শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ  শেখ হাসিনা ও তার সরকার পরিস্কার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীকে ভারতের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় কাজ করতে হবে। আজ চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সেনা কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদেরসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সেনাবাহিনীকে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আর প্রমান হয়ে গেছে শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীর প্রতি ৭৫ এর প্রতিশোধ নিচ্ছে প্রতিটি পদে পদে। এই মৃত্যুদণ্ডের পরে সেনাবাহিনীর সামনে দুটো পথ খোলা থাকলো; হয় রুখে দাঁড়ানো না হয় ভারতীয় বাহিনীর অক্সিলিয়ারী বাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা।

বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় চোরচালান মামলায় এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম,  ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক এবং পরবর্তীতে এন,এস,আই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার, উলফার নেতা পরেশ বড়–য়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান বৃহস্পতিবার দেয়া এ রায়ে এনএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা উইং কমান্ডার শাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক মেজর (অব.) লেয়াকত হোসেন, এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন উদ্দিন তালুকদার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, হাফিজুর রহমান ও দীন মোহাম্মদকেও সাজা দেয়া হয়েছে। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআর এর বিরুদ্ধে সর্বদাই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময়ে কাউন্টার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। এ ব্যবস্থা গ্রহন সামরিক নিয়মের আওতায়ই পড়ে। ভারত নির্বিচারে আমাদের দেশের উপ জাতীদের বিচ্ছিন্নতাবাদের উস্কানি দিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ‘র’ ভারত সরকারের নির্দেশেই উপজাতিদের দ্বারা ‘শান্তি বাহিনী’ বানিয়ে তাদের অস্ত্র গোলাবারুদ, টাকা পয়সা এবং লজিস্টিক দিয়ে দীর্ঘদিন বাংলাদেশকে অশান্ত করে রাখে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অগনিত অফিসার ও জওয়ান নিহত হয়। এরই পাল্টা হিসেবে ভারতের স্বাধীনতাকামীদের বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহানুভূতিশীল হলে ভারতের টনক নড়ে। তারা শেখ হাসিনার মাধ্যমে এক গ্রুপকে নিরস্ত্র করিয়ে একটি এলাকার শাসক বানিয়ে দেয়। আবার আরও একটি গ্রুপকে জিইয়ে রাখে।

কোন দেশের ভেতর দিয়ে অন্য আরও একটি দেশের কোন স্বাধীনতাকামী বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পৌঁছে দেয়ার সাথে মাফিয়া  চোরাচালানিরা জড়িত থাকে। আর এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাফিয়া ও চোরাচালান চক্রগুলো হল ভারতেরই। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিজ দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় ভারতের সেনা ও গোয়েন্দাদের বাংলাদেশ বিরোধী কাজের পাল্টা হিসেবে যে কিছু করেনি তা নয়। এমনকি শেখ হাসিনার ১৯৯৬-২০০১ এর সরকারের সময়ও ভারতের বিরুদ্ধে সরকারের সমর্থন নিয়েই এ পাল্টা ব্যবস্থা চালানো হতো।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম যখন সেনা অভ্যুথানের চেষ্টা চালিয়েছিল, তখন এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিম ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে তা প্রতিহত করেন এবং জেনারেল নাসিমকে গ্রেপ্তার করে নিজ হেফাজতে রাখেন। কিন্তু এর পরের নির্বাচনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমকে বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমকে এন,এস,আই মহাপরিচালক বানালে ভারতীয় স্বার্থে আঘাত লাগে। তাদের অনেক মিশনই ব্যর্থ হয়। আজ মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ভারত ও শেখ হাসিনা তার প্রতিশোধ নিলো। এই রহিম আজকের আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মন্ত্রীকে সহায়তা দিয়েছেন তার চাকুরীকালে। রক্ষা করেছেন অনেককে। যাদের নাম পড়ে প্রকাশিত হবে।

আওয়ামী যুবলীগ নেতা মির্জা আজমের ভগ্নিপতি শায়খ আব্দুর রহমানকে দিয়ে ভারত বাংলা ভাই ও জে,এম,বি নামের চরমপন্থি সংগঠন বানায়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিম এই চক্রের অনেক অপারেশন পরিকল্পনা ধংস করেছেন বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু বিএনপি পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমের চাকুরীর মেয়াদ নবায়ন না করলে ডি,জি,এফ,আই থেকে তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারকে পদোন্নতি দিয়ে এন,এস,আই তে মহাপরিচালক বানিয়ে নিয়ে আসা হয়। মেজর জেনারেল হায়দার জে,এম,বিকে ধংস করে দিয়ে এবং গোপন গোয়েন্দা কার্যক্রমের দ্বারা ভারতের অনেক পরিকল্পনা ধংস করে দেয়ায় সরাসরি টার্গেটে পরিনত হন। আজ মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের চূড়ান্ত মেসেজ দিয়ে দেয়া হল।

অবশ্য নিরস্ত্র নাগরিক হত্যায় পারদর্শী বাহাদুর সেনা কর্মকর্তা (র‍্যাবে) এবং যারা নিজেরাই নিজেদের সহকর্মীদের (বিডিআর) জীবন এবং নিজেদের পরিবারের মহিলা ও সন্তানদের সম্ভ্রম রক্ষা করতে চায় না;  তাদের ভারতের অক্সিলিয়ারী বাহিনী হয়ে থাকতে যে মর্যাদার ঘাটতি হবে না তা জাতির কাছে পরিস্কার হয়ে পড়েছে। এখন আরও একবার সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসি দেখার জন্য উৎসুক হয়ে বসে থাকা ছাড়া আর তাদের কোন কিছু করার আছে বলে জাতি বিশ্বাস করে না। জাতির কাছে সেনাবাহিনীর ইজ্জতের পারদের মিটার এখন তলদেশ ছুঁইছুঁই করছে।

 

Image

 

২ জেনারেল ও গোয়েন্দাসহ ১৪ জনের ফাসি: সেনাবাহিনী ধংস করে হাসিনা ভারতের নিরাপত্তা দিচ্ছে

Advertisements