দু’বছর আগেও নাস্তিক ছিলেন আমেরিকান শিল্পী জেনিফার গ্রাউট। ‘আরব গট ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতায় গান গেয়ে আরব দুনিয়াকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। গালফ নিউজ অবলম্বনে ফাতিমা ফেরদৌসী তুলে ধরেছেন জেনিফারের ইসলাম গ্রহণের নেপথ্য কাহিনী;

‘আরব গট ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতায় গান গেয়ে আরব দুনিয়াকে মন্ত্রমুগ্ধ করেন আমেরিকান শিল্পী জেনিফার গ্রাউট। একটি আরবী শব্দ না জানলেও গত নভেম্বরের এই প্রতিযোগিতায় বিশুদ্ধ আরবী ভাষায় গান গেয়ে সেরা তিনে স্থান করে নেন ২৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান শিল্পী।

আরব জাহানে আবারো তিনি সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। ইসলাম গ্রহণ করেছেন শিল্পী জেনিফার গ্রাউট। অথচ তিনি ছিলেন নাস্তিক। তার বিশ্বাস ছিল ধর্ম বিশ্বের কোনো উপকারে আসছে না বরং ক্ষতিই করছে।

সম্প্রতি ইউটিউবে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, দুজন লোকের উপস্থিতিতে তিনি কালেমায় তৈয়্যব পাঠ করছেন।

ইসলাম গ্রহণের জন্য কালেমায় তৈয়্যব- আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। মহানবী (সা.) আল্লাহর রাসুল, পাঠ করা অপরিহার্য।

তবে জেনিফার জানান, তিনি মুসলমান হলেও ওই ভিডিওটি ছিল অভিনয়। মরোক্কোর একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়কালে তিনি ওই বাক্য পাঠ করেন।

আর চলচ্চিত্রটিতে তিনি অভিনয় করেন আরব গট ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আগে। অবশেষে সেটাই তার জীবনে সত্য হয়ে ধরা দেয়।

জেনিফার বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী প্রথমে আমি হতাশ হয়েছিলাম এবং ভয় পেয়েছিলাম যে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ তখন পর্যন্ত আমি আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ইসলাম গ্রহণের কথা বলার সুযোগ পাইনি। তবে এখন যেহেতু বিষয়টি প্রচার হয়ে গেছে হয়তো ভালোই হয়েছে। আমি যা বিশ্বাস করি, তাতে মোটেই লজ্জিত নই।’

জেনিফার বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের জন্য আমি মসজিদে যাইনি, কোনো ইমামের শরণাপন্ন হইনি এবং কাগজপত্রেও স্বাক্ষর করিনি। তবে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমি কালেমায়ে তৈয়্যব পাঠ করেছি।’

তিনি জানান, ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর থেকে তিনি ৫ ওয়াক্ত নামায পড়েন এবং ইসলামের বিধান মেনে যাকাত দেন। আগামী রমজানে রোজা রাখবেন তিনি।

জেনিফার বলেন, ‘এসব হচ্ছে (ইসলামের) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি অবশ্যই ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি- কোরআনের অর্থ সম্পর্কে, ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে।’

ক্লাসিকাল সংগীতে ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি থেকে স্মাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন জেনিফার। আরবী ভাষার একটি শব্দ না জানলেও বিশুদ্ধ আরবী ভাষায় আরবের ধ্রুপদি সংগীত গেয়ে তিনি আরব জাহানের সংবাদপত্রের শিরোনামে হয়েছিলেন।

তখন ধারণা করা হয়েছিল, তার পূর্বপুরুষ হয়তো আরব-বংশোদ্ভূত ছিল। তবে তিনি এ ধারণা নাকচ করে দেন।

দু’বছর আগেও নাস্তিক ছিলেন জেনিফার। দেড় বছর আগে মরক্কোর এক সংগীত শিল্পীর প্রেমে পড়েন তিনি। এরপরই বদলে যেতে শুরু করেন জেনিফার।

প্রেমিক সম্পর্কে জেনিফার বলেন, ‘তিনি খুবই সাহসী, নাছোড়বান্দা এবং সহৃদয়। আমি তার প্রশংসা না করে পারি না। ফলে তিনি মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও আমি চাইলাম সম্পর্কটা চালিয়ে যেতে। এর ফলেই আমি ইসলাম সম্পর্কে অন্তত কিছুটা জানতে পারলাম।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টার ফলেই আমার চোখ খুলে গেল এবং হঠাৎ করেই আমার ভেতরে বিস্ময়কর ব্যাপার ঘটে গেল। এমনটি আর আমার জীবনে কখনোই ঘটেনি। এভাবেই (ইসলামের দিকে) আমার পথচলা শুরু হলো।’

বর্তমানে সংগীতশিল্পী স্বামীর সঙ্গে মরক্কোতেই বাস করছেন জেনিফার। তারা দুজনে নিয়মিত বিভিন্ন পার্টি ও বিয়ের অনুষ্ঠানে আরবী সংগীত গাইছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে জেনিফার জানান, ‘তিনি আরব দুনিয়াজুড়ে সংগীত পরিবেশন করতে চান। নিজ দেশ আমেরিকাতেও শুনাতে চান আরবী সংগীত। আরবী সংগীতের পাশাপাশি মরক্কোর বার্বার সংগীতেরও প্রসার ঘটাতে চান তিনি।’

http://www.rtnn.net//newsdetail/detail/10/18/77181#.Uuqn8_mSySo

Advertisements