপক অনিয়মের সন্ধান মেলে। কিন্তু সে রিপোর্ট ঢাকা অফিস থেকে প্রধান কার্যালয়ে এসে সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। দুদকের রিপোর্টেও দুর্নীতি ধরা পড়ে। ওই সংস্থার রিপোর্টের মতো দুদকের রিপোর্টও তিনি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন।

Advertisements