be3689eeaaacda3aa0154fda52483c4c_XL১. একটি মফস্বল জেলাশহরে এমপিদের সংবর্ধনা দেয়ার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাঁচ দিন সড়ক বন্ধ করে রাখল। অতিথি যোগাযোগমন্ত্রী। যোগাযোগব্যবস্থার শনৈঃ শনৈঃ তরক্কির সুবাদে খোদ মন্ত্রী খুশিতে বাগ বাগ। পাঁচ দিন সড়ক বন্ধ তো কাশীর রানীর মতো সামান্য ক্ষতিই বটে! এ আমলের মন্ত্রীরা যখন টিভি চ্যানেলে খোশমেজাজে সুখী মুখ প্রদর্শন করেন, তখন আমজনতা কখনো দুঃখে কাঁদেন, কখনো বা ভর্ৎসনার কাষ্ঠহাসি দিয়ে দুঃখ লাঘব করেন। একটি জাতীয় দৈনিকে মন্তব্য প্রতিবেদন ছেপেছেÑ এক দিকে শিশুরা না খেয়ে রাস্তায়, অন্য দিকে মন্ত্রীকে দেয়া হয় সোনার নৌকা। এ নৌকাই নাকি নূহ নবীর সেই কিশতি। ধর্ম নিয়ে ব্যবসায় ও রাজনীতি আর কাকে বলে! মঞ্চে আয়েশি মেজাজে শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে ধূমপান করে আরেক মন্ত্রী কী তামাশাই না দেখালেন! ভয়াবহ অর্থসঙ্কটে অসংখ্য প্রকল্প মুখথুবড়ে পড়েছে। রাজনৈতিক কারণে জনগণকে তাৎক্ষণিক চকিত চমকে খুশি করে দেয়ার জন্য অনেক অলীক ও হাওয়াই প্রকল্প নেয়া হয়। আবার ভোটের রাজনীতির জন্য ভারতীয় বাংলার শিলান্যাস, বাংলাদেশের বাংলায় ভিত্তি স্থাপন ও ফিতা কাটার হিড়িক পড়ে যায়।

ভোটারহীন নির্বাচন ও নির্বাচনহীন ভোটে জেতা আজগুবি ধারণার দশম সংসদ বসল। সংসদীয় রাজনীতি ও সরকারের ধারণায় মুণ্ডুপাত করে যে সংসদ বসল, তার কুষ্টিনামা সবার জানা। পৃথিবীর ইতিহাস যা নেই তা আমরা দেখতে বাধ্য হচ্ছি। এরা আইন ভাঙা সংসদে বসে আইন বানাবেন। জনগণকে নীতি শেখাবেন, জনগণকে এ-ও দেখতে হলো। সরকারের মেয়াদ শেষে ও সরকার গঠনের একেবারে লাগোয়া সময়টিতে বদরাজনীতির এই অপসংস্কৃতি আমাদের স্বপ্নগুলো চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। এরাই টেন্ডারবাজি করে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের তহবিল ফোকলা করে দিচ্ছে। আবার উন্নয়নের ডুগডুগিও বাজায় এরা। এরা স্বপ্নেও খায়, জেগেও খায়। আগারটাও খায়, গোড়ারটাও খায়।

কথায় আছে যে নারী একবার সতীত্ব খোয়ায়Ñ তার আর বাছবিচার থাকে না। যাদের এক কান কাটা যায় তারা রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাঁটে। দুই কান কাটা বজ্জাত হায়াশরমের তোয়াক্কা করে না। রাস্তার মাঝ দিয়ে পথ চলে। বর্তমান সরকার পাঁচ বছর ধরে যত ভালো কাজ করেছে, তার তুলনায় বাড়াবাড়ি করেছে হাজার গুণ। শেষমেশ সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা উপড়ে ফেলে নিজেদের এক কান কাটল। রক্ষণভাগে খেলতে খেলতে তাদের মেয়াদ কেটেছে। ভোটারবিহীন নির্বাচন, সংবিধান, আইন-আদালত, গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও গণপ্রতিনিধিত্ব আইন দুমড়ে-মুচড়ে চলা, যৌথ অভিযানের নামে নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পর নজিরবিহীন এক সরকার গঠন করে, এখন দুই কান কাটা বজ্জাতের মতো আচরণ করছে। প্রতিপক্ষ এখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও সরকারি জুলুমের শিকার। জনগণ নিরাপত্তাহীন। প্রচার-প্রচারণায় আক্রমণের ধারা এতটাই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, ম্যান্ডেটহীন মন্ত্রীরা ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। বলছেন, নির্বাচন ও সংলাপ কোনোটারই এখন সুযোগ নেই। খালেদার নাকি উচিত হবে বসে বসে পাঁচ বছর গোনা অথবা পাকিস্তান চলে যাওয়া। কোনো কোনো মন্ত্রী ও নেতা আসমানছোঁয়া ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছেন। তারা এতটাই মগডালে উঠে গেছেন যে, কিছুই ভাবছেন না। মরহুম আবুল মনসুর আহমদের বিখ্যাত উক্তিÑ ‘যে গাছ লক লক করে বাড়ে তার ডগা ভাঙে’। এই প্রাকৃতিক নিয়মও ভুলে আছেন তারা। তারা এখন যে মসনদে বসে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঢিল ছুড়ে চলেছেন, সেটি যে কাচের ঘর কিংবা তাসের রাজার রাজত্ব তাও বেমালুম ভুলে আছেন।
আসলে তারা কিছুই ভোলেননি। ভোলার ভান করছেন। লক্ষ্য একটাইÑ বিরোধী মত ও দলকে টুঁটি চেপে ধরার পর এবার গলা টিপে হত্যা করা। পথটা সহজও নয়, নিরাপদও নয়। তাই বিনয়ের সাথে বলব, আপনারা ক্ষমতার যে তখ্ত বানিয়েছেন, সেটি শূন্যের মাঝার। জনসমর্থনের খুঁটি নেই। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মইও সরিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ আসমান বানিয়েছেন খুঁটি ছাড়া। খুঁটি ছাড়া তখ্ত বানানো মানুষের সাধ্যাতীত।

২. সুচিত্রা সেন জন্মসূত্রে পাবনার মেয়ে। তাতে কী, পাবনা তাকে ও তার পরিবারকে ধরে রাখতে পারেনি। রমাদাস গুপ্ত ওরফে সুচিত্রা সেনের পরিবার বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণ আমরা কেউ নই। ইতিহাসের অনিবার্য বাস্তবতার কারণে দেশ বিভাগ হয়েছে। লাখো মানুষ ভারত থেকে পাকিস্তানে হিজরত করেছেন। প্রায় সমপরিমাণ ভারত গিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। এখন দ্বিজাতিতত্ত্বের পিণ্ডি চটকে কোনো লাভ নেই। দ্বিজাতিতত্ত্বের বিরুদ্ধে তুখোড় নিন্দাবাদ গাওয়া সহজ, এর বাস্তবতা অস্বীকার করা প্রায় অসম্ভব। অতীতে যা ঘটে গেছে, ঘটে যাওয়া অতীত যখন আমাদের জাতীয় ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তখন উদ্ভট মন্তব্য তাৎপর্যহীন। কারণ সেটি অতীত, এবং আমরা দ্বিজাতিতত্ত্বের সুবাদে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছি।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের নামে যে প্রশাসনিক সীমারেখা আঁকা হয়েছিল, তা-ই খানিকটা রদবদল হয়ে পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেই মানচিত্রই এখন বাংলাদেশ। বেরুবাড়ি ও তিনবিঘা বিতর্কটা ছাড়া।

আমাদের সব জাতীয় নেতা নবাব সলিমুল্লাহ, নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধুÑ সবাই ছিলেন দ্বিজাতিতত্ত্বের পক্ষে যার যার অবস্থানে একেকজন সিপাহসালার তুল্য। যারা বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়বেন তাদের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তির ঘোর কিছুটা কাটবে। জাতির স্থপতির অতীত-বর্তমানের সেতুবন্ধটা কোথায়, তা বোঝা সম্ভব। যারা ভাবেন একাত্তর সালে ভারত সাহায্য করেছে, আর আমরা যুদ্ধ করে যে দেশটি পেয়েছি সেটা আসমান থেকে হঠাৎ ধপাস করে পড়ে বাংলাদেশ হয়ে গেছে। যেসব অর্বাচীন এ ইতিহাস নিয়েও রাজনীতির নোংরামি পছন্দ করেন, তারা আমাদের জাতিসত্তাকে কলুষিত করেন। ওপরের দিকে থুথু ছিটিয়ে আদতে নিজের গায় মাখেন। তাদের ঘেউ ঘেউ নেড়িকুত্তার মতো, ইতিহাস সত্যের পরিবেশ দূষিত করে; যা আবার বাতাসে মিলিয়ে যায়। ইতিহাস ইতিহাসের জায়গায় থেকে যায়। মাঝখানে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্তি ঘিরে ধরে।
আমরা যারা বিগত উনিশ শতকের ষাটের দশকের প্রজন্ম, তারা কম-বেশি সুচিত্রা সেনের সাথে পরিচিত। তার ডজনখানেক সিনেমা দেখেছি। অবশিষ্টগুলো সম্পর্কেও ধারণা রাখি। সেই সময়ের মোহাম্মদ আলী-জেবা ও উত্তম-সুচিত্রা যেকোনো সিনেমা দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। তাদের অভিনয়শৈলী ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের নান্দনিকতা উপভোগ্য। তাতে উপমহাদেশজুড়ে দিলীপ কুমারের ভক্তের মতো এই দুই জুটিও তাদের সময়ের অসংখ্য ভক্তের মনে অভিনয় সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর অবস্থানে ছিলেন।

একাত্তর ও একাশি সালের পর দুই হাজার ছয় সালে ভারতে গিয়ে চিকিৎসার কারণে শুধু কলকাতায় অবস্থান করতে হয়েছিল। শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দীর জরাজীর্ণ বাড়িটা দেখে কাঁদতে ইচ্ছে হয়েছিল। একসময়ের কলকাতার মেয়র সৈয়দ বদরুদ্দৌজার বাড়িও অবহেলিত দেখেছি। তাই বলে আমার মনে কোনো ক্ষোভ নেই। দুঃখও নেই। কিছুটা অনুতাপ আছে। ভারত সরকার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর গুজরাটের বাড়ি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেনি। অপর দিকে লাহোরে শিখদের ধর্মালয় পাকিস্তান সরকার পাহারা দিয়ে যাচ্ছে। পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগের অসংখ্য ক্ষত লাহোর ও ঢাকা, কলকাতা ও দিল্লিসহ অন্যত্র রয়েছে। লাহোর ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে তা দেখার সুযোগ হয়েছে। তাই বলে সত্য জানার তাগিদ ছাড়া এখন রক্তক্ষরণের কোনো বিষয় নেই। দিল্লি জামে মসজিদে কবুতরের বিষ্ঠা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আগ্রার তাজমহলের লাগোয়া মসজিদটির ছালবাকল উঠে গেছে। মতি মসজিদের মতিগুলো নেই। কুতুব মিনারের কোনো সংস্কার নেই। ভারতের পর্যটন শিল্পের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় উপকরণ মুসলিম কীর্তির নিদর্শন। এসব নিয়ে ডুকরে কেঁদে লাভ নেই। মিছামিছি শ্লাঘা বোধ করারও কিছু নেই। বাস্তবতা মেনে নেয়াই সবার জন্য কল্যাণকর। মানুষ নিজের প্রয়োজনে মানচিত্র পাল্টায়। কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টে যায় না। নিজে হিজরত না করলে প্রতিবেশী পাল্টানোও যায় না। সম্ভবত এ কারণেই বলা হয়, বিশ্বাস পাল্টালেও প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না। তাই বোঝাপড়ার মাধ্যমে সবাইকে লাগসই হতে হয়। এ দিকে আমাদের স্বার্থগুলো শিকায় তোলা থাকবে। আবার ক্রিকেট নিয়েও দাদাগিরি দেখাবেÑ আমরা শুধু নমস্কার করে যাবো, এটা কত দিন?

পাবনায় সুচিত্রা সেনের বাড়ি নিয়ে যারা আবেগ ছড়াচ্ছেন, তাদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করব না। কারণ এক নায়িকার শুটিং দেখার জন্য স্কুলজীবনে কাপ্তাই চলে গিয়েছিলাম। নেশা ও আবেগের নৌকা পাহাড় ডিঙাতে পারে। কাসিক্যাল ও রোমান্টিক নায়িকা সুচিত্রা সেন নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি না হয় হয়ে গেল। তবে পাবনায় সুচিত্রা সেনের বাড়িটি এখন একটি বিদ্যানিকেতন। সুচিত্রার পরিবারের সদস্যরা তা দেখে খুশিই হয়েছিলেন।

এ নিয়ে কারো কোনো বিপত্তিও ছিল না। স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা সুচিত্রা সেন ও তার পরিবার কখনো পাবনার বাড়ি নিয়ে কোনো মন্তব্যও করেননি। যারা এখন সুচিত্রা সেনের স্মৃতি লালন করতে চান, তাদের আবেগকে সম্মান করেও বলব, রবিঠাকুরের জমিদারির প্রায় পুরোটা ছিল পূর্ববাংলার দক্ষিণ-উত্তর জনপদে। বেশির ভাগ প্রজা ছিল বাঙালি হতদরিদ্র মুসলমান। তিনি এ জনপদে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেও স্মৃতি ধরে রাখার কথা ভাবেননি। বাংলাদেশের মানুষ তাই বলে রবীন্দ্রনাথকে ছোটও ভাবেন না, অপাঙ্ক্তেয়ও মনে করেন না। এটি বাঙালি মুসলমানের ঔদার্য ও মহত্ত্ব। সুচিত্রা সেন বাঙালি, বাংলাদেশী নন, ভারতীয়। তার জন্য আমাদের শুভকামনা ছিল, আছে, থাকবে। তবে তাকে সম্মান দেখানোর ভান করে রাজনৈতিক চাতুর্য কাম্য নয়। অন্যকে ছোট করাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

অনেকেই ইমাম গাজ্জালীর নাম ও চিন্তা, দর্শন ও লেখার সাথে পরিচিত। তার আসল নাম আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল গাজ্জালী, যিনি পারস্যের বনেদি দার্শনিক। একই সাথে আইনবেত্তা, মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদ ও আধ্যাত্মিক পুরুষ। যার জন্ম ১০৫৮ সালে, মৃত্যু ১১১১ সালে। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঐতিহ্যপ্রিয় কিছু পাবনাবাসী তারই নামে সুচিত্রা সেনের ফেলে যাওয়া বা পরিত্যক্ত বাড়িতে গড়ে তুলেছে একটি ট্রাস্ট। সরকারি নিয়ম মেনেই বিদ্যানিকেতন ও ট্রাস্টটি দাঁড়িয়েছে। এর সাথে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ, মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা, জামায়াত গন্ধ খুঁজতে যাওয়া অর্থহীন। এর সাথে সুচিত্রা সেনের প্রতি বিদ্বেষ ও অসম্মানের কোনো সম্পর্কও নেই। তা ছাড়া বিশ্বে সুচিত্রা সেনের যে প্রভাব ও অবদান, তার চেয়ে কয়েক কোটি গুণ বেশি অবদান রয়েছে ইমাম গাজ্জালির। তার দর্শন ও চিন্তার ফসল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা ও ধর্মমানসকেও নাড়া দিচ্ছে। এটা নন্দিত নায়িকা সুচিত্রা সেনের সাথে তুলনার বিষয় নয়; যার যার অবস্থানে রেখে সম্মান ও মর্যাদা দেয়ার বিষয়।

কেউ যদি সুচিত্রা সেনের ফেলে যাওয়া পৈতৃক বাড়িটি নিয়ে কোনো নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান, তারা করতে পারেনÑ তার জন্য রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানোর দরকার কী? সরকার মধ্যস্থতা করে বাড়িটিতে ট্রাস্ট ও বিদ্যানিকেতনের জন্য রাখা হবে কি না সে ব্যাপারে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে। বহুতল ভবন বানিয়ে সেটাকে বহুমাত্রিক কাজে ব্যবহার করাও সম্ভব। যাতে সব কিছু রক্ষা পায়। গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটিকে গলা টিপে হত্যা করা কিংবা অসংখ্য শিশু-কিশোরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করা সমাধান নয়। যেকোনো পক্ষকে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয়াও সম্ভব। ইমাম গাজ্জালীর নামে প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে কারো বিব্রত হওয়ারও কিছু নেই। ধর্ম নিয়ে নোংরামি, সাম্প্রদায়িক পরিচিতি নিয়ে বিদ্বেষ ছড়িয়ে কাজ কী। যারা ঐতিহ্যপ্রেমী তাদের ঐতিহ্যপ্রীতির মর্যাদা দেয়া সম্ভব, তবে অন্যকে বঞ্চিত করে নয়। আবেগের কারণে সার্বজনীনতার দোহাইয়ের আড়ালে কোনো বিশেষ মহলের মুসলিমবিদ্বেষ কাজ করলে ইতিহাস তাদের কোনো ছাড় দেবে না। তাতে বরং কিংবদন্তিতুল্য অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনকে ছোটই করা হবে।

মাসুদ মজুমদার
digantaeditorial@gmail.com

(নয়া দিগন্ত, ৩০/০১/২০১৪)

Advertisements