অভ্যুত্থানের অভিযোগে ১৫০টি ক্ষুধার্ত কুকুর দিয়ে ফুফাকে খাওয়াল উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উন ’৭০-এ বৈধ নির্বাচন দিয়েছিল ‘অবৈধ’ সরকার। অপর দিকে বৈধ সরকারের হাতে ৫ জানুয়ারিতে যে ‘অবৈধ’ সন্তানটি পয়দা হলো, পিতৃত্ব কায়েমে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক লবি চালিয়ে সরকারের পে থাকার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশী জনগণের বিরুদ্ধে এক রকম যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। পাঁচ কোটি ভোট এবং নির্বাচন চুরিতে সব রসদ জুগিয়ে আবারো প্রমাণ করল নিজেদের ভুয়া গণতন্ত্র। গোটা দেশকেই নিñিদ্র ষড়যন্ত্রের চাদরে ঢেকে ফেলেছে বিদেশী অপশক্তি। যে পরিস্থিতিতে এরশাদকে শপথবাক্য পাঠ করতে হলো, একমাত্র পাগল আর অবুঝ ছাড়া এই কাজে কেউ হাত দেবে না। খালেদা ছিনতাই, এরশাদ গুম, নির্বাচন চুরিতে রসদ দিলো বিশেষ গোষ্ঠী। প্রশাসন, ব্যবসায়, মিডিয়া সর্বত্রই এরা। মানবাধিকারের ভাষায়, ভোট চুরির অপরাধ সাংঘাতিক। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা কিন্তু ভারতীয়দের হস্তেেপ বেপরোয়া লীগের নীরবতায় সন্দেহ, বাংলাদেশীরা আদৌ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব-সচেতন কি না! বাংলার আকাশে আজ আধিপত্যবাদের লাখো শকুন। প্রচ্ছন্ন উপনিবেশ কায়েমে ইন্দিরার মহাকৌশল এখন পর্যন্ত অনাবিষ্কৃত।
যে জাতি দেশের নিরাপত্তা বিষয়েও এক হতে পারে না, তাদের রাজনীতিবিদেরা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক। বিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব, আধ্যাত্মিক যে দিকেই তাকাই, হাসিনা-খালেদার ঐকমত্যের চিন্তা হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে চাওয়ার মতোই ভুয়া। ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মতো তাদের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন ব্লকে। ইসরাইলকে সমর্থন করে আমেরিকা আর ভারত করে আওয়ামী লীগকে। বড় শক্তিগুলোর উপনিবেশের হিসাব বোঝার মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কি আমাদের নেই? ঠেলা সামলাও। এটা স্পষ্ট যে, ভারতের কারণেই বিএনপির অবস্থা ফিলিস্তিনের মতো, সার্বভৌমত্ব রার জন্য প্রয়োজনীয় মেরুদণ্ডের হাড় চুরমার করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ষড়যন্ত্রকারীরা ঢুকে পড়েছে রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, সাউথ ব্লকই যেন সর্বেসর্বা। মওদুদরা জেলে, এরশাদ হাসপাতালে, খালেদাকে গৃহবন্দী করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি ‘বাংলাদেশ দখলে’  যেন শিবশংকরদের আরেক নাটক। এই নোংরামি যদি প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশ করত, কী প্রতিক্রিয়া দেখাত ভারতবাসী, আর আমাদের প্রতিক্রিয়া কী! ২৪ বছরের মাথায় পাকিস্তান ভাঙল কিন্তু ভারতীয় চাণক্যচক্রের বিরুদ্ধে কুম্ভকর্ণের ঘুম ৬৩ বছরেও ভাঙল না। 
জেদের ভাত কুত্তাকে দিয়ে খাওয়ানোর জন্য ঝরে গেল প্রায় তিন শতাধিক প্রাণ, ‘জননেত্রী’ এবার খুশি তো! মানুষের সবচেয়ে বড় মৌলিক অধিকারটিও হরণ করা হলো! অথচ ভোটাধিকারের জন্যই কতই না রক্ত দিয়েছিল! এরা সন্ত্রাসী না হলে জীবন বাজি রেখে যারা অবৈধ নির্বাচন ঠেকাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, ড. লুথার কিংয়ের ভাষায়, সন্ত্রাসী নয় তারা। বরং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের হাতে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক জীবন গেছে। এখন আর আইএসআইয়ের ভয় নেই, পারলে ঠেকাও ‘র’। যা ১৯৭১ তাই ২০১৪ না হলে আবারো ভারতের স্বীকৃতি কেন? সেদিন অনড় ইন্দিরাও ১৪টি দেশ সফর করে আন্তর্জাতিক সমর্থনের লবি চালিয়েছিলেন। রাশিয়া ও পোল্যান্ড বাদে খুব কম দেশই পে ছিল। আমেরিকা থেকে চীন, শক্তিশালী দেশগুলোর ৯৯ ভাগই ছিল ভারতের ভূমিকার বিরুদ্ধে। পশ্চিমারা বুঝে ফেলেছিল প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ভাঙাই উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক মহলে ইন্দিরাকে সেদিন কঠোর প্রতিবাদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল বলেই নিক্সন ব্লকের সমন্বয়ে মুক্তিযুদ্ধ এতটা রক্তাক্ত হয়েছিল। তার মানে কি আমি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে? অবশ্যই নই। এর সাথে দুঃখের বিষয়, ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিটিতে প্রথম এক লেজ, পরে অসংখ্য লেজ গজিয়েছে।
স্বাধীনতাকামী একটি জাতি যখনই অনুভব করবে পরাধীনতার শিকল, শুধু তখনই তারা যেকোনো মূল্যে স্বাধীনতাকে ভূমিষ্ঠ করবে। যুগে যুগে এটাই নিয়ম। কিন্তু ’৪৭-এর পরপরই বরং নেহরুই চেয়েছিলেন আরেকটি দেশ বিভাগ। ফলে ’৭১ চাপিয়ে দিলেও সাড়ে সাত কোটি মানুষ তখন পর্যন্ত পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ১০ ভাগও উপলব্ধি করেছিল কি না সন্দেহ। এক বছর আগেই ইন্দিরার নির্দেশে শরণার্থী শিবির এবং রণপ্রস্তুতি কেন? এই ল্েয রাশিয়া থেকে অস্ত্র সরবরাহও ছিল। সজীব বলেছেন, আওয়ামী লীগ জিতবে, তার কাছে খবর আছে, অর্থাৎ বিশেষ সংস্থার সব খবরই তাদের মুখে, এর পরেও বুঝিয়ে বলতে হবে! ২০২১ সাল পর্যন্ত কোথাও যাচ্ছে না বেপরোয়া লীগ, এই খবরও তার জানা। আমাদের সমস্যা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকের অভাব, অন্যথায় সব দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চক্রান্তকেই প্রাধান্য দিত। আদালত পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে বাতিল করল না ভোট চুরির নির্বাচন। এবার আর আইএসআইয়ের ভয় নেই, ‘অসমাপ্ত যুদ্ধ’ শেষ করতে মাঠে ‘র’। 
উমিচাঁদদের হাত ধরে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির মতোই আঁটঘাট বেঁধে ঢুকে পড়েছেন শিব শংকরেরা। তারা আমাদের মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে ভিয়েতনামের মতো শীতল যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সুতরাং যারাই আইএসআই জ্বরে ভুগছেন, খালেদাকে ছেড়ে দিয়ে ‘র-এর চিন্তা করুন, ‘র’ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলে আইএসআই কোনো ব্যাপারই নয়। ভারতীয় পত্রিকার রিপোর্ট, কমনওয়েলথ কোনো পদপে নিলে ভেটো প্রয়োগ করবে ভারত। কেন করবে? ’৭১-এ ‘রাশিয়ার ভেটো’ বাঁচিয়ে দিয়েছিল গান্ধীকে। আর সে জন্যই আত্মসমর্পণের টেবিলে এম এ জি ওসমানীর বদলে অরোরা সিং। অর্থাৎ মূলত এবং প্রধানত ভারতের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তান। ফলে ‘বাঙালি বনাম বাংলাদেশী’ প্রশ্নে আমাদের আত্মপরিচয়ও ফিলিস্তিনের আত্মপরিচয়ের মতো প্রশ্নবিদ্ধ। কথায় কথায় অজুহাত, ভারত সাহায্য না করলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। তারা বলেন না, স্বাধীনতা আমাদের সম্পদ হলে ওসমানীকে বাদ দিয়ে অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ কেন? এরশাদের মতো ওসমানীও কি থিয়েটার রোড থেকে গুম হয়েছিলেন? আত্মসমর্পণের টেবিলে ছোট বেনিয়ার হাতবদল হয়ে আমাদের বড় বেনিয়ার কাছে হস্তান্তর। সেই গল্পের কথাই বলতে হয়, ১২ বছর স্বামী-স্ত্রীর দেখা নেই অথচ স্ত্রীর-সন্তান হবে খুশিতে প্রবাসী মহেশ স্বদেশ যায়। ভারত ঘুরে আসা শাহরিয়ার কবিরের ঘোষণা, ’৭১-এর মতো আবারো পাশে দাঁড়ান। ‘র’ ব্লকে এরাই ভাড়াটে উমিচাঁদ। ভারতের ন্যক্কারজনক ‘বাংলা দখল’ অভিযান পাকিস্তানকেও লজ্জা দেয়। 
ুদ্র একটি গোষ্ঠী হাসিনাকে অন্তর্যামী এবং আমজনতাকে মনে করে রামছাগল। আল্লাহর পরেই হাসিনাকে স্থান দিয়ে ধর্মের শাসন পর্যন্ত বদলে দিলো বেপরোয়া লীগ। জাহেলিয়া যুগের বাকি কী! যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সফল হলো। খুনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং গডফাদার হিসেবে পরিচিত রাজনীতিবিদেরা যে দলে, যে দেশে, সেই দল, সেই দেশে সুশাসনের অভাব হলেও কোনো দিনও সন্ত্রাসীর অভাব হয় না। দৃশ্যত আওয়ামী লীগ এখন সন্ত্রাসীনির্ভর একটি দল, এমন সংগঠন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। 
অথচ অন্যের গলায় ‘সন্ত্রাস’ এবং ‘সংখ্যালঘু’ লকেটটি ঝুলিয়ে দিয়ে কলঙ্কিত বুশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে দিল্লি-ঢাকা। সুজাতা সিংকে বলছি, বাবরি মসজিদ ভাঙা শিবসেনা আর বিজেপি সন্ত্রাসীরা জামায়াতের চেয়ে খারাপ হওয়ার কারণ, বঙ্গবীরের ভাষায়, ৪২ বছর আগে জামায়াত যা বুঝতে পেরেছিল, আমরা বুঝলাম ৪২ বছর পরে। তিনি বলছেন, জামায়াতের যুদ্ধ ছিল ভারতীয় উপনিবেশের বিরুদ্ধে। বাবরি মসজিদ সন্ত্রাসে নেতৃত্বদানকারী বিজেপি আর শিবসেনারা প্রশাসনে থাকলে, কোথায় ‘র’-এর সওদাগর সুজাতা সিং? ক্রিকেট প্রসঙ্গে ঢাকাস্থ শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত বললেন, সন্ত্রাস দেখেননি, তবে দুই নেত্রীর সমস্যা দেখেছেন। বাস্তবে মাইনাস-১ সফল করতেই ‘সন্ত্রাস’ শব্দটিকে আওয়ামী লীগের মুখে রেখে তামাক খাচ্ছে দিল্লি। মুজিব হত্যার কারণও পড়শির দিকে ইঙ্গিত দেয়। তবে এবারের খেলা ভিন্ন। মুজিব হয়তো কোনো কোনো সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিয়েই বিপদ ডেকে আনলেন কিন্তু লেন্দুপ দর্জির সেই মতা থাকে না। যে পর্যন্ত বল্লভ রায়রা থাকবে, তত দিন পর্যন্ত ‘র’-এর এজেন্টরা লেন্দুপ দর্জিদের ছাড়বে না। ’৭৩ জামানায় রক্ষীর অধিনায়কের হাত দিয়েই প্রায় ৩০ হাজার খুন এবং লাখ লাখ হিন্দুকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। বারবারই প্রমাণ করেছে নেতা নয়, বরং বিষাক্ত রাজনৈতিক সর্প এরা।
তাহলে প্রকৃত সন্ত্রাস কী? সন্ত্রাস সেটাই, যারা মতাদর্শের বিরুদ্ধে ‘ভিয়েতনাম যুদ্ধ’ করে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করে। যারা স্বচ্ছ বিচার ছাড়াই ফাঁসিতে ঝোলায়। ভোট সন্ত্রাসি করে যারা মতায় যায়। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস না হলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারা মরছে, ওরা মরত কি? দেখা যাক, সন্ত্রাস নিয়ে ম্যান্ডেলা কী ভাবতেন। হাসিনার সন্ত্রাসতত্ত্ব সত্য হলে ম্যান্ডেলার শান্তিতত্ত্ব ভুয়া। বলছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে সন্ত্রাসের সম্পর্ক। ২৭ বছর জেলে বন্দী রেখে যে যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছিল শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা, তাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণ এবং দায় ছিল বরং ম্যান্ডেলার। অপর দিকে, মুজিব তো ১৯৫ জনকে মা করেও ান্ত হননি, ওআইসি সম্মেলনে গিয়ে খুনিদের সাথে হাত মেলালেন, বিষয়টি কি স্ববিরোধী নয়? জামায়াত যদি সন্ত্রাসী হয়, আওয়ামী লীগও তো তিন দফায় তাদের নিয়েই কখনো রাস্তায়, কখনো সংসদে, স্ববিরোধী নয়? রাজনীতির অষ্টম আশ্চর্য রওশনের কাজ শেষ হলে এরশাদকে প্রাপ্য দণ্ড দেয়া হবে কবে! অন্যথায় ১৫তম সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধান অবমাননার অপরাধে অভিযুক্ত হবে সরকার। (জানলে রাজনীতির দুই বর্জ্য এরশাদকে পেতে ৩০ লাখ কেন, ৩০ ফোঁটাও রক্ত দিতাম না হে স্বাধীনতা।)
বাস্তবে সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই বদলায়। এক ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতির মানুষদের সাথে ৪৩ বছর আগের মতভেদ মিটিয়ে ফেলা পাঁচ মিনিটের ব্যাপার হওয়া সত্ত্বেও ম্যান্ডেলা মডেল বর্জনে বাধ্য করল ভারত। জামায়াতকে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিচ্ছে ভারত। মিসর জ্বলছে, জ্বলছে ইরাক। দিল্লির সেটা মাথাব্যথা নয় বরং চায় জ্বলুক বাংলাদেশ, মরুক মানুষ, রাষ্ট্র মানেই একনেত্রী, তিনিই রাষ্ট্র। তাই জামায়াতের গলায় সন্ত্রাসী শব্দটি ঝুলিয়ে বানরের পিঠা ভাগাভাগির মতো বাংলাদেশ খাচ্ছে বাইরের দেশ। 
তার নাম রাষ্ট্রনায়ক ম্যান্ডেলা। রক্তাক্ত দণি আফ্রিকার মানুষ যখন কিছুতেই সমঝোতা করতে দেবে না, উইনি ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে তারা যখন সশস্ত্র স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে চান, ২৭ বছর কারাবাস শেষে মুক্ত ম্যান্ডেলা মাইকের সামনে বসে উচ্চারণ করলেন সেই কথাগুলো যা তাকে বিশ্বনেতা করেছে। বলেছিলেন, ‘তোমাদের জন্য দীর্ঘ কারাবাস ভোগ করেছি, তোমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাও, আমি তোমাদের সাথে নেই, এভাবে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে গেলে এরপর হত্যার জন্য মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। দণি আফ্রিকার ওপর ওরা যে অন্যায় করেছে, তা মার অযোগ্য হলেও শুধু দেশের স্বার্থে আমি ওদের মা করে দিলাম।’ এরপর বিপরে ১০ শতাংশকে নিয়েই সরকার গঠন করলেন ম্যান্ডেলা। আর দ্বিমত পোষণের জন্য তালাক দিলেন উইনিকে। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, গায়ের রঙ এক কিন্তু সাদা-কালোদের পরস্পর উল্টা। তবে ম্যান্ডেলা মা না করলে সেটাই হতো আজ যা হচ্ছে বাংলাদেশে। তাহলে কী বলব, রাজনীতির প্রশ্নে ম্যান্ডেলার চেয়ে হাসিনাই জ্ঞানী? যদি তাই হয়, তাহলে এখনই সিদ্ধান্ত নিন। কারণ এভাবে আর একদিন এক মুহূর্তও সম্ভব না। সিদ্ধান্তগুলো এ রকম, ৪৩ বছর পর আবারো জেনেভা ক্যাম্প বানিয়ে সেখানে ১০ ভাগ জামায়াত-শিবিরকে রেখে দিন। খালেদাকে আজন্ম কারাগারে পাঠান। মার্কামারা চুড়ি পরিয়ে জোটের কর্মীদের জন্য এমন ব্যবস্থা করুন যেন জীবনেও এরা বিএনপির নাম পর্যন্ত মুখে না আনে। আর যারা নিরপে, ওদের অন্য জগতে প্রেরণ করুন। কেননা নির্যাতন ভোগ করার চেয়ে মৃত্যু ভালো। 
এ টু জেড, অতীতের রীবাহিনীর মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে চেনা মুখ থেকে অচেনা মুখগুলোকে এখন আর আলাদা করা যাচ্ছে না। কিম জং উনের ১৫০টি ুধার্ত কুকুরের মতো না হলেও জলকামান আর বালুর ট্রাকের ‘ভাস্কর্যের’ বুদ্ধি দিয়ে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক মারল দূতাবাসের বুদ্ধিদাতারা। কনসুলেটের ভেতরে গোয়েন্দা দফতর অত্যন্ত বিপজ্জনক। একবার ভাবুন, বিরোধী নেত্রী সুষমা স্বরাজের বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক আর জলকামান রেখে বিরোধী নেতাকে ঘিরে ফেলেছে মনমোহনগং! ভারতবাসীর প্রতিক্রিয়া কী হতো এবং আমাদের প্রতিক্রিয়া কী! ইতিহাস বলে, সে অবস্থায় পাগড়ি কেন, শরীরের চামড়া তুলে নিত। অন্য দিকে এরশাদকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দারুণ গলফ খেলাচ্ছেন। 
৩ 
খালেদাকে বিভ্রান্ত করার জন্য পুঁজিবাদের খেঁকশিয়াল রাষ্ট্রদূতেরাই বেশির ভাগ দায়ী। অন্যথায় সমস্যার সমাধান কোনো ব্যাপারই নয়। ওয়াশিংটন পোস্টের মাত্র একটি কলামেই নিক্সনের পদত্যাগ, অথচ কলাম লিখতে লিখতে কালি শেষ করে ফেললেও শেখ হাসিনার একটি চুলও কেন নড়াতে পারল না বিশ্ব মিডিয়া? এর কারণ, সম্ভাবনাময় বঙ্গোসাগরকেন্দ্রিক দেশটিকে ঘিরে বৃহৎ চারটি বড় রাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থ সংরণ। চাইলে বহু আগেই সমস্যার সমাধান করতে পারতেন বান কি মুন কিন্তু করেননি; বরং আরো সৈন্য নিয়ে ভুল সিগন্যাল দিলেন। জাতিসঙ্ঘের মনের কথা বড়ই রহস্যজনক। এই টার্মে মুন-হাসিনা সম্পর্ক যথেষ্ট কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যেই ২০১৪ সালে জাতিসঙ্ঘে হাসিনার ব্যাপক উপস্থিতির ইঙ্গিত। পাঁচ বছরে বাংলাদেশ কনসুলেট আর জাতিসঙ্ঘের কোষাগারে কত টাকা লেনদেন হলো জানতে চায় মানুষ। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি মানেই ২৪ ঘণ্টার ছাপাখানা, জঙ্গল এবং গুজবে ভরপুর। সদ্য বিগত আমলের পাঁচ বছরের ফাঁকা অর্থনীতির ৭৯ ভাগই পরনির্ভরশীল, বিদেশীরাই খাওয়ায়-পরায়। গার্মেন্ট ও শ্রমশক্তির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় হয়তো সরকার বেশ চাপ অনুভব করবে। আমাদের সৈন্য নিয়ে আফ্রিকার শান্তি রা করে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার ভঙ্গ করছেন কি না বান কি মুন নিজেই ভেবে দেখুন। শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ হাজার নিরীহ নিরস্ত্র গণতন্ত্রকামী মানুষ খুন হয়েছে। পশ্চিমাদের জানা উচিত, এ দেশেও একজন চার্লস টেলর থাকতে পারে। সুতরাং গণহত্যার সাথে জড়িতদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা উচিত জাতিসঙ্ঘের। কৌশলে নিরস্ত্র মানুষগুলোকে উত্তেজিত করে রাস্তায় নামিয়ে ‘তামিল টাইগারদের’ মতো খুন করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটানোর অভিযোগ আসতে পারে। বিশেষ কোনো ব্যক্তি বলে বিচার না করলে মানবতার অমর্যাদা হবে। 
গোপালগঞ্জের কপালতত্ত্ববাদীদের বরফযুগের জ্ঞান দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতি অসম্ভব। কিন্তু শান্তির নোবেল আর বড় বড় ব্যারিস্টারদের দিয়েইবা কী করব? সবই তো আছে, কিন্তু আসলেই ‘কেউ’ কি আছে? এই জাতি হচ্ছে সবচেয়ে নিঃস্ব আর দুর্ভাগা। তা না হলে এরশাদ হাসপাতালে, খালেদা গৃহবন্দী, মওদুদরা কারাগারে… বিশ্ববিখ্যাতদের কেউই ভিকটিমদের সাথে সাাৎ করে নাগরিক দায়িত্বটুকুও পালন করলেন না! সুশীলদের ক্রনিক হায়-হুতাশে মানুষ বিস্মিত। আমাদের বড় সমস্যা, অ্যাক্টিভিজমবোধ শূন্যের কোঠায়। মনুষ্যত্ব বিকাশে ভাতের চেয়ে বেশি প্রয়োজন মানবাধিকার সুরা এবং অধিকারবোধের যুগোপযোগী লালন-পালন, অন্যথায় মৃত্যুই উত্তম। মানবাধিকার রায় যুগে যুগে বহু সংগ্রাম ও রক্তপাত হয়েছে। রুশো বলেছেন, ‘মানুষ মুক্ত হয়েই জন্মায়; কিন্তু জন্মের পরেই তাদের শরীরে শৃঙ্খল।’ পেট্রিক হেনরির সেই বিখ্যাত উক্তিটি, ‘স্বাধীনতা দাও, অন্যথায় মৃত্যু দাও।’ কিন্তু মানবাধিকার চুরি করে যেভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে বর্বর মধ্যযুগীয় ক্রুসেডিরা, তাতে জাতিসঙ্ঘের সায় দেখে মনে হচ্ছে, এদের সনদগুলো বরং আটলান্টিকে ডুবিয়ে দিলেই ভালো। সাঙ্গপাঙ্গদের ঘোষণা, আরো কঠিন হবেন নেত্রী। কেন? শিবশংকরেরা কি ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন? ‘বু্িদ্ধজীবীরা নীরব, মিডিয়াগুলো বিটিভিমার্কা, আমরা এতিমের বাচ্চা, আমাদের কেউ নেই।’ এই দাগে সরকার যা করল, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী ৯৯ ভাগই শাস্তিযোগ্য অপরাধ কি না খতিয়ে না দেখলে মানবাধিকারের এমন পরাজয় হবে, যা ভবিষ্যতের জন্য আরো ভয়াবহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ তৈরিতে নিয়ামক হবে। 
ওবামার বয়স ৫২, তার মতো যোগ্য প্রেসিডেন্টের আরো ২৫ বছর হয়তো মতায় থাকা উচিত। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুই টার্ম শেষে বিদায়। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রায় ওবামাকে মার্কিনিদের প্রয়োজন না হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য বিশেষ কারোর ধারাবাহিকতা কেন? দেশে কি নেতানেত্রীর অভাব! তার মানে কি আমরা সেই ব্যক্তি পেয়ে গেছি যিনি একই সাথে ম্যান্ডেলা ও ওবামাকে অতিক্রম করেছেন! ‘আমিই রাষ্ট্র’ বলে সমালোচিত, রাজা লুই পর্যন্ত মৃত্যুশয্যায় পরাজয় স্বীকার করেছিলেন। শুধু বাংলাদেশে সব ব্যতিক্রম। 
না জেনে বললে, সব বাজে কথা। যুদ্ধ দাঙ্গায় বিধ্বস্ত দুই বাংলার মধ্যে দীর্ঘ উদাম সীমান্তের কুফল বারবারই দেখতে হয়েছে। সুতরাং সংখ্যালঘু ইস্যুতে সুরঞ্জিতমার্কা বাবুদের বলছি, অনেক হয়েছে, এবার চুপ করুন! এই কার্ড খেলার অধিকার কারোই নেই। স্বদেশ-বিদেশ, ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ ও গোত্রে আপদমস্তক সংখ্যালঘু আমি, অর্থাৎ ১%। আমি সেটাই দেখেছি, যা ৯৯ ভাগের চোখ এড়িয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকেই দেখেছিÑ সংখ্যালঘু কার্ড নিয়ে বারবার খেলেছে ভারত, যার ফলাফল ৪২ ভাগ আজ ৯ এবং ভারতীয় সংখ্যালঘুরা বেড়ে অনেক গুণ। ৬৩ বছরেও দিল্লি এমন একটি পলিসি গ্রহণ করেনি যে জন্য এ পারের সংখ্যালঘুরা নিজের ভিটায় থাকতে পারে। বরং বাংলাদেশের বেলায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে সীমান্ত খুলে রেখে দেশত্যাগের মহাবন্দোবস্ত। এরাই যেন লোক আর রাজ্যসভার ভোটের রামছাগল। ৬৩ বছর ধরেই এদের কূটকৌশলে হিন্দুরা বরং মাতৃভূমি ত্যাগে উসকানি পেয়েছে। এসব নোংরা রাজনীতি নিয়ে কখনোই প্রয়োজনীয় সেমিনার বা গবেষণা হয়নি। ৬৩ বছর ধরে লাগাতার হিন্দু মাইগ্রেশনকে উপমহাদেশের অন্যতম মানবিক বিপর্যয় বলে দাবি করল না কোনো সংগঠন। বিষয়টিকে দুই দেশের ইতিহাসবিদদেরই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল। বাবরি মসজিদের ঘটনায় শিবসেনা আর বিজেপি সন্ত্রাসীদের হাতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ খুন হলে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ল এই পারে, ফল কী হলো? অথচ এরাই ভারতীয় রাজনীতির তারকা। ’৯২-তে বোম্বে রায়টের নেতৃত্বে শিবসেনার সন্ত্রাসীরা যা করল, তা কে জানে না? সুতরাং যখন বিএনপিকে কেউ জামায়াত ছাড়তে বলে, উত্তরে আওয়ামী লীগকে হিন্দু ছাড়তে বললে কি বাড়িয়ে বলা হবে? এই দাগে যা হলো, আইনের ভাষায় ‘প্রভোকেটিভ অ্যাক্ট’ অর্থাৎ ইচ্ছা করে যখন কেউ এমন ঘটনা ঘটায় যাতে অন্যের তি হয়, সে জন্য আইনের খাতায় সেই ব্যক্তি ক্রিমিনাল। ১৯৭১ ও ২০১৩ দুইবারই প্রভোকেটিভ অ্যাক্টের জন্য জানমালের বিপুল তি হওয়ায় জড়িত সব পরে বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুরা উচ্চ আদালতে মামলা করতে পারেন। তা ছাড়া অর্পিত সম্পত্তি দখলের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ট্রুথ কমিশনও জরুরি। তা ছাড়া মুজিবের আমলে পুরো গুঁড়িয়ে দেয়া রমনা কালিমন্দিরটি আজ পর্যন্ত পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। দিল্লির উচিত ছিল, সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার আক্রমণের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। তারা জানে হাসিনা-খালেদার বিষয়গুলো সংবেদনশীল এবং বিপজ্জনক। কিন্তু এ দেশকে অঙ্গরাজ্য ভাবা চাণক্যরা তা মানতে নারাজ বলেই দেশ আজ মারাত্মক সঙ্ঘাতমুখী, রায়ট বাধানোর সব রসদ জুগিয়ে এখন মায়াকান্না। মাছের মা এরা, চরিত্র বলতে কিছু নেই। মনমোহনের অবস্থান বাশার আল আসাদের মতো, পুরো অঞ্চলকেই অস্থির করেছেন। চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ, তলে তলে চরম হস্তেেপরও প্রস্তুতি। বাংলাদেশ তো ইতোমধ্যেই বাঘের পেটে। যতবারই ভারত এসব কাণ্ড করেছে ততবারই সংখ্যালঘুদের ভিটা ও কপাল দুটোই পুড়েছে। রোহিঙ্গারাও মুসলমান কিন্তু হাসিনা তাদের ঢুকতে না দিলে হিন্দু বলেই কেন ভারত সীমান্ত খোলা রাখবে? ভারত সংখ্যালঘুদের মঙ্গল চায় না, বরং একটি দলকে মতায় রেখে বাংলাদেশের পাঁজরের ওপর দিয়ে নিজেদের সব সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে চায়। দিল্লি ভালো করেই জানে, দাঙ্গা হাঙ্গামা হলে পুড়ে ছাই হয় বাংলাদেশীরাই। দিল্লি যখন ভুল করে, এ পারের হায়নাগুলো আক্রমণ করে ছাগলগুলোকে। এই দাগে ট্রাম্পকার্ডে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। অথচ মিডিয়ার কাছে ভূরিভূরি প্রমাণ, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের জন্য অধিক দায়ী তারাই। শুধু তাই নয়, সন্তাসীদের জেল থেকে খালাসও দিচ্ছে বেপরোয়া লীগ। পত্রিকায় প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জের সংখ্যালঘু উৎখাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশেষ ক্ষমতাবান পরিবার। মিডিয়ার দেয়া তথ্যমতে বলা যায়, হাতেনাতে ধরা পড়ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, দোষ হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের। আমি বাস্তববাদী মানুষ। বদ প্র্যাক্টিস বন্ধ না করলে হিন্দুরা থাকবে না। তা ছাড়া অর্পিত সম্পত্তির মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে ১০০ বছরের জন্য দাঙ্গা বাধানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করে প্রমাণ করে, সরকার সম্পূর্ণ অসুস্থ। সুতরাং দেশ বাঁচাতে আগে বাইরের ষড়যন্ত্র ঠেকাও। আমাদের সব ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হোক প-বিপ ভুলে বাংলাদেশকে দখলমুক্ত রাখা। ‘অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট’ স্টাইলে যে যার জায়গায় বসে সেটাকেই আন্দোলনের ঘাঁটি করা, যেন এই বাংলায় আর কোনো দিন কোনো মীরজাফর আর পলাশির পুনরাবৃত্তি না হয়। এখন আর ঘুমানোর সময় নেই। ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে মিলিয়ন ম্যান মার্চের বিকল্প নেই। দণি আফ্রিকা, ব্রিটিশ-ভারত, কৃষ্ণাঙ্গদের সিভিল রাইটস আন্দোলনের অনুকরণে হানাদারদের পণ্য বর্জনের বিকল্প নেই। যে পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ভয় হয়, দেশ শাসনের অন্তরালে প্রতিশোধই এজেন্ডা হলে, সর্বনাশের শুরু এটাই। 
দ্রষ্টব্য : লেখাটি অ্যাক্টিভিজমের ভিত্তিতে
মিনা ফারাহImage
নিউ ইয়র্ক প্রবাসী
farahmina@gmail.com
Advertisements